Image description

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা নানা বিতর্ক ও অপপ্রচারের জবাব দিয়েছেন ছাত্রদল-ছাত্র অধিকার সমর্থিত প্যানেলের জিএস প্রার্থী খাদিজাতুল কুবরা। বৃহস্পতিবার রাতে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি তার রাজনৈতিক অবস্থান এবং তাকে নিয়ে ঘটা বিতর্কিত ঘটনাগুলোর ব্যাখ্যা দেন।

 

নির্বাচন পরবর্তী সময়ে খাদিজাতুল কুবরাকে ধর্মবিদ্বেষী হিসেবে চিহ্নিত করে অনলাইনে যে ট্রল ও কটূক্তি চলছে, সে বিষয়ে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। লাইভে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন যে ছাত্রদল কখনো ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করে না এবং পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে তিনি দল ছেড়ে যাবেন না। বরং দলকে সংগঠিত করতে তিনি কাজ করে যাবেন।

গত ৩০ ডিসেম্বর জকসু নির্বাচন স্থগিতের দিন ভিসি ভবনের সামনে আন্দোলন চলাকালে 'আল্লাহু আকবর' স্লোগান দেওয়ার সময় মাইক কেড়ে নেওয়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। এই প্রসঙ্গে খাদিজা দাবি করেন যে ভিডিওটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এডিট করা হয়েছে। তিনি বলেন যে সেদিন কোনো দলীয় স্লোগান দেওয়ার মতো পরিস্থিতি ছিল না এবং ভিডিওতে এটি স্পষ্ট যে তিনি নিজে মাইক ধরেননি। তাকে রাজনৈতিকভাবে হেনস্তা করতেই 'নাস্তিক' বা 'ধর্মবিদ্বেষী' তকমা দিয়ে ভিক্টিম কার্ড খেলা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

 

ছাত্রদলের হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের কারণ হিসেবে খাদিজা ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতৃত্ব নির্বাচনের দৃষ্টিভঙ্গিকে দায়ী করেন। তিনি জানান যে শিবিরের পক্ষ থেকে তার সাথে যোগাযোগ করা হলেও তারা তাকে ভিপি, জিএস বা এজিএস-এর মতো শীর্ষ পদের যোগ্য মনে করেনি। নারীদের নেতৃত্ব সম্পর্কে শিবিরের এই বৈষম্যমূলক আচরণের কারণেই তিনি ছাত্রদলের আদর্শকে বেছে নিয়েছেন বলে দাবি করেন।

 

খাদিজা অভিযোগ করেন যে ৩০ ডিসেম্বরের আগে তাকে থামানোর কোনো উপায় না পেয়ে অসাধু চক্র ধর্মকে ব্যবহার করে অপপ্রচার চালিয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল কোনো চাঁদাবাজিতে লিপ্ত নয় এবং তারা স্বচ্ছ রাজনীতিতে বিশ্বাসী। পদের লোভে নয়, বরং শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে কাজ করতেই তিনি রাজনীতিতে এসেছেন বলে লাইভে পুনর্ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে স্থগিত হওয়া জকসু নির্বাচন পুনরায় অনুষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়।