বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের ধাক্কা কাটার আগেই বাংলাদেশের কাছে বড় ব্যবধানে হার। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তান ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশটির পেসার মোহাম্মদ আমির। দল নির্বাচন থেকে শুরু করে ক্রিকেটারদের অনুশীলন পদ্ধতি, সবকিছু নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে বুধবার মিরপুরে পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ।
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ম্যাচ বিশ্লেষণে আমির বলেন, ‘একটা ব্যাপার নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন, বাংলাদেশ খুব স্মার্ট ক্রিকেট খেলেছে। আমরা ভেবেছিলাম সেখানে টার্নিং উইকেট থাকবে, কিন্তু তারা গতিময় উইকেট বানিয়েছে।
মিরপুরের উইকেটে বাউন্স ও গতি ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘১৪০ কিলোমিটারের ওপরে গতির বোলার এলেই আমাদের ব্যাটসম্যানদের সমস্যা শুরু হয়। আজ একজন বোলারই নিয়মিত সেই গতিতে বল করেছে এবং সে-ই পাঁচজনকে আউট করেছে।’
পাকিস্তানি এই পেসারের মতে, অনুশীলনের পদ্ধতিও ব্যাটসম্যানদের দুর্বলতার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
বর্তমান প্রজন্মের ব্যাটসম্যানদের টেকনিক নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেন আমির। বাংলাদেশের বিপক্ষে অভিষেক হওয়া মাজ সাদাকাত ও শামিল হুসেইনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘এখনকার অনেক ক্রিকেটারই শুধু মিড উইকেট অঞ্চলে খেলতে চায়।
বোলিং নিয়েও হতাশা লুকাননি তিনি। আমির বলেন, ‘যে উইকেটে আমরা ১১৪ করেছি, সেখানে ওরা ১০–১২ ওভারে ম্যাচ শেষ করে দিয়েছে। আমাদের বোলিং আক্রমণ একেবারেই ধারালো ছিল না।’
তবে তরুণ ক্রিকেটারদের সরাসরি দোষ দিতে চান না আমির। তার মতে, মূল দায় নির্বাচকদের। তিনি বলেন, ‘আমি তরুণদের সমালোচনা করব না। বরং যারা তাদের দলে নিচ্ছে, তাদের প্রশ্ন করা উচিত। প্রথম শ্রেণির রেকর্ড, টেকনিক, এসব ঠিকভাবে দেখা হচ্ছে কি না সেটা ভাবতে হবে।’
দলের ভারসাম্য নিয়েও কথা বলেন এই পেসার। তার মতে, সিনিয়র ও তরুণ ক্রিকেটারদের সমন্বয়েই দল গঠন করা উচিত।
আমির বলেন, ‘চার-পাঁচজন সিনিয়রকে বাদ দিয়ে শুধু তরুণদের দিয়ে দল বানানো ঠিক না। তরুণদের পথ দেখানোর জন্য অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদেরও প্রয়োজন।’
সবশেষে পাকিস্তান ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এখন আমরা বাংলাদেশের কাছেও হারছি। সত্যি বলতে ভয় লাগছে, আমাদের ক্রিকেট আর কত নিচে নামবে! এমনটা হওয়া উচিত নয়।’