দীর্ঘ ২২ বছর পর মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ময়মনসিংহের মাটিতে পা রাখবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অপরদিকে এক বছর পর যশোরে আসছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। দুজনে দুই জেলায় নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেবেন। তাদের আগমন ঘিরে দুই জেলার নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।
বিএনপি সূত্রে জানা যায়, বিকাল ৩টায় ময়মনসিংহের ঐতিহাসিক সার্কিট হাউজ মাঠে জনসভায় বক্তব্য রাখবেন তারেক রহমান। তার আগমন ঘিরে উচ্ছ্বসিত নেতাকর্মীরা। এর আগে ২০০৪ সালে বিএনপির ইউনিয়ন প্রতিনিধির একটি কর্মসূচিতে অংশ নিতে ময়মনসিংহ এসেছিলেন তিনি।
স্থানীয় নেতারা বলছেন, জনসভায় তিন-চার লাখ মানুষের সমাগম ঘটবে। সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে বিভিন্ন জেলা থেকে নেতাকর্মীরা এসেছেন। আর স্থানীয় নেতাকর্মীরা সকাল থেকে বিকালের মধ্যে সার্কিট হাউজ মাঠে জড়ো হবেন। সেভাবে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
জেলা যুবদলের সহসভাপতি জামিলুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দলের শীর্ষ নেতা তারেক রহমানকে কাছ থেকে দেখতে অপেক্ষার প্রহর গুনছি আমরা। তার মুখে অবহেলিত ময়মনসিংহ অঞ্চলের নানা উন্নয়নের পরিকল্পনা শুনবো। তিনি যেভাবে জনসমাবেশে মানুষকে কাছে টেনে নিচ্ছেন এটা বিরল। নেতার আগমনে ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায় থেকে নেতাকর্মীরা আসছেন। এ ছাড়া বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকেও নেতাকর্মীরা এসেছেন।’
তারেক রহমানের আগমন ঘিরে উচ্ছ্বসিত নেতাকর্মীরা
ময়মনসিংহ বিভাগীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জনসভার সব প্রস্তুতি শেষ। আমরা আমাদের নেতাকে বরণ করতে সর্বোচ্চটুকু করেছি। সব ইউনিটকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সমাবেশ শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগেই মিছিল নিয়ে মাঠে প্রবেশ করবে সবাই। জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।’
ময়মনসিংহ বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল আলম বলেন, ‘সড়কপথে এসে বিকাল ৩টায় তারেক রহমান সার্কিট হাউজের সমাবেশে যোগ দেবেন। এর আগে ২০০৪ সালে তারেক রহমান এসেছিলেন। তার আগমনকে ঘিরে আমরা উচ্ছ্বসিত। সার্কিট হাউজ মাঠে কয়েক লাখ মানুষের সমাগম ঘটবে। সেভাবে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি আমরা।’
যশোরে জামায়াতের আমির
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রচারণার অংশ হিসেবে যশোরে আসছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টায় শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে জনসভায় বক্তব্য দেবেন। জামায়াত আমিরের আগমন ঘিরে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
দলীয় নেতারা বলছেন, তার আগমন ঘিরে নেতাকর্মীরা উচ্ছ্বসিত। এর আগে ২০২৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর দলীয় সম্মেলনে যশোরে এসেছিলেন ডা. শফিকুর। এক বছর এক মাস পর আবার আসছেন। এখানে দলের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেবেন এবং তাদের জন্য ভোট চাইবেন।
জামায়াত আমিরের আগমন ঘিরে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন
এই জনসভায় অন্তত তিন লাখ মানুষের উপস্থিত হওয়ার প্রত্যাশা করছেন বলে জানিয়েছেন জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল।
তিনি জানান, নির্বাচনের আগে জামায়াত আমিরের আগমন ঘিরে নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত। তিনি যশোরে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি দাঁড়িপাল্লা ও জোটের দলীয় প্রতীক তুলে দেবেন। জনগণের ভোটের মাধ্যমে জামায়াত ক্ষমতায় গেলে যশোরের সমস্যাগুলো সমাধানে নানা পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। জনসভা জনসমুদ্রে রূপ নেবে।
গোলাম রসুল বলেন, ‘যশোর অবিভক্ত প্রথম জেলা হিসেবে বিভাগ হওয়ার দাবিদার। দীর্ঘদিন ধরে যশোরের দুঃখখ্যাত ভবদহ সমস্যা সমাধানে জামায়াত আমিরের কাছে দাবি জানাবো। যশোরে উন্নতমানের হাসপাতাল ও ৫০০ শয্যার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের দাবি উঠাবো। সবমিলিয়ে জেলার উন্নয়নে জামায়াত আমির দলের পরিকল্পনার কথা জানাবেন।’