Image description
 

বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা। গোপালগঞ্জ মূল শহরে তখন একাধিক প্রার্থীর নির্বাচনি প্রচারণার মাইকিং চলছে। সড়কের দুই পাশে দেখা যায় বিভিন্ন প্রার্থীর ব্যানার-ফেস্টুন। তবে সেই সংখ্যাটা খুবই কম। নির্বাচন মানেই পোস্টার দিয়ে ছেয়ে ফেলার অতীত স্মৃতি এবার অনেকটাই মুছে দিয়েছে আচরণবিধি। এবার আওয়ামী লীগবিহীন গোপালগঞ্জের তিনটি আসনে বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন ও জাতীয় পার্টিসহ স্বতন্ত্র প্রার্থীরা চষে বেড়াচ্ছেন ভোটের মাঠ।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রভাব থাকা গোপালগঞ্জের প্রার্থীরা ভোটের হিসাব কীভাবে মেলাচ্ছেন, তা বুঝতে আসনটির বিভিন্ন গ্রামে, মহল্লায় এবং প্রত্যন্ত এলাকার অন্তত ৪০ জনের সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে কথা হয়। তাদের মধ্যে কেউ বলেছেন, গোপালগঞ্জের তিন আসনের মধ্যে একটিতে বিএনপি জয়ী হতে পারে। বাকি দুটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। কেউ আবার বলছেন, আওয়ামী লীগের ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে না গেলে হিসাব পাল্টে যেতে পারে। কেউ বলছেন, আওয়ামী লীগ ছাড়া ভোট গোপালগঞ্জের মানুষের আগ্রহ কম। কেউ আবার বলছেন, গোপালগঞ্জে হিন্দু ভোটাররা এবার ফ্যাক্ট হয়ে দাঁড়াবে। তবে কোন মার্কায় ভোট দেবেন- তা বেশিরভাগ মানুষ বলতে চাইছেন না।

 

স্থানীয় বলছেন, গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালে গোপালগঞ্জে সেনাবাহিনীর ওপর হামলা এবং পরে গত বছরের জুলাইয়ে এনসিপির সমাবেশ ঘিরে হামলা, সংঘর্ষ ও মামলার ঘটনায় অনেকেই গ্রেফতার হয়ে কারাগারে, অনেকে আবার এলাকাছাড়া। এমন বাস্তবতায় ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ার কথা বলছেন তারা। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, ভোটকেন্দ্রে যদি কোনো অঘটন ঘটে তখন মামলা হবে, সেই মামলায় আবার গ্রেফতার এবং বাড়িছাড়া হবে অনেকেই। এই বাস্তবতায় নিরিবিলি থাকার কথা বলছেন কেউ কেউ।

 

গোপালগঞ্জকে বলা হয় আওয়ামী লীগের ঘাঁটি। কার্যক্রম নিষিদ্ধ এই রাজনৈতিক দল এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। দল হিসেবে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকলেও সাধারণ ভোটাররা কী ভাবছেন সেটি তুলে আনার চেষ্টা করেছেন জাগো নিউজের এ প্রতিবেদক।

একাধিক উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, গোপালগঞ্জ বরাবরই আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে এখানে নির্বাচনি রাজনীতিতে দলটির একচেটিয়া প্রভাব থাকলেও এবারের বাস্তবতা ভিন্ন। আওয়ামী লীগের সরাসরি অংশগ্রহণ না থাকায় গোপালগঞ্জের ভোটের মাঠে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ, বদলেছে রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ।

স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এতদিন আওয়ামী লীগের প্রার্থী থাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ সীমিত ছিল। কিন্তু এবারের পরিস্থিতিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী, বিভিন্ন দলের অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সক্রিয়তা না থাকায় ভোটের মাঠ বেশ উন্মুক্ত হয়ে উঠেছে। ফলে ভোটারদের মধ্যেও আগ্রহ ও কৌতূহল বেড়েছে। আবার আওয়ামী লীগপন্থি ভোটারদের মধ্যে ভোটে অনাগ্রহও রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

 

ভোটারদের আচরণেও পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একদিকে, আওয়ামী লীগের সমর্থকদের একটি অংশ ভোট দেওয়া নিয়ে দ্বিধায় থাকলেও, অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে ভোটে আগ্রহ হারানো অনেক ভোটার এবার মত প্রকাশের সুযোগ হিসেবে নির্বাচনকে দেখছেন। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে পরিবর্তন দেখার কৌতূহল একটি বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠছে।

আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, স্থানীয় কর্মকাণ্ড এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ। অনেক ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয়ের চেয়ে প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতাই হয়ে উঠছে মূল ফ্যাক্টর। এতে করে দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা ভোটারদের একটি অংশ আবারও ভোটকেন্দ্রমুখী হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে গোপালগঞ্জের ভোটারদের মধ্যে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এবার তারা দল নয়, মানুষ দেখে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। কেউ কেউ মনে করছেন, এই পরিস্থিতি গোপালগঞ্জের রাজনীতিতে একটি নতুন ধারার সূচনা করতে পারে, যেখানে মতের বৈচিত্র্য ও প্রতিযোগিতা বাড়বে।

 

 

তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা এবং ভোটার উপস্থিতি নির্বাচনটির ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে গোপালগঞ্জে এবারের নির্বাচন শুধু ফলাফলের দিক থেকেই নয়, রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন কেউ কেউ।

তবে এই নতুন সমীকরণ পুরোপুরি ইতিবাচক হবে কি না, তা নির্ভর করছে নির্বাচন পরিচালনার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তার ওপর। শক্তিশালী দলীয় কাঠামোর অনুপস্থিতিতে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ভূমিকা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও করছেন কেউ কেউ। ফলে প্রশাসনের এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

স্থানীয়দের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

সদর উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নের কাজীর বাজারে ৭-৮ জন চা খাচ্ছিলেন। চা দোকানিকে এক কাপ চা চেয়ে এ প্রতিবেদক দোকানের বেঞ্চে বসেন। এ সময় দোকানে থাকা মধ্য বয়সীরা গোপালগঞ্জের নির্বাচন নিয়ে কথাবার্তা বলছিলেন। তাদের মধ্যে একজন বলেন, শেখ সেলিম কখনোই ভোট চাইতে এলাকায় আসেননি। আজীবন আওয়ামী লীগ করেছি, ভোট দিতাম। কিন্তু তাকে কখনো এলাকায় পাওয়া যায়নি। এবার অন্তত বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ভোট চাইতে আসছেন। ভোট কেন্দ্রে যাবো এবং ভোট দেবো।

আরেকজন বলেন, ভোট দিতে যাবো, তবে গণভোটে না ভোট দেবো। ষাটের বেশি বয়সী একজন বলেন, এবার যাকে ভোট দেবো, সে অবশ্যই স্থানীয় মানুষ হতে হবে। এলাকার বাইরের কাউকে ভোট দেবো না।

গোপালগঞ্জের হরিদাসপুর ফেরিঘাট এলাকার একটি চায়ের দোকানে বসে পঞ্চাশোর্ধ্ব থেকে সত্তরোর্ধ্ব বয়সী ৮-৯ জন ব্যক্তি চা খেতে খেতে এলাকার ভোট নিয়ে আলোচনা করছিলেন। সেখানে উপস্থিত সদর উপজেলার একজন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জাগো নিউজকে বলেন, উপজেলার সব ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধাদের ডেকেছিলাম। আন্তর্জাতিকভাবে শেখ হাসিনা ভোটকেন্দ্রে না যেতে বললেও স্থানীয়ভাবে আমাদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়া উচিত বলে মনে করি। কারণ মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি জয়ী হলে আমাদের ক্ষতি হবে।

 

গোপালগঞ্জ প্রেস ক্লাবের পাশে চায়ের দোকানে বসে ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী চার যুবক লুডু খেলছিলেন। তাদের একজন বলেন, ১৫ বছর ধরে ভোটার হয়েছি, কিন্তু একবারও ভোট দিতে পারিনি। ভোটের দরকারই পড়েনি, অটো হয়ে যেত। এবার অবশ্য কেন্দ্রে যাবো নিজের ভোটটা দেবো। তবে গণভোটে না দেবো।

আওয়ামী লীগের দুর্গ গোপালগঞ্জ, ভোট নিয়ে কী ভাবছেন ভোটাররা?

গোপালগঞ্জের চরমানিকদাহ এলাকার বাসিন্দা শফিউল ইসলাম নামের একজন অটোরিকশাচালক জাগো নিউজকে জানান, নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহের চেয়ে ভয় আর অনিশ্চয়তা বেশি। নিজের জীবন আগে না ভোট? রিকশা চালিয়ে খাই। এমপি-মন্ত্রী হলে আমার লাভ কোথায়, আমি যে রিকশা চালায় সেই রিকশায় চালিয়ে খেতে হবে আমাকে।

 

গোপালগঞ্জের মকসুদপুর উপজেলার দিগনগর গ্রামের বাসিন্দা লিটন মন্ডল জাগো নিউজকে বলেন, এবার নৌকা নেই। প্রতি বছর ভোট দিয়েছি। এবার হয়তো অন্য প্রতীকে ভোট দিতে হবে। কষ্ট লাগলেও কিছু করার নেই, কারণ ভোট দিতে না গেলে ভোটের পর যারা জয়ী হবে তারা মামলা-হামলা দিতে পারে।

তেঘরিয়া গ্রামের এক চা দোকানি জাগো নিউজকে বলেন, এবার ভিন্ন প্রেক্ষাপট। যারা আমার দোকানে এসে চা খান তাদের অধিকাংশ ভোট দিতে যাবেন না বলে আলোচনা করেন। ভোটের দিন যদি কোনো গেঞ্জাম-মারামারি না হয় তাহলে সুযোগ বুঝে ভোট দিয়ে চলে আসবো।

ভোটের হিসাব-গোপালগঞ্জ-১

মুকসুদপুর ও কাশিয়ানী (আংশিক) নিয়ে গঠিত গোপালগঞ্জ-১ আসন। ১৯৮৬ সাল থেকে ২০২৪ পর্যন্ত এই ৬ বার জিতেছিলেন আওয়ামী লীগের ফারুক খান। এর আগে ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগের কাজী আব্দুর রশিদও জয়ী হন। গোপালগঞ্জে তিনটি আসনের মধ্যে শুধু এ আসন থেকে বিএনপি জয়ী হয়েছিল দুইবার। একবার ১৯৮৮ সালে এম. এইচ. খান মঞ্জুর এবং ১৯৯৬ সালে শরফুজ্জামান জাহাঙ্গীর। এছাড়া ১৯৮৬ সালে সারওয়ার জাহান চৌধুরী জাতীয় পার্টি থেকে জয়ী হয়েছিলেন।

এবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। এই আসন থেকে এবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ৯ জন প্রার্থী। তারা হলেন-বিএনপির মো. সেলিমুজ্জামান মোল্যা, জামায়াত ইসলামীর মুহাম্মাদ আবদুল হামীদ, স্বতন্ত্র আশরাফুল আলম শিমুল, স্বতন্ত্র আনিসুল ইসলাম, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির নীরদ বরন মজুমদার, স্বতন্ত্র মো. কাইউম আলী খান, গণঅধিকার পরিষদের মো. কাবির মিয়া, ইসলামী আন্দোলনের মোহামদ মিজানুর রহমান এবং জাতীয় পার্টির সুলতান জামান খান।

এখানকার মোট ভোটার ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৫১০ জন। এরমধ্যে পুরুষ ২ লাখ ২ হাজার ৮১৬ জন, নারী ১ লাখ ৯৬ হাজার ৬৯৪ জন।

আওয়ামী লীগের দুর্গ গোপালগঞ্জ, ভোট নিয়ে কী ভাবছেন ভোটাররা?

ভোটের হিসাব-গোপালগঞ্জ-২

গোপালগঞ্জ সদর ও কাশিয়ানী (আংশিক) নিয়ে গঠিত গোপালগঞ্জ-২ আসন। এ আসনে ১৯৮৬ সাল থেকে ২০২৪ পর্যন্ত ৮ বার জিতেছিলেন আওয়ামী লীগের শেখ ফজলুল করিম সেলিম। ১৯৮৮ সালে মাত্র একবার জিতেছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফরিদ আহমেদ। বিগত নির্বাচনগুলোতে শেখ সেলিমের একক আধিপত্যের কারণে অন্য প্রার্থীরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারতেন না।

তবে এবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। এই আসন থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ১৩ জন। তারা হলেন- বিএনপির কে এম বাবর, স্বতন্ত্র উৎপল বিশ্বাস, স্বতন্ত্র এম এইচ খান মনজু, স্বতন্ত্র কাম্রুজ্জামান ভূইয়া লুটুল, ইসলামী আন্দোলনের তসলিম শিকদার, গণঅধিকার পরিষদের দ্বীন মোহাম্মদ, জাকের পার্টির মাহমুদ হাসান, স্বতন্ত্র মো. সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্বতন্ত্র রনী মোল্লা, জাতীয় পার্টির রিয়াজ সারোয়ার মোল্যা, গণফোরামের শাহ মফিজ, খেলাফত মজলিসের শুয়াইব ইবরাহীম এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সিপন ভুঁইয়া।

এখানকার মোট ভোটার ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৩২৬ জন। এরমধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬০ জন, নারী ১ লাখ ৯০ হাজার ২৬২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে চারজন।

আওয়ামী লীগ না থাকায় এবার বিএনপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন ও জাতীয় পার্টিসহ অনেক স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজে লাগাচ্ছে। স্থানীয়রা বলছেন, এতো প্রার্থী আগে দেখেননি তারা। আওয়ামী লীগের শেখ সেলিম নির্বাচনে দাঁড়ালে ভোটের আগে তিনি এলাকায় ভোট চাইতে আসতেন না। এবার অন্তুত সব প্রার্থী ভোট চাচ্ছেন, বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। অনেকের মতে, গোপালগঞ্জে একটা আমেজ কাজ করছে।

আওয়ামী লীগের দুর্গ গোপালগঞ্জ, ভোট নিয়ে কী ভাবছেন ভোটাররা?

ভোটের হিসাব-গোপালগঞ্জ-৩

গোপালগঞ্জ-৩ টুঙ্গিপাড়া ও কোটালিপাড়া নিয়ে গঠিত গোপালগঞ্জ-৩ আসন। ১৯৮৬ সালে কাজী ফিরোজ রশিদ জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ থেকে শেখ হাসিনা। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচিত হন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মুজিবুর রহমান হাওলাদার। পরে ১৯৯৬ সালের জুন থেকে ২০২৪ পর্যন্ত টানা ছয়বার নির্বাচিত হন শেখ হাসিনা।

তবে এবার এই আসন থেকে এবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ৮ জন প্রার্থী। তারা হলেন- বিএনপির এস এম জিলানী, গণঅধিকার পরিষদের আবুল বসার, স্বতন্ত্র গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, গণফোরামের দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস, খেলাফত মজলিসের মো. আজিজ, ইসলামী আন্দোলনের মো. মারুফ শেখ, স্বতন্ত্র মো. হাবিবুর রহমান ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির শেখ সালাউদ্দিন।

এখানকার মোট ভোটার ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৮৪ জন। এরমধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৫৮ হাজার ৪০৩ জন, নারী ১ লাখ ৫০ হাজার ৩৮০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে একজন।

গোপালগঞ্জে ভোটারদের কেন্দ্রে আসা ঠেকাতে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানোর আশঙ্কা রয়েছে বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এসেছে। এ কারণে গোপালগঞ্জের অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের আশপাশে বহিরাগতদের চলাচল, রাজনৈতিক কর্মীদের অপতৎপরতা এবং সন্দেহজনক গতিবিধির ওপর বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি পুলিশ এলাকাভিত্তিক ঝুঁকি মূল্যায়ন করে নিজস্ব নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন করছে। সেসব পরিকল্পনা পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।

গোপালগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. জুবায়ের হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, এখানকার বেশিরভাগ আওয়ামী লীগের সমর্থক। ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে গোপালগঞ্জে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ ভোট কাস্ট হতে পারে। তিনটি আসনের মধ্যে দলীয় প্রতীকে একটি জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাকি দুটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হতে পারে।

 

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, পূর্ব থেকেই সেনাবাহিনী মাঠে কাজ করছে। পাশাপাশি বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিটি শহরের প্রবেশদ্বারে চেকপোস্ট বৃদ্ধি করেছে পুলিশ। যদি কোনো নাশকতা কিংবা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় তাহলে প্রার্থীদের পেছনে থাকা সমর্থকরা করতে পারে। কারণ বিগত দিনগুলোতে যারা এ ধরনের কাজ করেছে তারাই নাশকতা কিংবা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে পারে।