Image description

ফুটবল বিশ্বকাপে রাউন্ড অব ৩২-এ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের পর ফিলিস্তিনের পতাকা উড়িয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয় ও ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশার প্রতিবাদে বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি ও সমর্থন জানাতেই এমনটি করেছিলেন তিনি।

সেই ঘটনার পর ফের ফিলিস্তিনের প্রতি নিজের সমর্থনের কথা জানালেন মিসরের কোচ। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টা স্টেডিয়ামে স্থানীয় সময় সোমবার (৬ জুলাই) সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দলের আসন্ন শেষ ষোলোর ম্যাচ নিয়ে আলোচনা চলার মাঝেই ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে আবেগঘন বক্তব্য দেন হাসান।

তিনি বলেন, ‘বিশ্বের এমন কেউ যদি থাকেন, যিনি ফিলিস্তিনি জনগণের কষ্ট অনুভব করেন না, তাহলে তিনি মানুষ নন—তিনি আরব, ইউরোপীয় কিংবা আমেরিকান যেই হোন না কেন।’

 
 

এ বিষয়ে তিনি চার মিনিটের বেশি সময় কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অনেক সাংবাদিক তাকে করতালি দিয়ে সমর্থন জানান।

 
 

ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে চলমান ‘যুদ্ধবিরতি’র মধ্যেও গাজাজুড়ে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলের যুদ্ধে গাজায় হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

 

গাজার ২০ লাখের বেশি ফিলিস্তিনি, যাদের বেশির ভাগই বাস্তুচ্যুত হয়ে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বসবাস করছেন, তারা চরম অনিশ্চয়তার মুখে রয়েছেন।

শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারে জয়ের পর তিনি কেন ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে নিয়েছিলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে হাসান বলেন, এটি ছিল ‘একেবারেই মানবিক প্রতিক্রিয়া’।

তিনি বলেন, ‘বিশ্বের যেকোনো জায়গায়, এমনকি ইউরোপ বা আমেরিকাতেও যদি কেউ কোনো প্রাণীকে আঘাত করে, আমরা দেখি প্রাণী অধিকার রক্ষায় সবাই সোচ্চার হয় এবং পুরো বিশ্ব প্রতিক্রিয়া জানায়। অথচ একটি ক্ষেপণাস্ত্রের কারণে এক দিনে দুই বা তিন হাজার মানুষের মৃত্যু এখন স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে গেছে।’

ইসরায়েলের হামলার পর বিশ্বজুড়ে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ হয়েছে। স্পেনের লামিনে ইয়ামালের মতো অনেক ক্রীড়াবিদও ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচে লিওনেল মেসি ও দলের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের জবাব দেওয়ার পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদের নিয়েও দীর্ঘ সময় কথা বলেন হাসান।

তিনি বলেন, ‘ধর্মের বিষয় বাদ দিলেও... আমি আরব হওয়ার আগে একজন মানুষ। ফুটবলের মাধ্যমে আমার বার্তা হলো—ফিফার স্লোগানে যেমন একে অপরের প্রতি সম্মানের কথা বলা হয়, তেমনি আমি আশা করি মানুষের বেঁচে থাকার অধিকারের প্রতিও সম্মান দেখানো হবে।’

আর্জেন্টিনাকে হারাতে পারলে মিসর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠবে। হাসান বলেন, ‘আমার স্বপ্নের কোনো সীমা নেই। আমার উচ্চাকাঙ্ক্ষারও কোনো সীমা নেই। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে আমরা সবকিছু করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কোনোভাবেই দুর্বল দল নই। সব দিক থেকেই আমরা বড় একটি দল। আমরা ৭ হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো সভ্যতার প্রতিনিধিত্ব করি।’

মঙ্গলবারের ম্যাচে মিসর ফেভারিট নয়—এ কথা স্বীকার করলেও হাসান জানান, তারা ভীত নয়। তিনি বলেন, ‘আমরা জানি, আমরা বিশ্বকাপজয়ী দলের বিপক্ষে খেলছি এবং লিওনেল মেসির মতো সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়ের মুখোমুখি হচ্ছি। কিন্তু আমরা তাদের ভয় পাই না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই দায়িত্বই আমাদের নিজেদের ওপর এবং মাঠে আমরা কী করতে পারি, সেদিকে মনোযোগী করে তুলছে। মিসর, আরব বিশ্ব এবং আফ্রিকার প্রতি আমাদের দায়িত্ব রয়েছে। আমরা তাদের সবার প্রতিনিধিত্ব করছি।’