ওয়ানডে সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দারুণ সাফল্যের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজের শুরুটা ভালো হলো না বাংলাদেশের। চট্টগ্রামে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটিং ব্যর্থতায় ১৩১ রানে অলআউট হয় স্বাগতিকেরা। ছোট লক্ষ্য তাড়ায় মাঝপথে কয়েকটি উইকেট হারালেও শেষ পর্যন্ত ৪ উইকেটে জয় তুলে নেয় অস্ট্রেলিয়া।
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। কিন্তু শুরু থেকেই ইনিংসটি ছন্দ পায়নি। সাইফ হাসান ১৪ বলে ২০ রান করে কিছুটা দ্রুত শুরু দিলেও সেটি বড় ইনিংসে রূপ দিতে পারেননি। তানজিদ হাসান ১০, সৌম্য সরকার ১৭, অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় ৮ ও পারভেজ হোসেন ইমন ১০ রানে ফিরে গেলে বাংলাদেশ দ্রুত চাপে পড়ে।
মাঝের ওভারগুলোতে নিয়মিত উইকেট হারানোই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ক্ষতি করেছে। আব্দুল গাফফার সাকলাইন ১০, শামীম হোসেন ১, রিশাদ হোসেন ৩ ও শরিফুল ইসলাম ৭ রানে আউট হন। শেষ দিকে শেখ মেহেদী হাসান কিছুটা লড়াই করেন। ২২ বলে ৪ চারে অপরাজিত ২৯ রান করেন তিনি। তাঁর ইনিংস না থাকলে বাংলাদেশের সংগ্রহ আরও ছোট হতে পারত। শেষ পর্যন্ত ১৯ ওভারে ১৩১ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।
অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন অ্যাডাম জাম্পা ও জোয়েল ডেভিস। জাম্পা ৪ ওভারে ১৮ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। ডেভিস ৩ ওভারে ১৭ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। ম্যাট রেনশ ৩ ওভারে ২৬ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। স্পেন্সার জনসন ও নিকিল চৌধুরী নেন একটি করে উইকেট।
১৩২ রানের লক্ষ্যে অস্ট্রেলিয়ার শুরুটাও খুব স্বস্তির ছিল না। জশ ইংলিস ৫ ও অধিনায়ক মিচেল মার্শ ১৩ রানে ফিরলে শুরুতেই সুযোগ তৈরি হয় বাংলাদেশের সামনে। শরিফুল ইসলাম ও মুস্তাফিজুর রহমান নতুন বলে উইকেট এনে দেন। তবে সেই চাপ ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ।
অস্ট্রেলিয়ার জয়ের ভিত গড়ে দেন কুপার কনোলি। মাত্র ২৭ বলে ৪ চার ও ৩ ছক্কায় ৪৭ রান করেন তিনি। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অস্ট্রেলিয়ার দিকে নিয়ে যান কনোলি। তাঁকে সঙ্গ দেন টিম ডেভিড, যিনি ১৬ বলে করেন ২০ রান। এরপর ম্যাট রেনশ ও নিকিল চৌধুরী অস্ট্রেলিয়াকে লক্ষ্যের আরও কাছে নিয়ে যান।
বাংলাদেশ মাঝেমধ্যে উইকেট তুলে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিল। কনোলিকে ফেরান আব্দুল গাফফার সাকলাইন, টিম ডেভিডকে আউট করেন মাহেদী হাসান। পরে নিকিল চৌধুরীকে ফেরান রিশাদ হোসেন। শেষ দিকে রেনশকেও ফেরান গাফফার। কিন্তু লক্ষ্য এত ছোট ছিল যে অস্ট্রেলিয়ার ওপর চাপ বড় আকার নেয়নি।
১৮.১ ওভারে রেনশ ফিরলে অস্ট্রেলিয়ার রান ছিল ১২৯/৬। তখনও জয়ের জন্য দরকার ছিল ৩ রান। পরের বলেই চার মেরে ম্যাচ শেষ করেন জেভিয়ার বার্টলেট। ১৮.২ ওভারে ৬ উইকেটে ১৩৩ রান তুলে সিরিজে এগিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া।
বাংলাদেশের জন্য ম্যাচের সবচেয়ে বড় হতাশা ব্যাটিং। ২০ ওভারও খেলতে না পারা, নিয়মিত উইকেট হারানো এবং কোনো ব্যাটারের বড় ইনিংস না পাওয়া—এই তিন কারণেই ম্যাচটা হাতছাড়া হয়। বোলাররা ছোট পুঁজিতেও লড়াইয়ের চেষ্টা করেছেন, কিন্তু ১৩১ রানের লক্ষ্য অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে যথেষ্ট ছিল না।
যাবে।
ফল
বাংলাদেশ ১৩১ অলআউট, ১৯ ওভার
অস্ট্রেলিয়া ১৩৩/৬, ১৮.২ ওভার
অস্ট্রেলিয়া ৪ উইকেটে জয়ী