Image description

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা এক ভিডিও বার্তায় লিভারপুল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন মোহামেদ সালাহ। কোনো ক্যাপশন ছাড়াই পোস্ট করা ভিডিওতে মৌসুম শেষে ক্লাব ছাড়ার কথা জানান এই মিশরীয় ফরোয়ার্ড।

ভিডিওর শুরুতে তার গোল ও উদযাপনের কিছু দৃশ্য তুলে ধরা হয়। পরে ট্রফি কেবিনেটের সামনে বসে সংক্ষিপ্ত বার্তায় সালাহ বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, দিনটি চলেই এলো…।

এই মৌসুমের শেষে আমি লিভারপুল ছাড়ছি।’

 

২০১৭ সালে ক্লাব রেকর্ড ট্রান্সফার ফিতে লিভারপুলে যোগ দেওয়ার পর দ্রুতই দলের অন্যতম ভরসার প্রতীকে পরিণত হন সালাহ। ক্লাবটির ইতিহাসে অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন তিনি।

লিভারপুলের হয়ে এখন পর্যন্ত ৪৩৫ ম্যাচে ২৫৫ গোল করেছেন সালাহ, যা তাকে ক্লাব ইতিহাসের তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসিয়েছে।

এই সময়ে জিতেছেন দুটি প্রিমিয়ার লিগ, একটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ একাধিক বড় শিরোপা।

 

ভিডিও বার্তায় ক্লাব ও সমর্থকদের প্রতি নিজের অনুভূতির কথাও জানান তিনি, ‘লিভারপুল শুধু একটি ক্লাব নয়, এটি একটি আবেগ। এখানে কাটানো সময় আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।’

গত মৌসুমে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে আবারও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন সালাহ।

লিগে ২৯ গোলের সঙ্গে ১৮টি অ্যাসিস্ট করে দলকে শিরোপা জেতাতে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলদাতা, সেরা খেলোয়াড় ও সেরা প্লেমেকারের স্বীকৃতি জেতেন, যা প্রিমিয়ার লিগ ইতিহাসে বিরল কীর্তি।

 

তবে চলতি মৌসুমে ফর্মের ওঠানামা, কোচের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন ও নানা বিতর্কের মধ্যে পড়েন এই ফরোয়ার্ড। এরপরও সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত মিলেছে তার পারফরম্যান্সে।

ক্লাবের সঙ্গে নতুন চুক্তি নিয়েও অনিশ্চয়তা ছিল দীর্ঘদিন।

যদিও গত এপ্রিলে দুই বছরের নতুন চুক্তি করেন, সেই মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই বিদায়ের সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি।

লিভারপুল কর্তৃপক্ষ জানায়, সমর্থকদের প্রতি সম্মান জানিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে আগেভাগেই স্পষ্টতা আনতে চেয়েছেন সালাহ।

বিদায়ের ঘোষণা দিলেও ক্লাবটির সঙ্গে নিজের আবেগী সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন এই ফরোয়ার্ড, ‘ছেড়ে যাওয়া কখনোই সহজ নয়। তোমরা আমাকে আমার জীবনের সেরা সময়টা দিয়েছো, আমি সবসময় তোমাদের একজন হয়েই থাকব। আমার এবং আমার পরিবারের কাছে সবসময় আমার ঘর হয়ে থাকবে এই ক্লাব। সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ। তোমাদের সবার কারণে… I will never walk alone.’