Image description

আসন্ন বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচের মাত্র ১০ দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসা পেয়েছেন ইরানের ফুটবলাররা। তবে ভিসা পায়নি বিশ্বকাপ দলের মূল ব্যবস্থাপক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।

ইরান ফুটবল ফেডারেশনের অভিযোগ, তাদের বিশ্বকাপ দলের মূল ব্যবস্থাপক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ ‘প্রতিশোধমূলক আচরণ’ বলে নিন্দা জানিয়েছে তেহরান। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার দ্বারস্থ হওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে তারা।

 

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাত দিয়ে ইএসপিএন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস ও সিয়াটেলে ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে ইরানি ফুটবল দলের। কিন্তু সেখানে যাওয়ার আগে দলের ১৪ জন কর্মী ও কর্মকর্তার ভিসা আটকে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন।

 

ভিসা না পাওয়া কর্মকর্তাদের তালিকায় রয়েছেন, ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল হেদায়েত মোমবেইনি এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট মেহদি মোহাম্মদ নবি। তবে ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট মেহদি তাজের ভিসা হয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

 

ফেডারেশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাদের কর্মকর্তাদের ভিসা না দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত কার্যত ইরানি জাতীয় দলকে বৈষম্যহীন প্রতিযোগিতার পরিবেশ এবং সমান সুযোগ পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে।

 

মূলত ইরান যুদ্ধের কারণে এবার দলটির বিশ্বকাপ যাত্রা নানামুখী জটিলতায় পড়েছে। চলতি মাসের ১৫, ২১ ও ২৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রে গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচ খেলবে ইরান। সেই লক্ষ্যে গত শনিবার তুরস্ক থেকে মেক্সিকোর উদ্দেশে রওনা দিয়েছে দলটি।

 

ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, ভিসা না পাওয়া কর্মকর্তারাও আপাতত মেক্সিকোতে যাচ্ছেন এবং সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হবে। এর আগে ভিসা সংক্রান্ত ঝামেলার কারণেই অ্যারিজোনার টুকসন থেকে নিজেদের মূল প্রশিক্ষণ শিবির সরিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া সীমান্তের মেক্সিকান শহর টিজুয়ানাতে নিতে বাধ্য হয় ইরান।

 

এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের কূটনীতিকদের মধ্যে কথার লড়াই দেখা গেছে। আঙ্কারায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত টম বারাক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানি দলের ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত করার জন্য নিজ দূতাবাসের কর্মীদের ধন্যবাদ জানান। এর জবাবে আঙ্কারার ইরানি দূতাবাস এক পোস্টে লেখেন, ফিফার নিয়ম লঙ্ঘন ও স্বাগতিক দেশ হিসেবে নিজেদের দায়িত্ব ভঙ্গের মতো অপরাধকে কেবল নিজেদের পিঠ চাপড়ে ধামাচাপা দেওয়া যায় না। এটি খেলাধুলার মাঝে রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট হস্তক্ষেপের নিকৃষ্টতম উদাহরণ।

তবে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন পুরো বিষয়টি ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মার্কিন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে জানিয়েছেন, ইরানের সব খেলোয়াড়ের ভিসা অনুমোদন করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা এপি জানায়, খেলোয়াড়, কোচ আমির ঘালেনোই, ট্রেইনার ও কিছু সহায়ক কর্মীর ভিসা দেওয়া হলেও, কিছু কর্মকর্তা ‘ভুয়া তথ্য ও মিথ্যা অজুহাতে’ আবেদন করায় তাদের ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

 

এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হাউস কমিটির এক শুনানিতে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কোনো সদস্য ছদ্মবেশে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকছে কি না, তা তারা কঠোরভাবে নজরদারি করছেন।

 

তিনি বলেন, ‘ক্রীড়াবিদ বা আসল কোচিং স্টাফদের নিয়ে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু আমরা কোনোভাবেই খেলাধুলার আড়ালে কোনো ব্যক্তির আইআরজিসির সঙ্গে সংযোগ রয়েছে এমন ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে দেব না। এই বিষয়ে আমাদের নজরদারি অত্যন্ত কঠোর থাকবে।’

 

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচের মাত্র ১০ দিন আগে গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসা পেয়েছেন ইরানের ফুটবলাররা। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

 

২০২৬ বিশ্বকাপে ইরান খেলছে গ্রুপ জি-তে। ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের পর একই শহরে ২১ জুন বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে তারা। এরপর ২৬ জুন সিয়াটলে মিসরের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ খেলবে ইরান।