Image description

সহ-আয়োজক হিসেবে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নেওয়া কানাডা দলে এখন বিষাদের ছায়া। আজ শুক্রবার জোনাথন ডেভিডের রেকর্ড গড়া হ্যাটট্রিকে কাতারকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে স্বাগতিক দলটি। কিন্তু এই ম্যাচেই ভয়াবহ ফাউলের শিকার হয়ে পা ভেঙে গেছে কানাডার মিডফিল্ডার ইসমায়েল কেনের। এ ঘটনায় গ্যালারিতে নেমে আসে বিষাদের ছায়া, মাঠে শুরু হয় সংঘাত।

ম্যাচের ৫১ মিনিটে ৩-০ গোলে এগিয়ে ছিল কানাডা। ঠিক তখনই কাতার মিডফিল্ডার আসিম মাদিবো পেছন থেকে এক ভয়ংকর ফাউল করে বসেন কোনেকে। মাঠে কোনের ঠিক পাশেই ছিলেন আরেক মিডফিল্ডার স্টিফেন ইউস্তাকিও। খেলা শেষে সেই মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি ওর পা দেখেই বুঝতে পেরেছিলাম কিছু একটা গড়বড় হয়েছে। আমি শুধু মেডিকেল টিমকে দ্রুত মাঠে আসার জন্য চিৎকার করছিলাম। কাতার ফুটবলাররা এটাকে হলুদ কার্ড দেওয়ার দাবি তুলছিল, যা হাস্যকর। ফাউলটা এতই জঘন্য ছিল যে ওখানেই ওর পা ভেঙে যায়।’

এই ফাউলের পর মাঠের ভেতরেই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে তুমুল হাতাহাতি শুরু হয়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে ম্যাচ শেষে ডাগ-আউটে কানাডার কোচ জেসি মার্শ এবং কাতারের কোচ হুলেন লোপেতেগির মধ্যেও চরম উত্তেজনা ছড়ায়। লাল কার্ডে খাড়ায় কাতার শেষ পর্যন্ত ৯ জনের দলে পরিণত হয়।গোল করার পর কোনের জার্সি উঁচিয়ে ধরেন সতীর্থ নাথান সালিবা।ইসমায়েলের আঘাত পাওয়ার দৃশ্য দেখে ডিফেন্ডার অ্যালিস্টেয়ার জনস্টন স্তব্ধ হয়ে যান। ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকার অনুশীলনে সতীর্থ তাজন বুকাননের পা ভেঙে যাওয়ার সেই ভয়াবহ স্মৃতি মনে করে তিনি বলেন, ‘আমি মাঠের অন্য প্রান্তে ছিলাম, কিন্তু বুকাননের চোটের সময় যেমন বুলেটের মতো শব্দ শুনেছিলাম, এবারও ঠিক তেমনটাই মনে হলো। কোনে এমন একটা ছেলে, যে ফুটবলকে পাগলের মতো ভালোবাসে। সারা রাত ও বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল নিয়ে মেতে থাকতে পারে। এমন একটা ছেলের সঙ্গে এই ধরনের অহেতুক ফাউল সত্যিই মেনে নেওয়া যায় না।’

ম্যাচের পর হ্যাটট্রিক হিরো জোনাথন ডেভিডের কণ্ঠেও ছিল না কোনো উদযাপনের আমেজ। ১৯৬৬ সালে স্যার জিওফ হার্স্টের পর প্রথম স্বাগতিক দেশের খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিকের কীর্তি গড়া ডেভিড বলেন, ‘কোনে আমাদের দলের সব। ও আমাদের কতটা প্রিয়, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এই জয়টা ওর জন্যই।’

কোনের এই চোটের পর তরুণ ডিফেন্ডার লাক ডি ফুগারোলেসকে মাঠে সান্ত্বনা দিতে দেখা যায় গোলরক্ষক ম্যাক্সিম ক্রেপোকে। ২০২২ সালে এমএলএস কাপে ঠিক একইভাবে ডান পা ভেঙে যাওয়ার কারণে কাতার বিশ্বকাপ মিস করেছিলেন এই গোলরক্ষক। পুনর্বাসনের দীর্ঘ ও কঠিন পথটা কেমন হয়, তা ক্রেপোর চেয়ে ভালো আর কেউ জানে না। সেই ক্রেপোই এখন দলের সবচেয়ে বড় ভরসা, যিনি গত সপ্তাহে বসনিয়ার বিপক্ষে নিজের বিশ্বকাপ অভিষেক রাঙিয়েছেন।

তরুণ সতীর্থদের উদ্দেশে ক্রেপো বলেন, ‘মুহূর্তটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তবে আমরা ওকে একা ছেড়ে দেব না। আমরা সবাই একই কষ্ট অনুভব করছি। তবে এখন আমাদের একটাই লক্ষ্য—কোনের জন্য আমাদের এই বিশ্বকাপ মিশন সফলভাবে শেষ করতে হবে।’