Image description

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এর কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন আগামী ২০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। 

 

নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্যাম্পাসজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশে সব প্যানেলই নির্বাচন আচরণবিধি মেনে প্রচারণা চালাচ্ছে।

 

শীতকালীন ছুটির কারণে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও ভোটার উপস্থিতি কমে যাওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তা পিছিয়ে ২০ জানুয়ারি নির্ধারণ করে। 

 

ছুটিকালীন সময়ে প্রার্থীরা অনলাইনে প্রচার চালালেও বর্তমানে মাঠপর্যায়ে সরাসরি প্রচারণা জোরদার হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর, ফুডকোর্ট, গিফারি চত্বর, অর্জুনতলা এবং বি ও ই ভবনের টং এলাকা সহ পুরো ক্যাম্পাসেই বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীদের সক্রিয় উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

 

প্রার্থীরা শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রচারপত্র বিতরণ করছেন, তুলে ধরছেন নিজেদের ব্যালট নম্বর ও পরিচিতি। পাশাপাশি ক্লাস শেষে কিংবা ক্যাম্পাসে আড্ডার ফাঁকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে নিজেদের নির্বাচনি অঙ্গীকার তুলে ধরছেন।

বৃহস্পতিবার শীতের সকাল থেকেই ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল ‘সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্রচারণায় নামে। সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী মুস্তাকিম বিল্লাহ জানান, সকাল সাড়ে ৮টা থেকে তারা ক্যাম্পাসে প্রচার চালাচ্ছেন। 

তিনি বলেন, তাদের প্রচারণা পদ্ধতি কিছুটা ভিন্ন-আগে শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া শোনা হচ্ছে, পরে ভোট চাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এরই মধ্যে তারা মেস ও হলভিত্তিক প্রচারের মাধ্যমে প্রায় ১৬০০ থেকে ১৮০০ শিক্ষার্থীর মতামত সংগ্রহ করেছেন।

একইভাবে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের প্রার্থীদেরও সকাল থেকে ক্যাম্পাসে প্রচারে সক্রিয় থাকতে দেখা গেছে। প্যানেলটির ভিপি প্রার্থী দেলোয়ার হাসান শিশির জানান, সকাল ৯টা থেকে ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে তারা প্রচারণা চালাচ্ছেন। 

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে এবং ইতোমধ্যে প্রায় ৯০টির বেশি পরামর্শ সংগ্রহ করা হয়েছে, যেগুলো ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

এদিন দলীয় প্যানেলের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নিয়ে গঠিত ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’ ও ‘স্বতন্ত্র সাস্টিয়ান’ জোটসহ অন্যান্য স্বতন্ত্র প্রার্থীদেরও সক্রিয় প্রচারে দেখা গেছে।

‘সাধারণের ঐক্যস্বর’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মুঁহয়ী শারদ জানান, গিফারি চত্বর, পরিবহন স্টেশন ও বি ও ই ভবনের টং এলাকায় তারা সকাল থেকেই প্রচারণা চালাচ্ছেন। তার মতে, ক্যাম্পাসে নির্বাচনের আমেজ তৈরি হয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা দলীয় রাজনীতির বাইরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি দেখতে আগ্রহী।

তিনি আরও বলেন, যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ইশতেহার ঘোষণা করা হয়নি, তবে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম বন্ধ, দলীয় প্রভাবমুক্ত ও অ্যাকাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিত করাই তার মূল অঙ্গীকার।

অন্যদিকে, স্বতন্ত্র সাস্টিয়ান জোটের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী ফয়সাল হোসেন জানান, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে দাবি-দাওয়া শোনার পর দ্রুতই ইশতেহার ঘোষণা করা হবে।

একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মূল লড়াই হবে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে।