সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম—ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির। চরমোনাই পীর হিসেবেই সর্বমহলে সুপরিচিত তিনি। সম্প্রতি এশিয়া পোস্টের সঙ্গে দীর্ঘ এক সাক্ষাৎকারে জানা-অজানা বহু প্রসঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রায়হান রাশেদ
এশিয়া পোস্ট: চরমোনাইয়ের মতো একটি বৃহৎ তরিকার পীরের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আমির হিসেবে দলের নেতৃত্বও দিচ্ছেন। কোন ভূমিকায় কাজ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন?
রেজাউল করীম: আমরা মুসলমান—ইসলামের নীতি-আদর্শ ধারণ করেই কাজকর্ম করা আমাদের প্রিয়। এভাবেই চলার চেষ্টা করছি। ইসলাম এমন নীতি-আদর্শ—এমন কোনো জায়গা নেই, যেখানে সুন্দর সমাধান দেয়নি। ইসলামি নীতি-আদর্শই মানুষের দুনিয়া ও আখেরাতে কল্যাণ সুনিশ্চিত করে। ইসলামি নীতি-আদর্শ অনুযায়ী সর্বক্ষেত্রে চলা, সে অনুযায়ী নিজেদের জীবন গঠন করা আমাদের কাছে সবচেয়ে প্রিয়। ইসলামের জন্য দুই জায়গাতে কাজ করতে ভালো লাগে।
এশিয়া পোস্ট: আপনার তরিকার মুরিদ বা অনুসারীর সংখ্যা বিপুল। কিন্তু তারা সবাই আপনার দলকে ভোট দেন না বলেই শোনা যায়। ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ করলেও এর প্রমাণ মেলে। এর কারণ কী? আপনার তরিকার অনুসারী এবং দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে কি তাহলে আদর্শিক ও লক্ষ্যগত তফাত রয়েছে?
রেজাউল করীম: চরমোনাই মুরিদ এবং ইসলামী আন্দোলনের যারা কর্মী রয়েছেন, তারা একটি শরীরের দুটি হাতের মতোই। এরা বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। পার্থক্যটা হলো রাজনৈতিক এবং অরাজনৈতিক—এ দুটি প্ল্যাটফর্ম আব্বাজান রহ. (সৈয়দ ফজলুল হক করীম) তৈরি করে গেছেন। ইসলামকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ক্ষমতায়ন করার যে কাজ করি, প্রতিটি মানুষের জন্য সাধ্যনুযায়ী এ চেষ্টা করা ফরজ। সে হিসেবে এখানে কোনো ভিন্নতা নেই।
২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে ইসলামের পক্ষে একটাই বাক্স ছিল—ইসলামী আন্দোলন। অন্য ইসলামি দলগুলো শরিয়া অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করবে, এটা তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে প্রকাশ করেনি। আমরা জাতির সামনে পরিষ্কারভাবে বলেছি, আল্লাহ আমাদেরকে ক্ষমতায় নিলে ইসলাম বা শরিয়া অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করব। এ অবস্থায় যারা ইসলামের এ বাক্সে হাতপাখা প্রতীকে ভোট দেয়নি, তারা চরমোনাইয়ের মুরিদ, ইসলামী আন্দোলন বা সহযোগী সংগঠনের কর্মী পরিচয় দেওয়ার অধিকার রাখে না।
এশিয়া পোস্ট: ৫ আগস্টের পর ইসলামি দলগুলোকে এক ছাদের নিচে আনতে আপনার উদ্যোগে ১১ দলীয় জোট গঠিত হলো। কিন্তু নির্বাচনের আগ মুহূর্তে আপনিই সেই জোট ছেড়ে গেলেন। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে মতবিরোধের কারণে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। জামায়াতের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলনের আদর্শগত দ্বন্দ্ব মূলত কী নিয়ে?
রেজাউল করীম: কথাটা একটু ব্যতিক্রম। শুরুতে ১১ দলীয় জোট ছিল না। শুরুতে এটি ছিল আট দলীয় সমঝোতা। সমঝোতা আর জোট এক নয়। জোট হয় নেতৃত্বে। সমঝোতা হয় গোলটেবিলে বসে সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়ে বাস্তবায়ন করা। পরবর্তীতে ১১ দলীয় জোট বলে যে পরিচয় দেওয়া হলো—সেখানে এনসিপিসহ অন্যান্য দলকে নিয়ে আসার প্রক্রিয়াটা আট দলীয় সমঝোতায় যারা ছিলাম, তাদের সঙ্গে আগে আলোচনা করা হয়নি। আলোচনা ছাড়াই ভিন্নভাবে তাদেরকে সংযুক্ত করে। তাদেরকে বিভিন্ন ধরনের কমিটমেন্ট দেয়। এরপর তারা ১১ দলীয় জোট হিসেবে রূপরেখা তৈরি করে।
তাদের সঙ্গে আমাদের প্রথম কথা ছিল এটা সমঝোতা থাকবে, জোট থাকবে না। এটা তারা প্রথমে ভেঙে দেয়। তারা ওয়াদা রক্ষা করেনি। এরপর যখন তারা ইসলাম অনুযায়ী দেশ চালাবে না বিষয়টি প্রকাশ করে, তখন তাদের সঙ্গে থাকতে পারি না। কারণ, আমরা তো ইসলামের জন্য রাজনীতি করি। ইসলামি নীতি-আদর্শে দেশ পরিচালনার বিশ্বাস নিয়ে রাজনীতি করি। তাদের সঙ্গ ছেড়ে দেওয়ার এটাই মূল কারণ। এটাই বাস্তবতা।
এশিয়া পোস্ট: জোট ছেড়ে এককভাবে ২৫৭ আসনে প্রার্থী দিয়ে মাত্র একটি আসনে বিজয়ী হয়েছে ইসলামী আন্দোলন। অন্যদিকে জোটে থাকা ছোট দলগুলোও একাধিক আসন পেয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল দেখার পর কখনো মনে হয়েছে জোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল?
রেজাউল করীম: আমাদের ভুল থাকবে কেন? আমরা বলব, আমরাই বিজয়ী হয়েছি। কারণ, আমরা ইসলামি নীতি-আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য ইসলামি রাজনীতি দল হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিই। বলেছিলাম, ইসলামের পক্ষে একটা বাক্স থাকবে। অন্যান্য যারা ইসলামি দল পরিচয় দেওয়ার পরে ইসলাম অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করবে না, ইসলামের পক্ষে বাক্স দেবে না, তখন ইসলামের পক্ষে বাক্স দিতে পারাকেই বিজয় হিসেবে নিয়েছি। আমরা ওয়াদা রক্ষা করতে পেরেছি। ইসলামিক দল হিসেবে দেশে পরিচয় লাভ করতে পেরেছি, এজন্য আমরা সবদিক থেকে খুশি। এটাকে বিজয় হিসেবে লক্ষ্য করেছি।
এশিয়া পোস্ট: জোটের কারণে ইসলামপন্থিদের মধ্যে বেশ আশাবাদ দেখা গিয়েছিল। অনেকের মতে, জোট না ভাঙলে ইসলামি দলগুলোর পক্ষে নাকি সরকার গঠনও সম্ভব ছিল। আপনারও কি তাই মনে হয়? ভবিষ্যতে এমন সুযোগ আর আসবে বলে মনে করেন?
রেজাউল করীম: ১১ দলীয় জোট যেহেতু ইসলাম প্রতিষ্ঠা করবে না, এখানে ইসলাম শব্দ ব্যবহারের আর অর্থ থাকে না। তারা বলেছে, গতানুগতিক আইন অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। এখানে ইসলাম বিজয় হওয়া না-হওয়ার প্রশ্নই তো আসে না। তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে ইসলাম শব্দ, ইসলাম অনুযায়ী দেশ চালাবে, এ ধরনের কমিটমেন্ট দেখিনি। তারা যদি ইসলামের কথা বলে থাকে, তাহলে তারা ধোঁকা দিয়ে ভোট নেওয়ার কৌশল অবলম্বন করেছে। তারা জাতিকে ধোঁকা দিয়েছে, প্রতারণা করেছে।
এশিয়া পোস্ট: যেসব ইসলামপন্থি দল এখনও জামায়াতের সঙ্গে জোটে রয়েছে, তাদের সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?
রেজাউল করীম: তারা তাদের চিন্তা অনুযায়ী আছে। কী কারণে তারা সেখানে আছে, সেটা পরিষ্কার করে বলতে পারব না। জামায়াত যখন সমঝোতার পরিবর্তে জোটের রূপরেখায় বিষয়টি নিয়ে গেল, তখন (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির) মাওলানা মামুনুল হকের অফিসে তাদের সঙ্গে বসেছিলাম। জামায়াতের এ আচরণগুলো তারাও স্বীকার করেছিল, আচরণটা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অমানবিক। আমি বলেছিলাম, তাহলে জামায়াতকে বাদ দিয়ে ইসলামি দলগুলো নিয়ে ইসলামের পক্ষে একটা বাক্স দেওয়ার প্রক্রিয়াটা এগিয়ে নিই। তখন তারা একমত হয়নি। তারা জামায়াতের সঙ্গে রয়ে গেছে। কেন কী কারণে তারা রয়ে গেছে, এটা তারা ভালো বলতে পারবে।
এশিয়া পোস্ট: জামায়াত যদি ভবিষ্যতে নির্বাচনি সমঝোতার প্রস্তাব দেয়, তাহলে কি গ্রহণ করবেন?
রেজাউল করীম: সে পরিবেশ এখন দেখি না। তারা প্রথম অবস্থায় যে কথা বলেছিল, যে কমিটমেন্ট দিয়েছিল, সেটি রক্ষা করেনি। সাংবাদিকরা যখন মামুনুল হক সাহেবের অফিসে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মাদ তাহেরকে প্রশ্ন করেছিল, ‘আপনাদের জোট’। তখন আমি বলেছিলাম, আপনারা জোট বলছেন কেন? আপনারা সমঝোতা বলবেন। তখন তাহের সাহেবেও বলেছিলেন, এটা আমাদের জোট নয়, সমঝোতা।
তাদের কার্যক্রম যদি ইসলাম অনুযায়ী হয়, ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য হয়, তারা যদি মানসিকভাবে ইসলামের জন্য প্রস্তুত হয়, তাহলে অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা দেখব, কাদের সঙ্গে আমাদের চলার পথে এক হওয়া যায়। এটা আগাম বলা যাবে না।
এশিয়া পোস্ট: আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অন্য বিরোধী দলের তুলনায় ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা বেশ নিরাপদে ছিলেন। তৎকালীন সরকারের সঙ্গে কি কোনো দলীয় সমঝোতা হয়েছিল আপনাদের?
রেজাউল করীম: এই কথাটা পুরোপুরি ঠিক নয়। আমাদের কেন্দ্রীয় ছাত্র আন্দোলনের অনেককে তারা অফিস থেকে উঠিয়ে নিয়ে গেছে। অত্যাচার-নির্যাতন করেছে। আন্দোলনের সময় আমার মেজ ভাইয়ের (সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী) পা ভেঙে গিয়েছিল। আমাদের ওপর টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়েছিল। বহু মামলা দিয়েছিল। নির্বাচনের সময় আমার ভাই, দলের নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমের ওপর আঘাত করা হয়েছে। তার মুখ ক্ষত-বিক্ষত হয়ে গিয়েছিল। সারা দেশে আমাদের হাজারও নেতাকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছে। মামলার যন্ত্রণায় পড়েছে। কারাভোগ করেছে। ঘর ছাড়তে হয়েছে। যারা বলে, ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা নিরাপদে ছিল, তাদের কথা অমূলক ও অবাস্তব।
এশিয়া পোস্ট: অভিযোগ আছে, ২০২১ সালে মোদির সফরবিরোধী আন্দোলনে প্রথমে ডাক দিয়ে পরে ইসলামী আন্দোলন সরে যায়?
রেজাউল করীম: আন্তর্জাতিকভাবে যে কোনো দেশের মেহমান আমাদের দেশে আসতেই পারেন। সেদিক বিবেচনায় আমরা চিন্তা করে দেখলাম, সরকারের যে অবস্থা, আমরা যদি এর প্রতিবাদে জোরালো পরিবেশ তৈরি করি, এতে রাষ্ট্রের উপকারের চেয়ে ক্ষতিটা বেশি হবে। এদিক বিবেচনায় প্রতিবাদ করেছি। সাধ্যমতো বিভিন্ন প্রোগ্রাম দিয়ে সেটা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছি।
এশিয়া পোস্ট: দলের সিদ্ধান্ত আপনি একাই নেন বলে সমালোচনা রয়েছে। ইসলামী আন্দোলনের মতো বড় একটি দলের জন্য কি একক নেতৃত্ব কার্যকর?
রেজাউল করীম: এ কথাটা অমূলক এবং অবাস্তব। এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। একটা স্বার্থান্বেষী মহল ইসলামী আন্দোলনকে বিতর্কিত করার জন্য হয়তো এ ধরনের শব্দ ব্যবহার করে থাকে। দেশে আমাদের বিষয়ে অনেক মিথ্যাচার করা হয়। যা অবাস্তব। দিনকে রাত বানানো হয়, রাতকে দিন। ‘ইসলাম’ নামেও এক শ্রেণি এরকম কাজ করছে। আগেও করছে। বর্তমানেও করছে। ভবিষ্যতে করবে না—সেটা নিশ্চিয়তা দেওয়া যায় না।
ইসলামী আন্দোলনে কেন্দ্রীয় ফোরাম রয়েছে, মজলিসে আমেলা ও শুরা রয়েছে। প্রেসিডিয়াম সদস্য রয়েছে। আল্লাহর রহমতে পরামর্শের ভিত্তিতে সব সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকি। সেভাবে কার্যক্রম চলছে। একক সিদ্ধান্তে ইসলামী আন্দোলন পরিচালিত হয় না।
এশিয়া পোস্ট: আপনার বাবার পর উত্তরাধিকার সূত্রে আপনি ইসলামী আন্দোলনের আমিরের দায়িত্ব পেলেন। আপনাদের পরিবারের বাইরের কারও এই পদে আসার সুযোগ রয়েছে? আপনার দলে আমির নির্বাচনের পদ্ধতি কী?
রেজাউল করীম: ইসলামী আন্দোলনে মজলিসে শুরা সর্বোচ্চ ফোরাম। সেখানে আলোচনা-পরামর্শের ভিত্তিতে আমির নির্ধারণ করা হয়। প্রতি সেশনে এ ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হয়। পরামর্শের ভিত্তিতে পরিবারের বাইরের কেউ দলের আমির হতে পারবে।
এশিয়া পোস্ট: শরিয়া আইন বাস্তবায়নের কথা বললেও এর সুনির্দিষ্ট রূপরেখা এখনও জাতির সামনে উপস্থাপন করেননি কেন?
রেজাউল করীম: বিশেষ করে নির্বাচনের ইশতেহারের মধ্যে আমাদের চিন্তা-ভাবনা এবং ইসলাম অনুযায়ী কীভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করব এর চিত্র জাতির সামনে তুলে ধরেছি। জাতিকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি, এই নীতি-আদর্শ অনুযায়ী চললে দুনিয়াতে কল্যাণ আসবে। আখেরাতে মুক্তি আসবে।
এশিয়া পোস্ট: সংখ্যালঘু ও অন্য ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা ও অধিকার প্রশ্নে আপনার দলের অবস্থান কী?
রেজাউল করীম: ইসলাম অন্যান্য সংখ্যালঘু এবং বিজাতিদের বিষয়ে জীবন ও সম্পদের যে নিরাপত্তা দিয়েছে, এটাই আমাদের অবস্থান ও চিন্তা। সেখানে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের জীবন-সম্পদের নিরাপত্তার গুরুত্ব তোমাদের কাছে যেভাবে, ইসলামি রাষ্ট্র পরিচালনায় যারা থাকবে, তাদের কাছে বিজাতিদের জীবন-সম্পদের নিরাপত্তাও ওইভাবে গুরুত্বপূর্ণ।’
আমাদের দেশে মায়ের কোলে সন্তান যেমন নিরাপদ, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তারাও তেমনি নিরাপদ। ভারতে মুসলমানরা সংখ্যালঘু, সেখানে তাদের ওপর জুলুম, নির্যাতন করা হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা খুব নিরাপদেই আছে।
এশিয়া পোস্ট: নারীর মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে আপনার দলের অবস্থান কী?
রেজাউল করীম: নারীরা তাদের মর্যাদা নিয়ে থাকবে। আমরা যেহেতু ইসলামি নীতি-আদর্শ লালন করি, ইসলামি নীতি-আদর্শ যে পর্যন্ত আমাদেরকে—যাকে যেভাবে রাখতে বলেছে, মর্যাদা দিয়েছে, আমরা ওই পরিবেশকেই লালন এবং ধারণ করি। স্বাধীনতা এবং অধিকারের নামে অসামাজিক কার্যক্রম, অসুন্দর পরিবেশ তৈরি হওয়া কোনো ধর্ম, নীতি-আদর্শের ভেতরে নেই।
ইসলাম নারীর সর্বোচ্চ মর্যাদা নিশ্চিত করেছে। আমরাও নারীদের সেভাবে মর্যাদা দিই। তাদের অধিকারে সচেতন আছি। দেশের বেশির ভাগ নারীরা কিন্তু ইসলামের বাক্সে ভোট দেয়। তারা আলোচনা-পর্যালোচনার পর দেখেছে, ইসলামেই তাদের স্বাধীনতা ও নিশ্চিয়তা বিদ্যমান রয়েছে। অন্য নীতি-আদর্শে মুখরোচক কথা বলে ঠিকই, কিন্তু আমাদেরকে বিভিন্ন স্বার্থে ব্যবহার করে।
এশিয়া পোস্ট: বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে। এই সরকারের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলনের সম্পর্ক কেমন হবে—সমর্থন, বিরোধিতা, নাকি নিরপেক্ষ অবস্থান?
রেজাউল করীম: সরকার ন্যায়ের পক্ষে কার্যক্রম পরিচালনা করলে সরকারের পক্ষে থাকব। ন্যায়ের বিরুদ্ধে, দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে, জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে যখন কোনো কার্যক্রম তারা পরিচালনা করবে, তখনই তাদের বিরোধিতাই থাকব।
এশিয়া পোস্ট: শেখ হাসিনার পতনের পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। এই সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন?
রেজাউল করীম: বারবার বলেছি, পাশের রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে আচরণ থাকবে বন্ধুত্বসুলভ। সেখানে ভারতের অনেক কার্যক্রমে আমরা বন্ধুত্বসুলভ আচরণের পরিবর্তে বৈরিতা—এক কথায় বলব, জুলুমের বিভিন্ন চিত্র দেখেছি। পাশের রাষ্ট্র হিসেবে ভারতকে বলব, আমাদের সঙ্গে বন্ধুত্বসুলভ আচরণের চিন্তা ও মানসিকতা তৈরি করুন।
এশিয়া পোস্ট: ভারতে মুসলিম নির্যাতনের প্রতিবাদে আপনার দল সোচ্চার। কিন্তু কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখে এই অবস্থান নেওয়া কতটা বাস্তবসম্মত?
রেজাউল করীম: আমরা সবদিক থেকেই চেষ্টা করছি। কূটনৈতিকভাবেও করছি। রাস্তায় প্রতিবাদও করছি। সবদিক থেকেই আমাদের সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করছি। কখন কীভাবে হলে একটা সুন্দর পরিবেশ হবে সেটি চিন্তা করছি। পরামর্শ করছি।
এশিয়া পোস্ট: ইসলামপন্থি প্রায় সব দলের নেতারা হেফাজতে ইসলামের পদে আছেন, কিন্তু ইসলামী আন্দোলনের নেতারা নেই। কারণ কী?
রেজাউল করীম: হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে নেই, বিষয়টি এমন নয়। হেফাজতের সঙ্গে বিভিন্ন দিক থেকে সহযোগিতা, সম্পৃক্ততা ছিল, এখনও আছে। তবে হেফাজত যতক্ষণ পর্যন্ত ইসলামকে হেফাজত করার জন্য কার্যক্রম পরিচালনা করবে, প্রতিটা কাজেই তাদের প্রতি আমাদের সহযোগিতা থাকবে। আমাদের আন্তরিকতা থাকবে। হেফাজতে ইসলামের নামে যখন অনৈতিকতা বা বিভিন্ন ধরনের মন্দ আচরণ দেখব, তখন এর বিষয়ে আলোচনা-সমালোচনা করব।