ফিফা বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণার ঠিক আগমুহূর্তে অবিশ্বাস্য এক রেফারিং ভুলে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে ব্রাজিলিয়ান ক্লাব সান্তোসের ম্যাচ। সেই ঘটনার শিকার খোদ ব্রাজিলের পোস্টারবয় নেইমার জুনিয়র। এমন চরম বিশৃঙ্খলার রাতে করিতিবার কাছে ৩-০ গোল ব্যবধানে বিধ্বস্ত হয় নেইমারের দল সান্তোস।, আর পুরো ঘটনা ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।
ম্যাচের একপর্যায়ে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য সাময়িকভাবে মাঠের বাইরে যান নেইমার। এ সময় কৌশলগত পরিবর্তন হিসেবে রবিনহো জুনিয়রকে নামানোর প্রস্তুতি নেয় সান্তোসের কোচিং স্টাফ। কিন্তু সেখানেই ঘটে অবাক করা মারাত্মক ভুল। ফোর্থ রেফারি বদলির ইলেকট্রনিক বোর্ডে সান্তোসের ৩১ নম্বর ডিফেন্ডারের পরিবর্তে ভুল করে দেখান নেইমারের বিখ্যাত ১০ নম্বর জার্সি। টাচলাইনের এই বিভ্রান্তির বিষয়টি বুঝতে না পেরে মাঠে নেমে পড়েন রবিনহো জুনিয়র। রেফারিং নিয়ম অনুযায়ী, মাঠে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গেই বদলি কার্যকর হয়ে যায়।
এদিকে সাইডলাইনে চিকিৎসা নিতে থাকা নেইমার জানতেই পারেননি যে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বদলি করা হয়েছে। কিছুক্ষণ পর মাঠে ফিরতে গেলে রেফারিং দল তাকে বাধা দেন। জানানো হয়, বদলি ইতিমধ্যে নিশ্চিত হয়েছে এবং সেটি আর পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন অনুমতি ছাড়া মাঠে ঢোকার চেষ্টা করায় নেইমারকে হলুদ কার্ড দেখান ম্যাচ রেফারি।
ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়াও জানান, ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা এই ফরোয়ার্ড। নিজের অবস্থান প্রমাণ করতে ফোর্থ রেফারির হাত থেকে অফিসিয়াল বদলির কাগজ নিয়ে সরাসরি টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে তুলে ধরেন তিনি। সেখানে স্পষ্টভাবে দেখা যায়, কোচিং স্টাফ আসলে ৩১ নম্বর খেলোয়াড়কে তুলে নেওয়ার অনুরোধ করেছিল, নেইমারকে নয়।
টেলিভিশনের লাইভ সম্প্রচারে সেই প্রমাণ দেখানো হলেও নিজেদের সিদ্ধান্ত বদলাতে রাজি হননি ম্যাচ কর্মকর্তারা। ফলে ক্ষুব্ধ নেইমারকে বাকি সময় বেঞ্চে বসেই দেখতে হয় সান্তোসের বড় ব্যবধানে হার।
এদিকে সোমবার (১৮ মে) বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি বিশ্বকাপের চূড়ান্ত ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করার কথা। এর আগে জাতীয় দলে জায়গা পাওয়ার শেষ সুযোগটি নেইমারের জন্য পরিণত হলো এক অবিশ্বাস্য দুঃস্বপ্নে। এবার প্রতিপক্ষের ট্যাকল নয়, সম্ভবত ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ যাত্রা রুখে দিল রেফারির এক গুরুতর ভুলই।