Image description
 

জামায়াতের নায়েবে আমির রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনের এমপি প্রার্থী এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, আওয়ামী লীগের নিজেদের বানানো ট্রাইব্যুনালে সাজানো সাক্ষী দিয়ে আমাকে ফাঁসি দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিল। কিন্তু মহান আল্লাহ যাকে রক্ষা করবেন তাকে মেরে ফেলার কারো সাধ্য নেই। আর মহান আল্লাহ যাকে যেভাবে শহীদের মর্যাদা দেবেন তাকে তিনি সেভাবেই গ্রহণ করবেন।

 

তিনি বলেন, মহান আল্লাহর রহমতে আপনাদের দোয়া ও ভালোবাসায় এবং ২৪ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আমি জেলখানার অন্ধকার কুটির থেকে আজ বের হতে পেরেছি। আপনারা সবাই জানেন আওয়ামী লীগ সরকার মিথ্যাভাবে সাজানো নাটকের মধ্য দিয়ে আমাদের নেতাদের ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়ে হত্যা করেছে।

 

বুধবার সন্ধ্যায় রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের বুড়ির পুকুর হাট স্কুল মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এটিএম আজহার বলেন, ৭১ সালে যুদ্ধ করার মতো বয়স আমার ছিল না। সবেমাত্র আমি স্কুল জীবন পার করেছি। তারপরেও আমাকে যুদ্ধাপরাধী বানানো হয়েছিল। কারণ একটাই আমরা ইসলামের পক্ষে কথা বলি। আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দিন ও রাসুলের আদর্শ প্রতিষ্ঠার কাজে আত্মনিয়োগ করে মানুষকে সেই পথে ডাকি। এটাই মূলত আমার অপরাধ।

তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সাজানো ট্রাইব্যুনালে আমার বিরুদ্ধে যারা সাক্ষী দিয়েছিল তারা কেউ বলেছিল বদরগঞ্জের ঝাড়ুদার বিলে আমি মানুষকে হত্যা করেছি। আর এই হত্যা করার ঘটনা কেউ দেখেছেন ৩ কিলোমিটার দূর থেকে, কেউ দেখেছেন ৬ কিলোমিটার দূর থেকে। আবার অনেক সাক্ষী বলেছেন ৯ কিলোমিটার দূর থেকে আমরা মানুষকে হত্যা করা দেখেছি।

এখন আপনারাই বলেন কেউ যদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকে আর সেই বিষয়ে যদি কেউ সাক্ষী দেয় তাহলে কত দূর এবং কত কাছ থেকে দেখে সাক্ষী দিতে হবে। ওই সময়ের ভুয়া সাজানো ট্রাইবুনাল এরকম মিথ্যা সাক্ষীদের সাক্ষ্যে আমার বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় দেওয়া হয়েছিল। তারা ১৪টি বছর অন্ধকার কুটিরে আমাকে বন্দী রেখে নানান রকম অত্যাচার ও নির্যাতন চালিয়েছে।

তিনি বলেন, আমি মুক্ত হয়ে আসার পরে সাক্ষীরা অনেকেই বলেছেন আওয়ামী লীগ সরকার তাদেরকে নানান প্রলোভনে আকৃষ্ট করে ভয়-ভীতি দেখিয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষী দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেছিল। যাই হোক আপনাদের দোয়া ও ভালবাসা এবং মহান আল্লাহর রহমতে আমি আপনাদের মাঝে ফিরে এসেছি।

এটিএম আজহার বলেন, এত অন্যায়-অত্যাচার জুলুম নির্যাতন গুম খুন এবং নেতাদের ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলানোর পরেও আমরা এই দেশ থেকে পালাইনি। কারণ আমাদের কোনো অন্যায়, দুর্নীতি, অনিয়ম, মানুষের ক্ষতি করার ইতিহাস নেই। যারা এদেশটাকে লুটপাট করার উদ্দেশ্যে ক্ষমতায় বসেছিল অন্য দেশের কথায় সরকার চালাতো তারা ঠিকই লুটপাট করে দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। অতএব সামনের নির্বাচনে আপনাদেরকে ন্যায় ইনসাফ এর পক্ষে ভোট দিয়ে দুর্নীতিবাজদের পরিহার করতে হবে।

তিনি বলেন, সামনে ১২ই ফেব্রুয়ারি আপনারা সকাল-সকাল ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ন্যায়ের প্রতিক, দুর্নীতিবাজদের আতঙ্ক, দেশ গড়ার কারিগর ১১ দলের রংপুর দুই আসনের দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দেওয়ার পাশাপাশি গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে সিল মারবেন।

গোপীনাথপুর ইউনিয়নের সভাপতি মহিবুল ইসলামের সভাপতিত্বে এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন এনসিপির বদরগঞ্জ উপজেলা সভাপতি মাসুদ হাসান, উপজেলা আমির কামরুজ্জামান, নায়েবে আমির শাহ রুস্তম আলী সেক্রেটারি মেরাজুল সহ ১১ আদলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ।