Image description
 

২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার প্রবল অভ্যুত্থানের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে পালিয়ে ভারতে গিয়ে আশ্রয় নেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দীর্ঘদিনের প্রেক্ষাপট পাল্টে যাওয়ার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ধারণা করা হচ্ছিল জাতীয় সংসদ নির্বাচন হলে বিএনপি সহজেই বিপুল বিজয় পাবে। কিন্তু এরপর দিন যত গড়িয়েছে, প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ততই মজবুত হয়ে উঠেছে বিএনপিরই দীর্ঘদিনের মিত্র বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এ ক্ষেত্রে চারদিকে রটছে নানা রটনা, বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যমে। কেউ কেউ তো এমনও বলছেন বিএনপি থেকে ক্রমেই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন অনেক ভোটার। তারা জামায়াতেই ভরসা রাখছেন। কিন্তু রটছে যা, তা-ই কি ঘটতে যাচ্ছে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে? সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন যা রটছে, বাস্তবে অর্থাৎ ভোটের মাঠে তা ঘটবে না। কারণ, নির্বাচনী মাঠের হিসাব-নিকাশ অনেক জটিল ও অনেক-অনেক সমীকরণের ওপর নির্ভরশীল। সম্প্রতি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জরিপ এবং গণমাধ্যমের বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনও বলছেÑ বিএনপি স্পষ্টতই এগিয়ে আছে এবং সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

উভয় দলই চাইছে, তরুণ ভোটারের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের নিরীহ ভোটারদের পক্ষে টানার। দুই দলের এ প্রতিযোগিতার সঙ্গে ক্ষেত্রবিশেষে বাড়ছে অস্থিরতাও। এমনকি কথার লড়াই মাঠের সংঘর্ষেও রূপ নিচ্ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনসহ নানা কারণে সামষ্টিকভাবে জামায়াতের সমর্থন বেড়েছে। সীমান্তবর্তীসহ কিছু কিছু আসনে তারা বিজয়ীও হতে পারে। তবে সেই সমর্থন এখনও বিএনপিকে পুরোপুরি হারিয়ে দেওয়ার মতো নয়। নিজস্ব ভোটব্যাংকের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, গণতন্ত্রপ্রিয় ও প্রগতিশীল চিন্তার মানুষের সমর্থন ধানের শীষের পক্ষেই যাবে। কমিউনিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিআরএফ) ও বাংলাদেশ ইলেকশন অ্যান্ড পাবলিক ওপিনিয়ন স্টাডিজের গত বুধবার প্রকাশিত জরিপেও দেখা গেছেÑ আগে যারা আওয়ামী লীগকে ভোট দিতেন, তাদের ৪৮ দশমিক ২ শতাংশ এবার বিএনপিকে ভোট দেবেন।

রাজনৈতিক নেতা ও বিশ্লেষকরা বলছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর রাজনীতিতে বড় ধরনের মেরুকরণ ঘটেছে। একসময় ইসলামপন্থি দলগুলো বিএনপির মিত্র ছিল; সেই দলগুলোর একটা অংশ জামায়াতের সঙ্গে জোট বেঁধেছে। আগে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির

প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতো; এবার ধর্মভিত্তিক দলগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে, যার নেতৃত্বে রয়েছে জামায়াত। প্রতিদ্বন্দ্বীর বদল ঘটেছে, যা প্রচারের ক্ষেত্রে বিএনপির জন্য একটা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

বিএনপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, শেষ সময় সামনে রেখে জোর প্রচারণা চালাচ্ছে দলটি। তবে বিপুলসংখ্যক বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে দলটির প্রার্থীদের। বিদ্রোহী প্রার্থীদের বহিষ্কার করা হলেও বেশ কয়েকজন প্রার্থী সমানতালে নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। এসব এলাকায় অনেকটাই কোণঠাসা বিএনপি ও বিএনপি জোটের প্রার্থীরা। দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি বিব্রতবোধ করলেও বিদ্রোহী প্রার্থীদের ভাষ্যÑ দীর্ঘদিন ধরে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে রাজনীতি করেছি। তাই বহিষ্কারে কিছু যায় আসে না। এলাকার মানুষ আমাদের মূল শক্তি। আশা করছি ভোটের ফল পক্ষেই আসবে। বিএনপির কেন্দ্রীয় একাধিক নেতা বলেছেন, যারা দলের সিদ্ধান্ত না মেনে এখনও প্রার্থী হয়ে ভোটে লড়ছেন, তাদের বিষয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হয়তো দুয়েক দিনের মধ্যে আরও কয়েকজন প্রার্থীকে দলের সিদ্ধান্ত মেনে নির্বাচন থেকে সরে যেতে পুনরায় নির্দেশনা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির অন্যতম সহ-সভাপতি ও দলটির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু আমাদের সময়কে বলেন, কিছু চ্যালেঞ্জ তো থাকবেই। তবে তরুণরা নির্বাচনে ভালো করবে। বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে দলীয় প্রার্থীর ভোটে প্রভাব পড়বে কি নাÑ এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, খুব একটা প্রভাব পড়বে না। প্রার্থীদের বিজয়ী হতে ধানের শীষ মার্কাটাই প্লাস পয়েন্ট হিসেবে কাজ করবে। এ ছাড়া খালেদা জিয়ার মৃত্যুজনিত আবেগ অনুভূতিও কাজ করবে ধানের শীষের পক্ষে। গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তীতে আরও কিছু ঘটনা আছে; সার্বিক বিবেচনায় আমার ধারণা বিএনপির প্রার্থীরাই এগিয়ে থাকবেন।

অনেকেই বলছেন, ডোর টু ডোর প্রচারণায় জামায়াতের তুলনায় পিছিয়ে আছে বিএনপি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, সামাজিক মাধ্যমে ধর্মান্ধদের প্রচারণার প্রভাব বেশি। তাছাড়া বিএনপি তো এনসিপি না; নির্বাচন সম্পর্কে বিএনপির তিন পুরুষ অবগত। নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে কিনাÑ এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে মতামত হলোÑ একটা অসুস্থ ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর সঙ্গে বিএনপিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে। যারা একসময় রগ কাটত; তাই কিছু কিছু সমস্যা তো থাকবেই। এর পরও নির্বাচনে বিএনপি ভালো করবে।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিএনপির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থী। প্রায় ৭৯টি আসনে দলটির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে ৪৬টি আসনে তারা শক্ত অবস্থানে। এসব আসনে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে জামায়াত জোট। ফলে এসব আসনে তারা ভালো করবেন বলে আশাবাদী। বিএনপি নেতারা জানান, বিদ্রোহী প্রার্থীদের দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও অন্তত ১০ থেকে ১৫ জনের জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে বিএনপি অনেক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও দখলবাজির মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। যদিও দলের কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নিয়েছে বিএনপি। এ পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার নেতাকর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। বিএনপিকে চাপে ফেলতে এ বিষয়টি নির্বাচনী প্রচারে সামনে আনছে জামায়াত। এটিও বিএনপিকে বড় চ্যালেঞ্জে ফেলেছে।

মোট ভোটারের এক-তৃতীয়াংশই তরুণ। তাদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আগ্রহও আছে। তাদের বিএনপি কতটা কাছে টানতে পারছেÑ এমন প্রশ্নের উত্তর মেলে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের কর্মসূচিতে। প্রতিদিনই তিনি অংশ নিচ্ছেন তরুণদের, বিশেষ করে সৃষ্টিশীল-চিন্তাশীল তরুণদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে।

বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটি সূত্রে জানা যায়, তরুণ ভোটারদের ধানের শীষের পক্ষে টানতে বিএনপি দলীয়ভাবেও বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। তরুণ ভোটাররাও ধানের শীষের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন। এবার নির্বাচনে ভোটের দিন প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে দলের পক্ষ থেকে যারা এজেন্ট হিসেবে কাজ করবেন তাদেরও ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনের নীতিমালা মেনে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এবার যাদের দলীয় প্রার্থীর এজেন্ট হিসেবে রাখা হচ্ছে, তারা সবাই সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার এবং স্থানীয়ভাবে অপেক্ষাকৃত গ্রহণযোগ্য।

নারী ভোটারদের উদ্বুদ্ধকরণে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানকে বিভিন্ন কর্মসূচিতে দেখা যাচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, জাইমা ও জুবাইদা রহমানের উপস্থিতিতে তরুণ ও নারী ভোটারের মাঝে একটা ইতিবাচক বার্তা যাচ্ছে। বিএনপি নেতারা মনে করেন, জামায়াতের নারী কর্মীরা দীর্ঘদিন থেকে তালিমসহ নানা সাংগঠনিক কর্মসূচি করছে। এক্ষেত্রে বলা যায়, তাদের প্রচার দীর্ঘদিনের। সেক্ষেত্রে বিএনপির নারী কর্মীরা পিছিয়ে এটা যেমন ঠিক; তার বিপরীতে বিএনপির তৃণমূল পর্যন্ত স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থক গোষ্ঠীও রয়েছে। এ ছাড়া দেশের নারী ও পুরুষ উভয় ভোটারের মাঝে সদ্য প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার বিপুলসংখ্যক ভক্ত-সমর্থন রয়েছেন। তার অনুপস্থিতিতে সেই জায়গা খালেদা জিয়ার পুত্রবধূ জুবাইদা ও নাতনি জাইমা কিছুটা হলেও পূরণে সচেষ্ট আছেন।

সামাজিক মাধ্যমে বিএনপিকে নিয়ে সত্য-মিথ্যার মিশ্রণে জামায়াত যে ন্যারেটিভ তৈরি করছে; এর বিপরীতে বিএনপি অনেকটাই পিছিয়ে। গ্রামীণ জনপদের মানুষও সামাজিক মাধ্যম দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে। তাই এটিও বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এক্ষেত্রে শুধু বিএনপিকে নয়; জামায়াতকেও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে নারী অধিকার বিষয়ে দলটির অবস্থান কী, সেটা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। দলটির আমিরের বক্তব্যও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ভোট পাওয়ার জন্য জামায়াত এখন উদারপন্থা অবলম্বন করছে বলে মনে করেন বিএনপি নেতারা। তারা মনে করেন, যদি কোনোভাবে ক্ষমতায় জামায়াত যায়; তাহলে তারা নারীদের ইস্যুতে উদারপন্থা দেখাবে না। তারা তাদের আগের নীতিতে ফিরে যাবে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের যে ভূমিকা ছিল; এই বিষয়টিও বিএনপি নেতারা প্রচারের ক্ষেত্রে সামনে আনছেন।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলছেন, নির্বাচন পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন, সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অথচ একটি বড় দলের অঙ্গুলি হেলনে সবকিছু হচ্ছে। এটি নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের অন্তরায়। তিনি আরও বলেন, আমরা কমিশনের আচরণবিধি মেনেই প্রচারণা চালাচ্ছি। নিয়ম ভঙের খেলায় মাতছি না। আমরা কমিশনের কাছে বারবার বলছি, অনেক এলাকায় প্রচার চালাতে বাধা, নেতাকর্মীদের ওপর চাপ এবং আমাদের নারীকর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে। এসব বিষয়ে কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। ভোটারদের কাছে প্রত্যাশিতভাবে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

জামায়াতের একাধিক নেতা বলছেন, নির্বাচনের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে ভোটারদের উপস্থিতি। বিরোধী রাজনৈতিক বাস্তবতা ও পূর্ব অভিজ্ঞতার কারণে সাধারণ ভোটারের মাঝে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটদান নিয়ে সংশয় রয়েছে বলে মনে করছে জামায়াত। দলটি মনে করছে, ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কম হলে সেটির প্রভাব তাদের ফলাফলে পড়তে পারে। বিশেষ করে নারী ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাধার বিষয়ে শঙ্কা রয়েছে দলটির। জামায়াতের ভাষ্য, জনগণের মধ্যে পরিবর্তনের আকাক্সক্ষা তৈরি হয়েছে এবং জনগণ যদি সুষ্ঠুভাবে ভোট প্রদান করতে পারে, তারা প্রত্যাশিত ফল পাবে। তাই শেষ সময়ের কৌশল হিসেবে ভোটারদের কেন্দ্রে আনতে শান্তিপূর্ণ প্রচার ও সাংগঠনিক সংহতিতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে জামায়াত।

জামায়াতের বিদ্রোহী প্রার্থীর বিষয়ে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, দলে কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী নেই। তবে দু-এক জায়গায় একটু সমস্যা আছে, সেগুলোরও সমাধান হয়ে গেছে। আমাদের জোটের অন্য দলের প্রার্থীর সঙ্গে তাদের মানিয়ে নিতে একটু সময় লাগছে। আশা করি, এটা কোনো সমস্যা হবে না।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি ও জামায়াতের ‘কেহ কারে নাহি ছাড়ে’ এমন অবস্থানের বিষয়ে রাজনীতি বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, বর্তমানে দেশের রাজনীতিতে প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তির দর্শন, আদর্শ ও কর্মপন্থা পরস্পর থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এ ভিন্নতা স্বাভাবিক এবং গণতন্ত্রের সৌন্দর্যেরই অংশ। তিনি বলেন, গণতন্ত্র রক্ষার প্রশ্নে প্রয়োজন হয় বৃহত্তর ঐক্য। ফ্যাসিবাদের বিলুপ্তি ঘটাতে হলে দলীয় ভেদাভেদ, অতীতের বিরোধ ও সংকীর্ণ রাজনৈতিক হিসাব ভুলে ন্যূনতম গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে সবাইকে একাট্টা হতে হবে। কারণ আধিপত্যবাদ কেবল কোনো একটি দলের প্রতিপক্ষ নয়, এটি পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থার শত্রু। গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে হলে উভয় পক্ষকেই সহনশীলতা দেখাতে হবে। পারস্পরিক সম্মানকে ফেরাতে হবে রাজনীতির কেন্দ্রে।