দুদিন আগেই পালিত হয়েছে লিওনেল মেসির জন্মদিন। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে তাই ২৪ জুন তারিখটি অত্যন্ত স্পেশাল। মেসির জন্মদিন নিয়ে কত খবরই তো এসেছে গণমাধ্যমে, কিন্তু একই দিনে আর্জেন্টিনা দলের আরও দুই সদস্যের জন্মদিন, সেটা কয়জন জানে?
না, ওই,দুজন কোনো ফুটবলার নন। বরং আড়ালে থেকে কাজ করাই তাদের দায়িত্ব। বিশেষ ওই দিনটিতে আর্জেন্টিনা দলের ক্যাম্পে বাড়তি কেক কাটার ধুম পড়ে। কারণ, একই দিনে জন্ম ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসি এবং দলের প্রধান রাঁধুনি দিয়েগো ইয়াকোভোনে ও অ্যান্তোনিয়া ফারিয়াসের! গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেসির দেওয়া একটি পোস্টের পর এই দুই রন্ধনশিল্পীর নাম আবারও লাইমলাইটে চলে এসেছে, যেখানে মেসি নিজে তাদের সাথে জন্মদিনের আনন্দ ভাগ করে নিয়েছেন।
৪৬ বছর বয়সী অ্যান্তোনিয়া ফারিয়াস গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সাথে যুক্ত আছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা এক আবেগঘন মুহূর্তের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন এই নারী। বিশ্বকাপ জয়ের পর মাঠে মেসি যেভাবে দৌড়ে গিয়ে তাকে পরম মমতায় জড়িয়ে ধরেছিলেন, তা দেখে অনেকেই ভুল করে অ্যান্তোনিয়াকে মেসির মা সেলিয়া ভেবে ভুল করেছিলেন। তবে ভুলটা খুব একটা অমূলকও ছিল না; খেলোয়াড়দের কাছে তিনি একজন খালা কিংবা ‘দ্বিতীয় মা’র মতোই প্রিয়।
আর্জেন্টিনা দলের কাছে অ্যান্তোনিয়া এখন এক ‘লাকি চার্ম’ বা সৌভাগ্যের প্রতীক। ব্রাজিলের মাটিতে কোপা আমেরিকা জয়, ফিনালিসিমা, কাতার বিশ্বকাপ কিংবা ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা—সবখানেই দলের এই ঐতিহাসিক সাফল্যের সারথী ছিলেন তিনি।
অন্যদিকে, ১৯৯৯ সাল থেকে এএফএ-র সাথে থাকা দিয়েগো ইয়াকোভোনে হলেন আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের প্রিয় ‘বার্বিকিউ’ বা ‘আসাডো’র মূল রূপকার। বিশেষ করে গোলরক্ষক দিবু মার্তিনেস এবং ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দিরা ইয়াকোভোনের গ্রিলের ভক্ত।
বাইরের পৃথিবীর কাছে অ্যান্তোনিয়ার কাজটা নিভৃত হলেও দলের অন্দরে তার প্রভাব অপরিসীম। খেলোয়াড়রা যাতে মাঠের খেলায় শতভাগ মনোযোগ দিতে পারেন, ব্যাকস্টেজ থেকে সেই কাজটাই সহজ করে দেন অ্যান্তোনিয়া ও দিয়েগোরা। তবে শুধু পুষ্টিকর খাবারই নয়, তারকাদের আবদার মেটাতেও ওস্তাদ অ্যান্তোনিয়া।
সাবেক আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার সোর্হিও আগুয়েরো কাতার বিশ্বকাপের সময় ড্রেসিংরুমের এক গোপন তথ্য ফাঁস করেছিলেন। তিনি জানান, প্রতিটি ম্যাচ জেতার পর খেলোয়াড়দের এক বিশেষ ট্রিট দেওয়া হয়। আর তা হলো—টমেটো সস ও ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের সাথে অ্যান্তোনিয়ার হাতের স্পেশাল ব্রেডেড ভিল কাটলেট’। আগুয়েরোর ভাষায়, 'ম্যাচ জয়ের পর এই খাবারটা আমাদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা।'
মেসির দলের রান্নাঘরে পেস্ট্রি, টার্টস কিংবা ডেজার্টের মূল দায়িত্ব অ্যান্তোনিয়ার। তার তৈরি হ্যাম অ্যান্ড চিজ টার্ট কিংবা মিলাঁনেসার সুখ্যাতি এখন বুয়েনস এইরেসের এজেইজা ট্রেনিং ক্যাম্পের সীমানা ছাড়িয়ে গেছে।
খেলোয়াড়দের প্রতি এই ভালোবাসার টানেই ২০২৩ সালে আর্জেন্টিনার পাওয়ারচেয়ার ফুটবল দলের বিশ্বকাপ যাত্রার আগেও নিজের হাতে স্পেশাল মিলাঁনেসা রান্না করে খাইয়েছিলেন অ্যান্তোনিয়া। সেদিন আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেছিলেন, 'এই খাবার অত্যন্ত সুস্বাদু এবং আমি আশা করি এটি আমাদের দলকে বিশ্বকাপে লড়াই করার শক্তি জোগাবে।'
আর্জেন্টিনার মাঠের ট্রফি জয়ের পেছনে এই নেপথ্য কারিগরদের ভালোবাসা আর হাতের জাদু যে কতটা বড় টনিক হিসেবে কাজ করে, অ্যান্তোনিয়ার গল্পটাই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।