গত ফেব্রুয়ারি-মার্চে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কানাডা দলকে ঘিরে ফিক্সিং কেলেঙ্কারির তদন্ত শুরু করেছে আইসিসি। এর মধ্যেই সামনে এসেছে একাধিক চমকে ওঠার মতো তথ্য।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণই গত ১৭ ফেব্রুয়ারি চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠিত কানাডা-নিউজিল্যান্ড ম্যাচে সরাসরি ফিক্সিংয়ে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিট বর্তমানে কানাডার অধিনায়ক দিলপ্রীত বাজওয়ার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তদন্ত করছে।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের সেই ম্যাচে বাজওয়ার করা একটি খরুচে ও অস্বাভাবিক ওভার থেকেই সন্দেহের শুরু। স্পট ফিক্সিংয়ের সন্দেহভাজন হিসেবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং তার মুঠোফোনও তল্লাশি করা হয়ছে।
কানাডিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের (সিবিসি) প্রতিবেদনে সরাসরি লরেন্স বিষ্ণই গ্যাংয়ের নাম উঠে এসেছে। কানাডায় সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত এই সহিংস চক্রের বিরুদ্ধে গায়ক সিধু মুসে ওয়ালাকে হত্যার অভিযোগও রয়েছে।
নিকোলাস কার্টনকে সরিয়ে বাজওয়ার হঠাৎ অধিনায়ক হওয়ার পেছনেও এই গ্যাংয়ের ভূমিকা ছিল ধারণা করা হচ্ছে।
সিবিসি সূত্র জানিয়েছে, গত বছরের জুলাইয়ে কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়া প্রদেশের সারে শহরের একটি রেস্টুরেন্টে প্রায় ২৫ জন ক্রিকেটার জড়ো হয়েছিলেন। সেখানে কানাডা দলের এক তারকা ক্রিকেটারের টেবিলে গিয়ে দুই ব্যক্তি নিজেদের বিষ্ণই গ্যাংয়ের প্রতিনিধি পরিচয় দেন এবং হুমকি দেন যে, দিলপ্রীত বাজওয়া ও আরেক তরুণ ক্রিকেটারের পদোন্নতি (অধিনায়কত্ব দেওয়া ও অন্য সুযোগ-সুবিধা প্রদান) সমর্থন না করলে তার পরিবারকে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে।
প্রতিবেদনে নোয়া নামে আরেক ব্যক্তির কথাও বলা হয়েছে, যিনি একইভাবে হুমকির শিকার হন বলে দাবি করা হয়েছে।
তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, এই সিন্ডিকেট কানাডা ক্রিকেটের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিজেদের পছন্দের লোক বসানোর চেষ্টা করছিল। বিশেষ করে দিলপ্রীত বাজওয়াকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর কয়েক সপ্তাহ আগে অধিনায়ক করার সিদ্ধান্ত ব্যাপক বিতর্ক তৈরি করে।
নোয়া বলেন, ‘আমি বিরোধিতা করেছিলাম। এতে ৪০ মিনিটের মধ্যে একই নম্বর থেকে একটি বার্তা পাই, যেখানে একটি ছবি ছিল। সেটি আমাকে আতঙ্কিত করে দেয়।
সিবিসির প্রতিবেদনে বর্তমান ক্রিকেট কানাডার সভাপতি অরবিন্দর খোসার নামও এসেছে। অভিযোগ ও হুমকি দেওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। তবে খোসা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার সুনাম নষ্টের চেষ্টা।
নোয়া আরো বলেন, ‘আমার মনে হয় তারা ম্যাচ ফিক্সিং করে অর্থ উপার্জন করতে চেয়েছিল। সে কারণেই তারা তাকে ক্ষমতায় আনতে চেয়েছিল। না হলে তাকে অধিনায়ক করতে এত দূর যাওয়ার কারণ কী?’
উল্লেখ্য, দক্ষিণ এশিয়ান সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে চাঁদাবাজি ও গুলিবর্ষণসহ একাধিক সহিংস ঘটনার পর কানাডা সরকার লরেন্স বিষ্ণই গ্যাংকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করে।
৩৩ বছর বয়সী লরেন্স বিষ্ণই বর্তমানে গুজরাটের একটি কারাগারে বন্দী।