স্ত্রী-সন্তানের মৃত্যুর ৪ দিন পর মানবিক বিবেচনায় যশোর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন বাগেরহাটের ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান ওরফে সাদ্দাম।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) কারাগারে জামিনের আদেশ আসার পর বেলা ২টার দিকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।
যশোর জেলা প্রশাসকের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এবং সিনিয়র জেল সুপার (অ. দা.) আসিফ উদ্দীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুপুরে সাদ্দামের মুক্তি হয়ে গেছে। সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
সাদ্দামের ভাই শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রশাসন গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে নিষেধ করেছেন। সন্ধ্যায় বাড়ি পৌঁছার পর তার স্ত্রী ও সন্তানের কবর জিয়ারত করেছেন। সেখানে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। এ সময় শোকাতুর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
সাদ্দামের স্বজন ও কারা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেফতার হন জুয়েল হাসান সাদ্দাম। বাগেরহাট কারাগার থেকে ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে হস্তান্তর করে কারা কর্তৃপক্ষ। ২৩ জানুয়ারি বিকালে বাগেরহাটের বেখেডাঙ্গা গ্রামে সাদ্দামের নিজ বাড়ি থেকে তার স্ত্রী স্বর্ণালীর ঝুলন্ত এবং পাশে ৯ মাস বয়সি শিশু নাজিমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশের ধারণা, বিষণ্ণতা থেকে সন্তানকে হত্যার পর স্বর্ণালী আত্মহত্যা করেন। ২৪ জানুয়ারি প্যারোলে মুক্তি না পাওয়ায় সাদ্দামের মৃত স্ত্রী ও সন্তানের লাশ অ্যাম্বুলেন্সে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের গেটে নেওয়া হয়। কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতিতে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জেলগেটের ভেতরে মাত্র ৫ মিনিটের জন্য সাদ্দামকে তার স্ত্রী, সন্তানের লাশ দেখার সুযোগ দেওয়া হয়।