খবরটা একটু বিস্ময়েরই ছিল কারও কারও জন্য। আগের ম্যাচে ১১৪ রানে অলআউট হয়ে যাওয়া একাদশে কোনো বদল ছাড়াই পাকিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ। গত বছরের অক্টোবরে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলেছিল বাংলাদেশ। সেই সিরিজের শেষ ম্যাচে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেও পরেরটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে কোনো ম্যাচই খেলার সুযোগই পেলেন না সৌম্য সরকার। বিস্ময়টা তাই বেড়েছিল আরও।
তবে বাংলাদেশ দলের কাছে ভাবনাটা পরিষ্কার। গতকাল রাতে তৃতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশের জয়ের পর সৌম্যকে বাদ দেওয়ার ব্যাখ্যাটা অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ দিয়েছেন এভাবে, ‘আমরা চাচ্ছি একটা খেলোয়াড় যেন সুযোগ বেশি পায়। কোনো সন্দেহ নেই সৌম্য গত সিরিজটা অনেক ভালো খেলেছে। কিন্তু হয়তো কিছুদিন একটু ছন্দে ছিল না।’
গত কিছুদিন মানে বিসিএলের ওয়ানডে সংস্করণের তিন ম্যাচের কোনোটিতেই দুই অঙ্কে যায়নি সৌম্যর রান। সিরিজ শুরুর আগে বিসিএল অল স্টারস একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচেও ২২ বলে ১১ রানে আটকে যান। ছন্দে থাকা তানজিদ হাসানের সঙ্গে তাই সাইফ হাসানকেই উদ্বোধনী জুটিতে রেখে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল বাংলাদেশের।

এদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে না থাকলেও পাকিস্তান সিরিজের একাদশে ফিরে তানজিদ সিরিজসেরা হয়েছেন। তবে সাইফ প্রথম দুই ম্যাচে রান পাননি (৪ ও ১২)। তবু কেন তাঁকে বসানো হয়নি এই ব্যাখ্যায় মিরাজ বলেছেন, ‘সাইফকে বসিয়ে যদি সৌম্যকে খেলাতাম তাহলে দুইটা জিনিস হতো। ওরও আত্মবিশ্বাসটা নেমে যেত। সৌম্য যদি এই ইনিংসটা আল্লাহ না করুক খারাপ খেলত তাহলে ওর জন্যও কঠিন হতো।’
ব্যাটসম্যানদের যাঁকে সুযোগ দেওয়া হবে, তাঁকে লম্বা সময় ধরে সুযোগ দেওয়া হবে—বাংলাদেশ দলের ভাবনা আপাতত এমন। সর্বশেষ সিরিজে তানজিদকে এক ম্যাচেও একাদশে না রাখার কথাও উদাহরণ হিসেবে টেনেছেন মিরাজ, ‘আমরা ব্যাটসম্যানের ক্ষেত্রে যে জিনিসটা চেষ্টা করছি, যে–ই সুযোগ পাক, বেশি সুযোগ পাক। আর খারাপ খেললে সে নিজে থেকেই বুঝতে পারবে হয়তো আমার জায়গা ছেড়ে আরেকজনকে দিতে হবে।’

ওয়ানডেতে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বছর এটি। এ বছরের সূচিতে আছে আরও ১৯ ওয়ানডে। বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব এড়াতে র্যাঙ্কিংয়ের আটে ঢোকার যে চ্যালেঞ্জ, সেটি জিততে ব্যাটিংয়ে খুব বেশি পরিবর্তন আনার সুযোগ নেই বলেই জানিয়েছেন মিরাজ, ‘আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে (র্যাঙ্কিংয়ে) পয়েন্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মাথায় রাখতে হবে যে ২০২৭ বিশ্বকাপে আমরা (সরাসরি) কোয়ালিফাই করতে হবে। এর জন্য কিন্তু প্রত্যেকটা সিরিজ প্রত্যেকটা ম্যাচ আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ওভাবেই চিন্তা করব যে কীভাবে আমরা সিরিজ জিততে পারি, ম্যাচ জিততে পারি।’
পাকিস্তানের বিপক্ষে ২–১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের পর হালনাগাদ র্যাঙ্কিংয়ে ১০ থেকে ৯–এ উঠে আসার কথা রয়েছে বাংলাদেশের।