কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ (শাপলা কলি) প্রতীকে ১১৬ কেন্দ্রের সবগুলোতেই জয় পেয়েছেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক এবং কুমিল্লা-৪ আসনে জামায়াত জোটের বিজয়ী প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, এখন থেকে চাঁদার কবর ঘোষণা দিলাম। আমাদের দেবীদ্বারে সরকারি অফিস-আদালতে এখন থেকে আর ঘুষ-দুর্নীতি চলবে না।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা সরকারি চাকরি করতে আসবেন, দয়া করে এসব (ঘুষ-দুর্নীতি) চিন্তা বাদ দিয়ে আইসেন।
তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে ছবি ব্যবহার করে কেউ অন্যায়, অনিয়ম-দুর্নীতি করলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে পুলিশে সোপর্দ করবেন’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিয়মের মধ্যে থাকলে আমার পক্ষ-বিপক্ষ সবাই আমার কাছে নিরাপদ। যারা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছেন, আমি তাদের ওপর কোনো প্রতিশোধ নেব না।
দেবীদ্বারে এ মুহূর্ত থেকে চাঁদার কবরস্থ ঘোষণা করা হলো উল্লেখ করে হাসনাত বলেন, প্রিয় দেবীদ্বারের ব্যবসায়ীরা, প্রিয় সিএনজি স্টেশনের ভাইয়েরা, পেশাজীবী-শ্রমজীবী ভাইয়েরা, প্রিয় হোটেল মালিকরা, যারা দেবীদ্বারে ব্যবসা করবেন, সরকারি ফি ছাড়া কোথাও কোনো চাঁদা দিতে হবে না।
তিনি বলেন, সরকারি নিয়ম মেনে আপনাদের রেজিস্ট্রেশন, টেক্সফাইল— এসব বিষয় ব্যতীত দেবীদ্বারে কোনো ব্যক্তিকে এক পয়সাও চাঁদা দিতে হবে না। যদি কেউ চাঁদার জন্য আসে তাকে বেঁধে রেখে আপনারা পুলিশকে খবর দেবেন।
এনসিপির এই নেতা বলেন, আপনারা আমাদের ভাই। আপনারা বাংলাদেশটাকে যদি পরিবর্তন করতে চান তাহলে নিজেকে সংশোধন করতে হবে।
এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক বলেন, গোমতী নদী থেকে আর যদি সরকারি নিয়মের বাইরে এক কোদাল মাটি কাটা হয়, আপনাদের ছাড় দেওয়া হবে না। মাটি কাটা, টেন্ডারবাজির সঙ্গে জড়িতরা আমাকে অভিনন্দন দেওয়া শুরু করেছেন। হোয়াটসঅ্যাপে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছেন। ফোন করে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। আমরা আপনার শুভেচ্ছা গ্রহণ করলাম। আপনাদের কিন্তু নামাজ পড়ে তওবা করে আমার সামনে আসতে হবে। আমরা আপনাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেব। প্রয়োজনে রিকশা কিনে দেব। প্রয়োজনে ভ্যান কেনে দেব। কিন্তু আমার গরিব খেটে খাওয়া ভাইদের কোনো অর্থের দিকে, সরকারের কোনো ধরনের সম্পদের দিকে যদি নিয়মবহির্ভূতভাবে আপনারা হাত বাড়িয়েছেন, জনগণ আপনাদের সেই হাত রাখবে না।