আসন সমঝোতায় বিলম্বের কারণে থমকে আছে জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন, এনসিপিসহ সমমনা ১১ দলের নির্বাচনী তৎপরতা। প্রার্থিতা চূড়ান্ত না হওয়ায় প্রচার-প্রচারণায় মনোযোগী হতে পারছেন না এই জোটের প্রার্থীরা। অথচ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনী কাউন্ট-ডাউন। বাকি আছে আর মাত্র এক মাস। নেতারা দ্রুতই আসন সমঝোতা হবে বলে বক্তব্য দিলেও অন্দরে জটিলতা কাটছে না বলে সূত্র জানিয়েছে। বিশেষ করে জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মধ্যে আসন সমঝোতার জটিলতা এখনো ঘুরপাক খাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ইসলামী আন্দোলন এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সঙ্গে জামায়াতের কয়েক দফা বৈঠক হলেও আসনের বিষয়ে সুরাহা হয়নি।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা ইউসুফ আশরাফ বলেন, আলোচনা চলমান ঠিক, তবে তার গতি মন্থর। তিনি বলেন, সমঝোতা চূড়ান্ত না হওয়ায় ১১ দলের প্রার্থীরা নির্বাচনী এলাকায় কাজ করতে পারছেন না। কারণ কে কোন আসনে নির্বাচন করবেন তা এখনো ঝুলন্ত অবস্থায় আছে। অথচ সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে।
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর জামায়াত ২৭৬টি আসনে এবং ইসলামী আন্দোলন ২৬৮টি আসনে প্রার্থী মনোনয়ন দেয়। এর পাশাপাশি এনসিপি ৪৭টি, এবি পার্টি ৫৩টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৯৪টি, খেলাফত মজলিস ৬৮টি, এলডিপি ২৪টি, খেলাফত আন্দোলন ১১টি, নেজামে ইসলাম পার্টি ৬টি, জাগপা ৩টি এবং বিডিপি ২টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়।
সূত্র মতে, জামায়াত ১৯০টি আসন নিজেদের জন্য রেখে ইসলামী আন্দোলনকে ৪০টি, এনসিপিকে ৩০টি আসন দিতে চাচ্ছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ১৫টি, খেলাফত মজলিসকে ৭টি, এলডিপিকে ৭টি, এবি পার্টিকে ২টি এবং বিডিপিকে ২টি আসন ছাড় দিতে চায়। তবে ইসলামী আন্দোলন ৪০ আসনে সন্তুষ্ট নয়। তারা আরও কয়েকটি আসন দাবি করছে। যেসব আসনে জামায়াত ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসেরও শক্তিশালী প্রার্থী আছে।
এদিকে এনসিপি যখন আসন সমঝোতার আলোচনায় যুক্ত হয়, তখন তাদের ৩০ আসনে ছাড় দেয়া হবে, এমন আশ্বাস দেয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছিলেন দলটির নেতারা। তবে এরপর আসন কিছুটা কমতে পারে, এমন আলোচনা শোনা যায়। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২৫-৩০টি আসন চায়। সমঝোতা আলোচনার সর্বশেষ বৈঠকে দলটিকে ১৩টি আসন দেয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। সমঝোতা না হওয়া আসনগুলোর কয়েকটিতে ছাড় চায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।
শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশিত আসনে ছাড় না পেলে সমঝোতা না হওয়া আসনগুলোয় প্রার্থী না সরানোর ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। দলটির দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, সমঝোতায় সময় ক্ষেপণে ইতিমধ্যে ১১ দলীয় জোটে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রার্থী- প্রতীক চূড়ান্ত না হওয়া বেকায়দায় আছেন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীরা।
সূত্র জানায়, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি এবং জাগপার বিষয়ে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিসের মতো দলগুলোর সঙ্গে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার পর এই তিন দলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সে ক্ষেত্রে প্রতিটি দল এক বা দু’টি আসন করে ছাড় পেতে পারে বলে জানা যায়।
জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে শনিবার দেশে ফিরেছেন। ১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির সমঝোতার আলোচনা চূড়ান্ত হলে তার নেতৃত্বে শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে চূড়ান্ত বৈঠক হবে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ওয়ান বক্স পলিসিতে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করতে গত কয়েক মাসে দফায় দফায় বৈঠক করে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)। পরবর্তীতে ২৮শে ডিসেম্বর এই সমঝোতায় যুক্ত হয় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এবং আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।