Image description

মরক্কোর বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের একাদশে চমক রেখেছেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। সপ্তাহজুড়ে অনুশীলনে যে দলটির ইঙ্গিত মিলছিল, শেষ মুহূর্তে সেখান থেকে সরে এসেছেন ব্রাজিল কোচ। শুরু থেকেই খেলবেন তিন নতুন মুখ ইবানিয়েজ, ডগলাস সান্তোস ও ইগর থিয়াগো।

নিউ জার্সির নিউইয়র্ক/নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রোববার ভোর ৪টায় মরক্কোর বিপক্ষে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ব্রাজিল। ম্যাচের আগে ঘোষিত একাদশে দেখা গেছে, দানিলো ও অ্যালেক্স সান্দ্রোকে বাইরে রেখে রক্ষণে ইবানিয়েজ ও ডগলাস সান্তোসকে বেছে নিয়েছেন আনচেলত্তি। আক্রমণে মাতেউস কুনিয়ার জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন ব্রেন্টফোর্ড স্ট্রাইকার ইগর থিয়াগো।

আনচেলত্তির এই সিদ্ধান্ত ব্রাজিল শিবিরের ভেতরেও কিছুটা বিস্ময় তৈরি করেছে। কারণ প্রস্তুতি সপ্তাহে বেশির ভাগ সময় দেখা গিয়েছিল দানিলো, মারকিনিয়োস, গ্যাব্রিয়েল মাগালিয়াইস ও অ্যালেক্স সান্দ্রোকে নিয়ে রক্ষণভাগ। আক্রমণে ইঙ্গিত ছিল মাতেউস কুনিয়ার দিকে। তবে ম্যাচের দিন খেলোয়াড়দের জানানো হয়, শুরুতে নামবেন ইগর থিয়াগো।

রক্ষণে পরিবর্তনের পেছনে ওয়েসলির চোটও বড় কারণ। মিসরের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে চোট পাওয়ার পর তিনি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যান। দলে স্বাভাবিক রাইটব্যাকের ঘাটতি তৈরি হওয়ায় আনচেলত্তিকে বিকল্প ভাবতে হয়েছে। সেই জায়গাতেই ইবানিয়েজকে ব্যবহার করছেন তিনি। স্বাভাবিকভাবে সেন্টারব্যাক হলেও ডান দিক সামলানোর দায়িত্ব পাচ্ছেন আল আহলির এই ডিফেন্ডার।

বাম পাশে অ্যালেক্স সান্দ্রোর পরিবর্তে রাখা হয়েছে ডগলাস সান্তোসকে। রক্ষণে তাঁর স্থিরতা, বল ধরে খেলা এবং বিল্ডআপে অংশ নেওয়ার ক্ষমতা আনচেলত্তির পরিকল্পনায় ভূমিকা রাখতে পারে। মরক্কোর দ্রুত পাল্টা আক্রমণ সামলাতে ব্রাজিল কোচ হয়তো বাড়তি রক্ষণ-নিরাপত্তাকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

সবচেয়ে বড় চমক আক্রমণে। মাতেউস কুনিয়ার বদলে শুরুতে ইগর থিয়াগো। ২৪ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার গত মৌসুমে ব্রেন্টফোর্ডের হয়ে দারুণ ছন্দে ছিলেন। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ২২ গোল করে তিনি ছিলেন মৌসুমের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা, সামনে ছিলেন শুধু আর্লিং হালান্ড। উচ্চতা, শারীরিক শক্তি এবং বক্সের ভেতর উপস্থিতির কারণে মরক্কোর রক্ষণকে চাপে রাখার পরিকল্পনাতেই তাঁকে বেছে নিয়েছেন আনচেলত্তি।

জাতীয় দলের হয়ে ইগর থিয়াগোর অভিজ্ঞতা খুব বেশি নয়। ব্রাজিলের জার্সিতে অল্প কয়েক ম্যাচ খেলেই তিনি বিশ্বকাপের একাদশে জায়গা পেলেন। কিন্তু ক্লাব ফুটবলের সাম্প্রতিক ফর্ম তাঁকে বড় মঞ্চে সুযোগ এনে দিয়েছে। নেইমার না থাকায় ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রাফিনিয়ার পাশে একজন প্রকৃত নম্বর নাইন চেয়েছেন আনচেলত্তি।

এই একাদশ অনেকটা মিসরের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচের শুরুর দলের মতো। পার্থক্য হলো, চোটে ছিটকে যাওয়া ওয়েসলির জায়গায় রক্ষণে গ্যাব্রিয়েল মাগালিয়াইস ফিরেছেন, আর ইবানিয়েজ সরে যাচ্ছেন ডান পাশের ভূমিকায়। ফলে রক্ষণে ব্রাজিলের কাঠামো কাগজে-কলমে চারজনের হলেও ম্যাচের ভেতর সেটি ভিন্নভাবে রূপ নিতে পারে।

মাঝমাঠে বড় পরিবর্তন নেই। কাসেমিরো ও ব্রুনো গিমারায়েসের ওপর থাকবে ভারসাম্য ধরে রাখার দায়িত্ব। তাঁদের সামনে লুকাস পাকেতা সামলাবেন সৃজনশীলতার জায়গা। দুই পাশে রাফিনিয়া ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। এই দুই উইঙ্গারের গতি, ড্রিবলিং ও ওয়ান-অন-ওয়ান সামর্থ্যই মরক্কোর রক্ষণ ভাঙার বড় অস্ত্র।

ব্রাজিলের সামনে প্রতিপক্ষও সহজ নয়। ২০২২ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়া মরক্কো এখন আর চমকের দল নয়। তারা বড় দলের বিপক্ষে অপেক্ষা করতে জানে, জায়গা বন্ধ করতে জানে এবং সুযোগ পেলে দ্রুত আঘাত করতে জানে। তাই শুরুতেই ঝুঁকি কমিয়ে, শারীরিকভাবে শক্তিশালী একাদশ নিয়েই মাঠে নামছে ব্রাজিল।

নেইমার এই ম্যাচে খেলছেন না। তাঁর অনুপস্থিতিতে ব্রাজিলের আক্রমণে নজর থাকবে ভিনিসিয়ুস, রাফিনিয়া ও ইগর থিয়াগোর ওপর। আনচেলত্তির প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচেই তাই প্রশ্ন একটাই—শেষ মুহূর্তের এই চমক কি ব্রাজিলকে প্রত্যাশিত শুরু এনে দিতে পারবে?

ব্রাজিলের একাদশ

আলিসন; ইবানিয়েজ, মারকিনিয়োস, গ্যাব্রিয়েল মাগালিয়াইস, ডগলাস সান্তোস; কাসেমিরো, ব্রুনো গিমারায়েস, লুকাস পাকেতা; রাফিনিয়া, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, ইগর থিয়াগো।