জমে উঠেছে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের নির্বাচন। প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। এ আসনটি বিএনপির ভোট ব্যাংক হিসেবে পরিচিত । কিন্তু ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপি তাদের প্রার্থী দেয়নি। তারা সমর্থন দিয়েছে জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীকে।
একই পথে হেঁটেছে জামায়াতে ইসলামীও। তারাও এ আসনে এনসিপির প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিনকে সমর্থন জানিয়েছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আনোয়ার হোসেন আছেন ময়দানের লড়াইয়ে। বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হিসেবে এ আসনে লড়ছেন মুফতি ইসমাইল সিরাজী। এ আসনে জাতীয় পার্টি প্রার্থী হিসেবে লুৎফর রহমান খোকা নির্বাচনে নাম লেখালেও তাকে মাঠে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
লড়াইয়ের ময়দানে এনসিপি প্রার্থী আল আমিন ছাড়াও বিএনপি জোট প্রার্থীর প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন স্বতন্ত্র দুই হেভিওয়েট প্রার্থী। এরা হলেন— বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিন ও বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শাহ আলম । এছাড়াও কাসেমীকে চোখ রাঙাচ্ছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি মোহাম্মদ আলী। বিএনপির সাবেক এ প্রভাবশালী নেতা লড়াই করছেন বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির হয়ে।
২০০১ সালে নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দিয়ে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন গিয়াসউদ্দিন। আর ২০০৮ সালে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছিলেন শাহ আলম। তবে এবারের নির্বাচনে এ দুইজনকে টপকে জোটের মনোনয়ন পেয়ে যান মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী। যার কারণে দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে এ দুই নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। তারা দুজনই বিএনপির ভোটে বড় একটি প্রভাব ফেলবে। বিএনপির সাবেক এক নেতা আলী লড়াইয়ে থাকায় তিনিও বিএনপির একটি অংশের ভোট নিজের বাক্সে ভরে নিতে পারেন। বিএনপির ভোট যখন তিন ভাগে, তখন ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী এনসিপির আল আমিন ছিলেন সুবিধাজনক অবস্থানে। জোট করলেও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আনোয়ার রয়েছেন ভোটের ময়দানে।
ফলে এনসিপি প্রার্থীও আছেন বেকায়দায়। জোটের ভোট ভাগ হলেও নিজের জয় নিয়ে শতভাগ আশাবাদী মনির হোসাইন কাসেমী। এখানে বিএনপির ভোটে কেউ ভাগ বসাতে পারবে না। বিএনপির সব নেতাকর্মীরা আমার হয়ে মাঠে নেমেছেন। জনগণ আমাকে ভোট দিতে মুখিয়ে আছে। আমি জনগণের বিপুল সমর্থন নিয়ে জয় পাব। স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ আলম নিজেকে জনগণের প্রার্থী উল্লেখ করে বলেন, জনগণ বিগত তিনটি নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দিতে পারেননি।
এবার তারা ভোট দিতে চেয়েছিল। কিন্তু দল এখানে জোটের প্রার্থী দিয়েছে, যা দেখে সবাই হতাশ। তাই জনগণ ও নেতাকর্মীদের অনুরোধে আমি প্রার্থী হয়েছি। আশা করি সবার ভোটে আমি নির্বাচিত হতে পারব। এনসিপি প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, জনগণের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। আশা করি বিপুল ভোটে জয় পাব। বাংলাদেশ রিপালিকান পার্টির প্রার্থী আলী বলেন, হাতি প্রতীকে নির্বাচন করলেও আমি সবার প্রার্থী। ফতুল্লার উন্নয়নের কারণেই জনগণ আমাকে নির্বাচিত করবে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আনোয়ার হোসেন বলেন, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন ১০ দলীয় জোটের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। আমাকে আমার দল থেকে মনোনয়ন দিয়েছে।