বিশ্বকাপের মঞ্চে শক্তিশালী স্পেনের বিপক্ষে রূপকথার এক ড্র এনে দিয়ে রাতারাতি ফুটবল বিশ্বের নজর কেড়েছেন কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনহা। দুর্দান্ত সব সেভে দলকে ঐতিহাসিক ১ পয়েন্ট এনে দেওয়ার পর ম্যাচসেরার পুরস্কার হাতে নিয়ে তিনি কেঁদেছিলেন। তবে সেই কান্না আনন্দের ছিল না, ছিল একরাশ আক্ষেপের। ম্যাচ শেষে ভোজিনহা জানিয়েছিলেন, টাকার অভাবে তার মা গ্যালারিতে বসে ছেলের এই অবিস্মরণীয় মুহূর্তটি দেখতে পারেননি।
মাঠের সেই আবেগঘন আকুতি এবার ছুঁয়ে গেছে খোদ ফিফা ও আন্তর্জাতিক মহলকে। অবশেষে সত্যি হতে চলেছে ভোজিনহার সেই আজন্ম স্বপ্ন। স্প্যানিশ ফুটবল সংবাদমাধ্যম ‘মার্কা’ জানিয়েছে, ভোজিনহার মায়ের ভিসা প্রক্রিয়া এরই মধ্যে শুরু হয়েছে এবং খুব শিগগিরই তিনি ছেলের খেলা দেখতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ধরবেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে নিজ দেশের এক সাধারণ পরিবেশে বসে ভোজিনহার মা প্রয়োজনীয় নথিপত্র গোছানোর কাজ করছেন। ভিডিওটি প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে অন্যরকম এক আবেগের সৃষ্টি হয়েছে।
স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচের পর অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে ভোজিনহা বলেছিলেন, ‘ম্যাচটা শেষ হওয়ার পর আমি নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি। ছোটবেলা থেকে দাদা-দাদির কাছে বড় হয়েছি। অথচ জীবনের সবচেয়ে বড় এই মুহূর্তে তারা আমার পাশে নেই। কয়েক বছর আগেই তারা মারা গেছেন। সবচেয়ে বড় কষ্ট হলো, আমার মাও আজ গ্যালারিতে থাকতে পারেননি শুধু ভিসা জটিলতা আর টাকার অভাবে। সময়মতো সব গুছিয়ে উঠতে পারিনি।’
ভোজিনহার এই পারিবারিক গল্পটি মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। বিশ্ব জুড়ে কোটি সমর্থক, সাংবাদিক ও ফুটবলাররা তার মায়ের ভিসা নিশ্চিত করার দাবিতে সরব হন। এর প্রভাব পড়েছে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও। বিশ্বকাপ শুরুর আগে ইনস্টাগ্রামে যেখানে এই গোলরক্ষকের অনুসারী ছিল মাত্র ৫০ হাজার, স্পেনের বিপক্ষে বীরত্ব এবং মায়ের সেই আবেগঘন কাহিনির পর মাত্র দুদিনে তা অবিশ্বাস্যভাবে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৬ লাখে!
মাঠে প্রতিটি অ্যাথলেটের সাফল্যের পেছনে লুকিয়ে থাকে পরিবারের ত্যাগ ও সাধনা। কেপ ভার্দে যখন বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে নিজেদের টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে ব্যস্ত, তখন কোটি ফুটবলপ্রেমী এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন আরও একটি পরম মুহূর্তের জন্য— যখন গ্যালারিতে বসে ভোজিনহার মা বুকভরা গর্ব নিয়ে নিজের ছেলেকে দেশের হয়ে লড়তে দেখবেন।