Image description

কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়ন বাতিল হওয়া নিয়ে নানা নাটকীয়তার মাঝেই তার ছেলে রেজভি উল আহসান মুন্সীর চাঁদাবাজি ও ৩২৬ ধারায় নিজের কর্মীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর নির্দেশের কয়েকটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

গত কয়েকদিন ধরেই ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে এসব অডিও ছড়িয়ে পড়ে। জানা গেছে, রেজভি উল আহসান মুন্সী কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক। তার বাবা ইঞ্জি. মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে বিএনপির প্রার্থী। তবে ঋণখেলাপীর কারণে নির্বাচনে অযোগ্য হয়ে পড়েছেন তিনি। তবে তিনি উচ্চ আদালতে আপিল করেছেন। এর আগে, তিনি এ আসনের চার চার বারের এমপি ছিলেন।

সুমন নামে এক ব্যক্তির কাছে পাঠানো অডিওগুলোতে তাকে বলতে শোনা গেছে, ‘আসসালামু আলাইকুম সুমন, কালকে তো শনিবার, সানডে ব্যাংক যখন খুলবে, তুমি একটা কাজ আছে বলছিলা, পাঁচ লাখ হাতে ক্যাশ নিয়ে আমি তোমাকে বলে দেব কোথায় এটা পৌছাতে হবে, বুঝছো? আর তুমি যদি সানডে ব্যাংকিং আওয়ারের মধ্যে না দিছো আমাদেরকে চিন্তা করাতে হবে, তোমার ব্যাপারে মামলাও হতে পারে। আরও অনেক কিছ্ইু হতে পারে, সবাই এখন আসতেছে তো। এক হচ্ছে তো তোমার ধান্ধার, যেটা তুমি করো, ওটা আমি মিস করব না, দেবিদ্বারবাসী মিস করবে না, আমাদের সংগঠনও মিস করবে না, যাই হোক যেটা বললাম পাঁচটা কার্ড আনবা পাঁচটা কার্ড মানে কিন্তু পাঁচটা ডিম না পাঁচটা কার্ড। পরুশু দিন মানে সানডে ব্যাংকিং আওয়ারের মধ্যে যদি না হয় অ্যাই’ম সরি দেবিদ্বারের রাজনীতি....! 

অপর আরেকটি অডিও তাকে বলতে শোনা গেছে, আইনি সহায়তা আর্মিতে-পুলিশে মামলা করো, থানায়। এমনি এমনি মামলা করলে হবে না, ৩২৬ লাগবে, ৩২৬ যদি প্রমাণ না করতে পারো একটি হিরোইনসি লও, ওরে এক হাজার টাকা দাও, ওর হাতে কোপ দাও ৮/১০ টা সেলাই দাও, ৩২৬ করাও, রিমন, সুমন মতিন (ভাষা খারাপ) যা আছে সবগুলোরে ধরাই দাও, কিন্তু ৩২৬ লাগবে মিনিমাম, না হলে মামলা করে কোন লাভ নাই।

এদিকে দুটি অডিও ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনরা এ নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের নেতাকর্মীরা বলেন, রেজভির বেসামাল আচরণ দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছে। দলের ত্যাগী নেতাদের অনেকেই মুন্সিকে ছেড়ে চলে গেছেন। যারা আছেন তারাও অনেকটা নিস্ক্রিয়।

এ বিষয়ে মো.সুমন বলেন, আমার কাছে পাঁচ লক্ষ টাকা চেয়েছেন উনি, পরে আমি তাকে এটা হ্যান্ডক্যাশ দিয়েছি। 

ভাইরাল হওয়া অডিও ফাঁস হওয়ার বিষয়ে রিজভী উল আহসান মুন্সীর বক্তব্য জানতে তাকে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।