কিশোরগঞ্জ ২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসন থেকে বিএনপির সাবেক দুইবারের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব:) আখতারুজ্জামান রঞ্জন নানা কর্মকাণ্ডের কারণে জাতীয় রাজনীতিতে আলোচিত ব্যক্তি। এর মধ্যে ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি দলীয় শৃঙ্খলা-পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পঞ্চমবারের মতো বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হন তিনি। সম্প্রতি জামায়াতে যোগ দিয়ে ফের আলোচনায় আসেন সাবেক এই বিএনপি নেতা। নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলেও বর্তমানে জামায়াতের পক্ষে টকশোতে আলোচনা ও রাজনৈতিক সভায় বক্তব্য দিয়ে সরব রয়েছেন।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে ফের আলোচনায় আখতারুজ্জামান পরিবার। জাতীয় নির্বাচনে আখতারুজ্জামানের বড় ছেলে শাহরিয়ার জামান খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হয়েছেন এবং বড় ভাই স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আনিসুজ্জামান খোকন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। একই পরিবারের আপন দুই ভাই এবং ছেলের ত্রিমুখী রাজনীতি এই আসনের ভোটারদের মধ্যে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেউ একে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক রূপ বলছেন, আবার কেউ বলছেন আদর্শ বিভাজনের বাস্তবতা।
স্বতন্ত্র প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা আনিসুজ্জামান খোকন একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ। তিনি ১৯৭৯ সালে ময়মনসিংহ-১৯ আসন থেকে বিএনপির সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তৎকালীন সময়ে তিনি বিএনপির গণশিক্ষা বিষয়ক সহ-সম্পাদক এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একান্ত ব্যক্তিগত সহকারী সেক্রেটারি (পিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১১ নম্বর সেক্টরে কর্নেল আবু তাহেরের অধীনে কোম্পানি কমান্ডার হিসেবে সম্মুখ সমরে অংশ নেন।
আনিসুজ্জামান খোকন বলেন, জিয়াউর রহমানের সময় আমি ময়মনসিংহ-১৯ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলাম। জিয়ার মৃত্যুর পর বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনীতিতে নিয়ে আসার ক্ষেত্রেও আমার ভূমিকা ছিল। পরবর্তীতে আমি যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাই, তবে দীর্ঘ ৪০ বছরেও আমেরিকার নাগরিকত্ব গ্রহণ করিনি।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই নির্বাচনে আমার জয়ের সম্ভাবনা নেই।
এদিকে কিশোরগঞ্জ ২ আসন থেকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মনোনয়ন প্রথমে দেওয়া হয় শফিকুল ইসলাম রুহানিকে ৷ কয়েক মাস তিনি প্রচার-প্রচারণা চালান। পরে মনোনয়নপত্র দাখিলের আগ মুহূর্তে প্রার্থী পরিবর্তন করে শাহরিয়ার জামানকে দেওয়া হলে তিনি মনোনয়নপত্র দাখিল করেন৷
মো. শাহরিয়ার জামান জানান, কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে মনোনয়ন পেয়েছি। নতুন প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে আমি কাজ করতে চাই। দল যে সিদ্ধান্ত নিবে আমি সেইটা মেনে নেব। বড় চাচা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করবে। চাচা দীর্ঘদিন রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, তিনি নির্বাচন করতেই পারেন। একই পরিবারের দুইজন প্রার্থী সেইটাকে সমস্যা হিসাবে দেখছি না। ভোটাররা যাকে রায় দেবে সেটা মেনে নেব।
বিএনপি থেকে জামায়াতে যোগদানকৃত মেজর অব: আখতারুজ্জামান রঞ্জন বলেন, আমি নিজে এবার নির্বাচন করছি না। গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে যে কেউ নির্বাচন করতে পারে। সে হিসাবে আমার ছেলে ও ভাই নির্বাচন করছে এটি দোষের কিছু নাই। ভাইয়ের বিষয় বলতে পারি না।