Image description

জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় নির্বাচনি জোটের আসন সমঝোতা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বিভিন্ন দলের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা অব্যাহত আছে। বিশেষ করে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে আসন সমঝোতা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে আলাপ-আলোচনা চলছে। অনেক আসনে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করতে হিমশিম খাচ্ছেন নেতারা। আসনভিত্তিক দলীয় অবস্থান বিশ্লেষণ করতে বিলম্ব হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এ নিয়ে শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের পরই আনুষ্ঠানিকভাবে ৩০০ আসনে একক প্রার্থী ঘোষণার কথা রয়েছে।
তবে এখনো সেই বৈঠকের দিনক্ষণ ঠিক হয়নি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় সব দলই বেশ অস্থিরতা বিরাজ করছে। মনোনয়নপত্র * প্রত্যাহারেরও আর মাত্র ১০ দিন বাকি। এর আগেই সব সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে হবে। তবে দুয়েক দিনের মধ্যেই সমঝোতার বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


সূত্রমতে, দীর্ঘদিনের প্রক্রিয়ার পর আসন বণ্টন চূড়ান্ত না করেই গত ২৮ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলনে ১০ দলীয় নির্বাচনি সমঝোতার ঘোষণা দেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। পরে আরো একটি দল যুক্ত হয়ে ১১ দলীয় সমঝোতায় রূপ নেয়। অন্য দলগুলো হলো-সলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় নাগরিক পাটি (এনসিপি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), খেলাফত আন্দোলন, আমার বাংলাদেশ পাটি (এবি পার্টি), নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পাটি (জাগপা) এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পাটি (বিডিপি)।


আসন বণ্টন চূড়ান্ত না হওয়ায় শেষ মুহূর্তে জামায়াত ২৭৬টি আসনে, ইসলামী আন্দোলন ২৬৮টি, এনসিপি ৪৭টি, এবি পাটি ৫৩টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৯৪টি, খেলাফত মজলিস ৭৪টি, এলডিপি ২৪টি, খেলাফত আন্দোলন ১১টি, নেজামে ইসলাম পার্টি ছয়টি, জাগপা তিনটি এবং বিডিপি দুটি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়।


সূত্রমতে, সমঝোতার ভিত্তিতে জামায়াতে ইসলামী অন্তত ১৯০টি আসনে নির্বাচন করতে চায়। এ প্রক্রিয়ায় ইসলামী আন্দোলনকে ৪০টি, এনসিপিকে ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ১৫টি, খেলাফত মজলিসকে সাতটি, এলডিপিকে সাতটি, এবি পাটিকে তিনটি এবং বিডিপিকে দুটি আসন ছাড় দেওয়ার আলোচনা চলছে।


তবে ইসলামী আন্দোলনসহ প্রায় সব দলের বাড়তি আসনে নির্বাচনের প্রত্যাশা রয়েছে। এ নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন নেতাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা। এ দুটি দলের সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার পরই অন্যগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানা গেছে।


এ বিষয়ে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুস আহমদ আমার দেশকে বলেন, আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলমান। আমরা চূড়ান্তের কাছাকাছি পৌঁছেছি। আরো দুয়েক দিন লাগতে পারে। তবে দলটির আরেক নেতা জানান, সমঝোতা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কিছু হয়নি। আমরা আজ (রোববার) পর্যন্ত অপেক্ষা করে আমাদের মতো সিদ্ধান্ত নেব। চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচনি প্রস্তুতি নিয়ে গতকাল শনিবার দলের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের সভাপতিত্বে শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।


খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক আব্দুল জলিল জানান, আসন সমঝোতা নিয়ে ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের কোনো বৈঠক এখনো হয়নি। কবে হবে তারও কোনো দিনক্ষণ জানানো হয়নি। চূড়ান্ত ঘোষণার আগে অবশ্যই এ বৈঠক হবে। এখন বিভিন্ন দলের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হচ্ছে। আশা করি, দ্রুতই সমাধান হয়ে যাবে।


এদিকে জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতার ঘোষণা আগামী দুয়েক দিনের মধ্যে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।


জানা গেছে, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ওমরাহ পালন শেষে শনিবার দেশে ফিরছেন। সমঝোতার আলোচনা চূড়ান্ত হলে তার নেতৃত্বে ১১ দলীয় শীর্ষ নেতাদের বৈঠক হবে।


জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ জানিয়েছেন, সব দলের নেতাদের সুবিধাজনক সময় পাওয়া না যাওয়ার কারণে একসঙ্গে বৈঠক করা যাচ্ছে না। তবে কিছুদিনের মধ্যেই সেইবৈঠক হবে। এরপর আসন সমঝোতার বিষয়টি চূড়ান্ত হবে। সূত্রমতে, শেষ পর্যন্ত কিছু আসনে সমঝোতা নিয়ে জটিলতা হলে সেগুলোতে একাধিক দলের প্রার্থী রাখার সিদ্ধান্ত হতে পারে।