নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধ এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবিতে ১০ দফা প্রস্তাব ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দলটির মহিলা বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।
মানববন্ধনে বলা হয়, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতা ও হত্যার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। এসব ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত না হলে অপরাধপ্রবণতা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
জামায়াতের মহিলা বিভাগের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত ১০ দফাগুলো হচ্ছে—
১। সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে রাষ্ট্রকে নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ২। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ৩। এ ধরণের বর্বরতাকে রুখতে রাষ্ট্রকে বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। ৪। রাজনৈতিক পরিচয়ের জের ধরে দুর্বৃত্তদের তাণ্ডব কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেয়া যাবে না। ৬। আমরা চাই নিরপেক্ষ তদন্ত ও স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়া। ৬। প্রতিটি মা-বোন ও শিশুর নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ৭। গ্রেপ্তারকৃত অপরাধীদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ৮। যে প্রভাবশালী চক্র অপরাধীদের রক্ষা করার চেষ্টা করেছে- তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে। ৯। মামলা নিতে পুলিশের গড়িমসির তদন্ত করে দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। ১০। শিশু নিরাপত্তা ও ধর্ষণ-নির্যাতন প্রতিরোধে রাষ্ট্রকে কার্যকর, কঠোর ও দীর্ঘমেয়াদি নীতি গ্রহণ করতে হবে।
মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নূরুন্নিসা সিদ্দিকা বলেন, সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ঘটনায় থানায় মামলা নিতে অনীহা ও গড়িমসির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি জান্নাতুল কারীম সুইটি বলেন, সরকারি দল ৫ আগস্টের পর থেকে নির্বাচন পর্যন্ত ৬৩টি ধর্ষণের সাথে সরাসরি যুক্ত ছিলো। যারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় আছেন এই শিশু ও নারী নির্যাতনের ঘটনা তাদের গদি উল্টে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
এ সময় নেতৃবৃন্দরা বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা নিষ্পত্তি এবং অপরাধীদের রক্ষায় প্রভাবশালী মহলের ভূমিকা বন্ধ করতে হবে।