Image description

দলীয় ১১৬ রানেই ষষ্ঠ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকেই দলের হাল ধরেন লিটন দাস। ক্ল্যাসিক এই ব্যাটার একপ্রান্ত আগলে রাখলেও আরেকপ্রান্তে আসা-যাওয়ার মিছিল চলছিল! ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে একাই লড়াই করেন উইকেটকিপার এই ব্যাটার। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে দ্রুত তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারও ছুঁয়ে ফেলেন। ব্যক্তিগত সেঞ্চুরিতে পৌঁছাতে ১৩৫ বল খেলেন তিনি। টেস্ট ক্যারিয়ারে ষষ্ঠ সেঞ্চুরি এটি লিটনের।

পাকিস্তানের বিপক্ষে এই ফরম্যাটে লিটনের টানা দ্বিতীয় শতক এটি। এর আগে, পাকিস্তানের মাটিতে ২০২৪ সালে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজে রাওয়ালপিন্ডিতে দ্বিতীয় টেস্টে ১৩৮ রানের এক দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেছিলেন।

এদিকে এই ইনিংস খেলার পথে তাইজুলের সঙ্গে ৬০ রানের জুটি গড়েছিলেন। তবে ১৬ রান করে সাজিদ খানের বলে বোল্ড হয়ে যান তিনি। তার বিদায়ে ১৭৬ রানে ৭ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

এরপর দ্রুত ফেরেন তাসকিন আহমেদও। খুররাম শাহজাদের চতুর্থ শিকার হয়ে স্লিপে সালমান আলী আগাকে ক্যাচ দিয়ে ৭ রান করে ফেরেন এই ব্যাটার।

এর আগে, ঢাকা টেস্টের পর সিলেটেও টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। দ্রুতই এর সুফলও পায় সফরকারীরা। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই সাফল্য এনে দেন মোহাম্মদ আব্বাস। মাহমুদুল হাসান জয়কে শূন্য রানে সাজঘরে ফেরান ঢাকা টেস্টে ফাইফার পাওয়া এই পেসার।

পরে অভিষিক তানজিদ তামিমকে নিয়ে দলীয় হাল ধরেছিলেন অভিজ্ঞ মুমিনুল হক। তবে দলীয় পঞ্চাশ ছোঁয়ার আগেই এই ওপেনারও বিদায় নেন। ঢাকা টেস্টের দলীয় আস্থার প্রতীক হয়ে উঠলেও সিলেটে ভরসার নাম হয়ে উঠতে পারেননি মুমিনুলও। দলীয় ৬৩ রানে তিনিও প্যাভিলিয়নে ফেরেন। তামিম ৩৪ বলে ২৬ ও মুমিনুল ৪১ বলে ২২ রান করেন। 

তৃতীয় উইকেটে বিপর্যয় সামলানোর দায়িত্ব নেয় শান্ত-মুশফিক। তাদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়েই তিন অঙ্ক ছুঁয়ে ফেলে বাংলাদেশ। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির আগ পর্যন্ত ২৬ ওভারের খেলা শেষে ৩ উইকেট হারিয়ে ১০১ রান জড়ো করেছিল স্বাগতিকরা।

মধ্যাহ্নভোজের বিরতি থেকে ফেরার পরই স্বাগতিকদের চেপে ধরে পাকিস্তান। সেই চাপেই ভেঙে যায় নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিমের ৪৩ রানের প্রতিরোধ। মোহাম্মদ আব্বাসের বলে রিজওয়ানের গ্লাভসে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন টাইগার দলপতি। ফেরার আগে শান্তর ব্যাট থেকে ২৯ রান এসেছিল।

পরে মুশফিক ফেরায় বিপদ আরও বাড়ে লাল-সবুজ শিবিরের। খুররম শেহজাদের ভেতরে ঢোকা বলে ২৩ রান করে এলবিডব্লিউ হন মিডল-অর্ডার এই ব্যাটার। যদিও ব্যক্তিগত ১৮ রানে জীবন পেয়েছিলেন মুশি। উইকেটকিপার রিজওয়ানের হাতে ক্যাচ দিয়েছিলেন তিনি। আম্পায়ার আউট না দিলেও রিভিউ নেয়নি পাকিস্তান। পরে রিপ্লেতে দেখা যায় বল মুশফিকের গ্লাভস ছুঁয়ে গিয়েছিল।

পরে ৪ রান করে আউট হন মিরাজও। শেহজাদের বাউন্সারে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মিরাজ। এতে লাঞ্চের পর ১৫ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

সেখান থেকে দলের হাল ধরেন লিটন দাস। তাকে দারুণ সঙ্গ দেন তাইজুলও। এই জুটিতেই ৬ উইকেটে ১৬৮ রান নিয়ে প্রথম দিনের চা-বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।