ব্রাজিলের বিপক্ষে মাঠে নামার আগেই সেলেসাওদের এক হাত দেখে নেওয়ার হুংকার দিয়েছেন হাইতির ফরাসি কোচ সেবাস্তিয়ান মিগনে। অতীতে নেইমারবিহীন ব্রাজিলকে হারানোর সুখকর স্মৃতি স্মরণ করে তিনি জানান, এবারও তেমন কিছুর পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে ইতিহাস গড়তে চায় তাঁর দল।
আগামীকাল বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৬টায় বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে ব্রাজিল ও হাইতি। এই হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে মিগনে স্পষ্ট করে দেন যে, ব্রাজিলের বিপক্ষে ড্র করা বা যেকোনো ইতিবাচক ফল পাওয়াই হবে তাঁদের জন্য এক ঐতিহাসিক অর্জন। একই সাথে তিনি ব্রাজিল দলে তারকা ফরোয়ার্ড নেইমারের না থাকার বিষয়টিকে নিজেদের জন্য একটি বড় ও ইতিবাচক সুযোগ হিসেবে দেখছেন।
হাইতি কোচের এই আত্মবিশ্বাসের মূলে রয়েছে গত বিশ্বকাপের একটি চমৎকার কাকতালীয় ঘটনা। সেবার ক্যামেরুন জাতীয় দলের সহকারী কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন সেবাস্তিয়ান মিগনে। সেই আসরে ক্যামেরুন ১-০ ব্যবধানে ব্রাজিলকে হারিয়ে ফুটবল ইতিহাসে প্রথম জয়ের স্বাদ পেয়েছিল।
সেই ঐতিহাসিক স্মৃতি হাতড়ে মিগনে বলেন, ‘আমি এখানে একটি ভালো লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি। চার বছর আগে আমি ক্যামেরুন দলের দায়িত্বে ছিলাম, তখন নেইমার ব্রাজিলের হয়ে খেলতে পারেনি। আমার ঠিক মনে নেই সেটি কি নিষেধাজ্ঞা নাকি চোটের কারণে ছিল, তবে আমি এবারও একটি ইতিবাচক লক্ষণ দেখছি। আমরা এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে ইতিহাস গড়ার চেষ্টা করব।’
সংবাদ সম্মেলনে কোচ মিগনে তাঁর পুরো বক্তব্যে বেশ কয়েকবার ‘ইতিহাস’ এবং ‘গর্ব’ শব্দ দুটি ব্যবহার করেন। তিনি অকপটে স্বীকার করেন যে লাতিন আমেরিকার পরাশক্তিদের বিরুদ্ধে ম্যাচটি অত্যন্ত কঠিন হবে। তবে কঠিন হলেও তাঁর মূল লক্ষ্য হলো বিশ্বকাপের পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়া এবং দেশের মানুষকে আনন্দ দেওয়া। প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে হাইতি ভালো ফুটবল খেলায় দল নিয়ে তিনি বেশ আশাবাদী।
বিশ্বমঞ্চে নিজেদের মেলে ধরার প্রত্যয় ব্যক্ত করে মিগনে আরও বলেন, ‘দীর্ঘ ৪ বছর পর আমরা আবার বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়েছি। আর আগামীকাল ব্রাজিলের বিরুদ্ধে খেলাটি আমাদের জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হতে যাচ্ছে। এখন আমাদের সেই মানের খেলা উপহার দিতে হবে, কারণ হাইতির সমর্থকরা আমাদের দিকে তাকিয়ে আছেন। আমি আমার খেলোয়াড়দের এই বার্তাই দেব। অতীতের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস নিয়ে আমি বেশি ভাবছি না। আমি শুধু আশা করি, আমরা এমন কিছু করব যাতে হাইতির মানুষ তাদের দল নিয়ে গর্ব করতে পারে। প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে আমরা ভালো ফুটবল খেলেছি। আগামীকালের মঞ্চটি আরও বড় emবং আমাদের যোগ্যতা দেখানোর জন্য এটি একটি চমৎকার সুযোগ।’