Image description
 

ডাকসু নিয়ে জামায়াত নেতার কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য জামায়াতি রাজনীতির চরম দেউলিয়াপনার বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) নিজ ভেরিফায়েড ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সম্পর্কে জামায়াত নেতা মো. শামীম আহসান যে ‘মাদকের আড্ডাখানা ও বেশ্যাখানা’ বলার মতো কুরুচিপূর্ণ, দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন, তা কেবল ডাকসুকে অপমান নয়, বরং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারও বর্তমান-সাবেক শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং এ দেশের গৌরবোজ্জ্বল উচ্চশিক্ষার ইতিহাসকেই চরমভাবে অপমানিত করেছে।”

ডাকসু এ দেশের গণতান্ত্রিক ছাত্ররাজনীতির সূতিকাগার উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন—প্রতিটি ঐতিহাসিক অর্জনে ডাকসুর ভূমিকা স্বর্ণাক্ষরে লেখা।

সেই প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে এমন অশালীন ভাষা ব্যবহার জামায়াতি রাজনীতির চরম দেউলিয়াপনার বহিঃপ্রকাশ।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার নারী শিক্ষার্থীকে নিয়ে এমন কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য স্পষ্ট পদ্ধতিগত নারী-বিদ্বেষ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। জামায়াত নেতার এই বক্তব্যে অবাক হওয়ার কিছু নেই মন্তব্য করে তিনি লেখেন, ‘কারণ নিমগাছে কখনো আম ফলে না। যাদের রাজনৈতিক ডিএনএতে নারী-বিদ্বেষ, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ইতিহাস লেগে আছে, তাদের মুখ থেকে এর চেয়ে ভালো কিছু আশা করা যায় না।

১৯৭১ সালে এই সংগঠনের নেতাকর্মীরাই পাকিস্তানি হায়েনাদের সঙ্গে মিলে এ দেশের লাখ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির সহযোগী হয়েছিল। জনসভায় দাঁড়িয়ে এই ধরনের কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য মূলত তাদের সেই পুরনো অন্ধকার ও নারী-বিদ্বেষী মানসিকতারই নগ্ন বহিঃপ্রকাশ।’
তিনি লেখেন, ‘স্পষ্ট করে বলতে চাই, বিশ্ববিদ্যালয় কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী কিংবা ব্যক্তির আধিপত্য প্রদর্শনের আখড়া নয়; এটি মুক্তবুদ্ধি, বিজ্ঞানমনস্কতা ও গণতান্ত্রিক চর্চার কেন্দ্র। তাই সর্বমিত্র চাকমার এই ধারাবাহিক স্বেচ্ছাচারিতামূলক, বেআইনি ও মানবাধিকারবিরোধী কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই।

শীর্ষনিউজ