মধ্যাহ্ন বিরতির পরও আরেকদফা ব্যাটিং ব্যর্থতার চিত্র বাংলাদেশ শিবিরে। প্রথম সেশনে ৩ উইকেট হারানোর পর দুপুরের খাবার খেয়ে এসে বেশিক্ষণ টিকলেন না নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম, মেহেদী হাসান মিরাজরা। একের পর এক উইকেট হারিয়ে রীতিমতো ধুঁকছে বাংলাদেশ।
ঢাকা টেস্টের একাদশ না থাকলেও সিরিজ নির্ধারণী টেস্টে ফেরানো হয় খুররম শেহজাদ। একাদশে জায়গা পেয়েই যেন তাঁতিয়ে উঠেছেন এই পেসার। মুমিনুল হকের পর এবার মুশফিককেও ফেরালেন। শেহজাদের মতো দারুণ বোলিং করে যাচ্ছেন মোহাম্মদ আব্বাস। তাদের যৌথ আক্রমণে এরই মধ্যে ৬ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ।
মুশফিক আউট হলে ক্রিজে আসেন মিরাজ। ১১০ রানে পঞ্চম উইকেট হারিয়ে দল তখন ধুঁকছে। এমন পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের বিকল্প ছিল না। কিন্তু সেটা না করে উল্টো বড় শট খেলার চেষ্টায় আউট মিরাজ। ৪ রান এসেছে তাঁর ব্যাট থেকে। মাহমুদুল হাসান, তানজিদ হাসান তামিম এবং মুমিনুল হককে হারিয়ে মধ্যাহ্ন বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। স্বাগতিকদের সংগ্রহ ছিল ১০১ রান। ৬৩ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর শান্ত এবং মুশফিকের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল। কিন্তু মধ্যাহ্ন বিরতির পর আবার ধস নামে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনে।
দ্বিতীয় সেশনে ব্যাট করতে নেমে ১৫ রানের মধ্যে ৩ ব্যাটারকে হারায় বাংলাদেশ। ঢাকা টেস্টের দুই ইনিংসে ১৮৮ রান করে ম্যাচসেরা হয়েছিলেন শান্ত। এবারও বড় ইনিংসের আভাস মিলছিল তার ব্যাটে। কিন্তু অধিনায়ক থেমেছেন ২৯ রানে। আব্বাসের বলে মোহাম্মদ রিজওয়ানের গ্লাভস বন্দী হন শান্ত।
মুশফিককে ফেরান শেহজাদ। ২৩ রান করা ব্যাটারকে এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলেন পাকিস্তানি পেসার। দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই সফরকারীদের ভুলে বেঁচে গিয়েছিলেন মুশফিক। সাজিদের বলে রিজওয়ানকে ক্যাচ দিলেও ফিল্ড আম্পায়ার আউট দেননি। পাকিস্তানও শেষ পর্যন্ত রিভিউ নেয়নি। পরে টিভি রিপ্লেতে দেখা যায়, বল মুশফিকের গ্লাভস ছুঁয়ে গিয়েছিল। সেবার বেঁচে গেলেও দলের বিপদে ব্যাট হাতে দাঁড়াতে পারলেন না এই ব্যাটার। মুশফিকের পর মিরাজকে হারালে চাপ আরও বেড়ে যায় বাংলাদেশের।