গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের মানুষ। ভোট গণনা শেষে নির্বাচন কমিশন থেকে প্রকাশিত ফলাফলে নিশ্চিত হয়েছে এ তথ্য। দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ জুলাই সনদের আলোকে সংস্কারের পক্ষে নিজেদের অবস্থান ব্যক্ত করেছেন।
জেলা রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে একে একে ফলাফল ঘোষণার সময় লক্ষ্য করা যায় হ্যাঁ ভোটের পক্ষে মানুষের অবস্থান। সময় গড়ানোর সঙ্গে এটা নিশ্চয়তায় রূপ নেয়।
সবশেষ প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী হ্যাঁ এর পক্ষে পড়েছে ৬৬.৩৩ শতাংশ ভোট। আর না এর পক্ষে পড়েছে ৩৩.৬৭ শতাংশ ভোট। রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা অঞ্চলে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে বেশি মানুষের অবস্থান দেখা গেছে।
তবে পার্বত্য অঞ্চলে না ভোট পড়েছে বেশি। বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে না এর পক্ষে অবস্থান দেখা গেছে।
‘হ্যাঁ’ জিতলে কী হবে
গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হলে সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের পথ প্রশস্ত হবে। যেখানে প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা কিছুটা কমার পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কিছু ক্ষেত্রে বাড়বে। সাংবিধানিক পদে নিয়োগ হবে ক্ষমতাসীন দল, বিরোধী দল ও ক্ষেত্রবিশেষে বিচার বিভাগের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে। বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী, প্রায় সব নির্বাহী কর্তৃত্ব প্রধানমন্ত্রীর হাতে ন্যস্ত। প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া রাষ্ট্রপতিকে অন্য যেকোনো কাজ করতে হয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী।
এ ছাড়া কোনো বিষয়ে সংসদে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনতার আওতা বাড়বে। সব মিলিয়ে রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরির সম্ভাবনা বাড়বে।
হ্যাঁ ভোট জয়ী হলে আগামী সংসদ হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট। সংবিধান সংশোধন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসবে। কোনো একটি দলের চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সংবিধান সংশোধন করা কঠিন হবে।
তবে বিএনপি দুই তৃতীয়াংশ আসনে জয়ের পথে থাকায় হ্যাঁ জয়ী হবার পরও জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন নিয়ে কিছুটা সংশয় কাজ করছে নাগরিকদের মনে। বেশ কয়েকটি মৌলিক সংস্কারের বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে রেখেছে দলটি। এছাড়া দলটির নেতাকর্মীদের না ভোটের পক্ষে ক্যাম্পেইন করতেও দেখা গেছে। সবমিলিয়ে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন এখন দ্বিমুখী লড়াইয়ে গড়ালো।