ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম বড় হতাশার মুখে পড়েছে জার্মানি। শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে প্যারাগুয়ের কাছে টাইব্রেকারে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
মঙ্গলবারের ম্যাচে প্রথমে হুলিও এনসিসোর গোলে এগিয়ে যায় দক্ষিণ আমেরিকার দল প্যারাগুয়ে। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে সমতাসূচক গোল করেন কাই হাভার্টজ। নির্ধারিত ৯০ মিনিট ১-১ সমতায় শেষ হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
সেখানে জোনাথন তাহের হেডে করা গোলে জার্মানি এগিয়ে গেছে বলেই মনে হচ্ছিল; কিন্তু ঠিক তখনই দেখা দেয় বড় ভিএআর (ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি) বিতর্ক। ভিএআর দেখে রেফারি তাহের গোলটি বাতিল করে দেন। তার সিদ্ধান্ত ছিল, গোল হওয়ার আগে জার্মান ডিফেন্ডার ওয়ালডেমার আন্তন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষককে ফাউল করেছেন।
ভিএআর রেফারিদের পরামর্শেই জানানো হয়, তাহের গোলের আগে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিলকে জার্মানির ওয়ালডেমার আন্তন ফাউল করেছিলেন। এরপর মরক্কোর রেফারি জালাল জায়েদ নিজে মনিটরে গিয়ে ঘটনাটি পর্যালোচনা করেন এবং শেষ পর্যন্ত ফাউলের সিদ্ধান্ত বহাল রেখে গোল বাতিল করেন।
রেফারির এই সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জার্মান শিবির। বিবিসির ধারাভাষ্যকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক অ্যালান শিয়েরারও সিদ্ধান্তটির কঠোর সমালোচনা করেন। তার মতে, এটি ছিল ‘খুবই, খুবই হালকা’ একটি ফাউল, যা প্যারাগুয়ের পক্ষে দেওয়া হয়েছে।
শিয়েরার বলেন, ‘আমার কাছে এটি ফাউল নয়। আমি এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে মোটেও একমত নই।’
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, সংস্পর্শ থাকলেও সেটি ফাউল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত ছিল না, বিশেষ করে যখন পেনাল্টি বক্সে ১৩ জন খেলোয়াড় অবস্থান করছিলেন।
তিনি বলেন, ‘গোলরক্ষক খুব সহজেই মাটিতে পড়ে গেছে। হ্যাঁ, সংস্পর্শ হয়েছে; কিন্তু ফুটবল তো সংস্পর্শের খেলা। ছয় গজের বক্সে ১৩ জন খেলোয়াড় ছিল। আমার কাছে এটা ফাউল নয়। আমি একমত নই। গোলরক্ষক পরিস্থিতিটাকে নিজের পক্ষে কাজে লাগিয়েছে। এটা খুবই, খুবই হালকা ফাউল।’
বিশ্বকাপ ফাইনালের সাবেক সহকারী রেফারি ড্যারেন ক্যানও শিয়েরারের মতের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, এমন পরিস্থিতিতে গোলরক্ষকের পক্ষেও সিদ্ধান্ত দেওয়া হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘এটি খুবই হালকা, তবে গোল বাতিল হওয়ায় আমি অবাক হইনি। এখানে প্রায় কিছুই হয়নি। সম্ভবত গোলরক্ষকের পথ রোধ করার কারণেই সিদ্ধান্তটি এসেছে।’
অতিরিক্ত সময়েও ১-১ সমতা থাকায় ম্যাচের নিষ্পত্তি হয় টাইব্রেকারে। অতীতে টাইব্রেকারে অসাধারণ সাফল্যের কারণে তখনও ফেবারিট ধরা হচ্ছিল জার্মানিকেই। কিন্তু সেখানে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দেয় তারা। কাই হাভার্টজ, নিক ভল্টেমাডে এবং জোনাথন তাহ- তিনজনই পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন। অন্যদিকে প্যারাগুয়েও দুটি পেনাল্টি মিস করলেও শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে নিশ্চিত করে শেষ ষোলোর টিকিট।