Image description
 

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আসন ভাগাভাগি নিয়ে সৃষ্ট তীব্র বিরোধের জেরে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে বড় ধরনের ভাঙনের সংকেত পাওয়া যাচ্ছে। মূলত চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের অতিরিক্ত আসন দাবির মুখে জোটবদ্ধ নির্বাচনের ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। দফায় দফায় বৈঠক করেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পারায় দল দুটি জোট থেকে বেরিয়ে আলাদাভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

 

জামায়াতে ইসলামী তাদের শরিকদের জন্য ৪০টি আসন ছেড়ে দিতে রাজি হলেও এতে সন্তুষ্ট নয় চরমোনাই পীরের দল। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দাবি, দেশব্যাপী তাদের যে বিশাল ভোটব্যাংক রয়েছে, সেই অনুযায়ী তারা আরও বেশি আসন পাওয়ার যোগ্য। জামায়াত সমঝোতার স্বার্থে ৪০টি আসনের বাইরে আরও কিছু আসন উন্মুক্ত রাখার প্রস্তাব দিলেও চরমোনাই পীর তাতে সায় দেননি। অন্যদিকে, মাওলানা মামুনুল হকের দলও তাদের সাংগঠনিক শক্তির চেয়ে বেশি আসন দাবি করায় জামায়াতের সঙ্গে তাদের বনিবনা হচ্ছে না। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, গত মঙ্গলবার ১১ দলের যৌথ ঘোষণা দেওয়ার কথা থাকলেও তা ভেস্তে গেছে।

জোটের এই টানাপোড়েনের নেপথ্যে জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে গঠিত এনসিপি, অলি আহমদের এলডিপি এবং এবি পার্টির অন্তর্ভুক্তিকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই নতুন তিন দল জোটে আসার পর থেকে পুরনো ইসলামি শরিকদের গুরুত্ব ও দরকষাকষির ক্ষমতা কমে গেছে বলে তারা মনে করছে। বিশেষ করে জামায়াত যখন এনসিপিকে ৩০টি আসন ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দেয়, তখন থেকেই ইসলামি দলগুলোর মধ্যে ভাগে কম আসন পাওয়ার ভয় জেঁকে বসে। এনসিপি আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতের প্রস্তাব মেনে নিলেও চরমোনাই ও মামুনুল হকের দল এখনো নিজেদের দাবিতে অনড়।

 

আসন সমঝোতার প্রাথমিক ধাপে জামায়াতে ইসলামী কৌশলগত কারণে চরমোনাই পীর ও মামুনুল হকের দলের প্রার্থীদের বিপরীতে এক ডজনেরও বেশি আসনে কোনো প্রার্থী দেয়নি। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই দল দুটি এখন আরও বেশি আসন আদায়ে জামায়াতকে চাপে রাখছে। ৩০০ আসনের বিপরীতে বর্তমানে জোটের প্রায় ৬০০ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। জোটের পক্ষ থেকে একে সময়স্বল্পতার কারণ হিসেবে দাবি করা হলেও মূলত আসন চূড়ান্ত করা নিয়েই মূল জটিলতা তৈরি হয়েছে। শরিকদের মধ্যে এই দূরত্ব বজায় থাকলে শেষ পর্যন্ত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াতকে হয়তো তার প্রধান ইসলামি শরিকদের ছাড়াই মাঠে নামতে হতে পারে।