Image description

নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দলটির যুগ্মমহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদীর পাঠানো এক বিবৃতিতে এ মন্তব্য করেন তিনি।

হেফাজত মহাসচিব উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, পতিত দেশবিরোধী ফ্যাসিস্ট চক্র সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার জন্য আবারও সুপরিকল্পিতভাবে ‘সংখ্যালঘু নির্যাতন কার্ড’ খেলার পাঁয়তারা করছে। কয়েকদিনে একাধিক হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকের ওপর হত্যা ও নির্যাতন হয়েছে। জুলাইযোদ্ধা হাদি ও মুসাব্বিরকে হত্যা করে মানুষের রক্ত নিয়ে হোলিখেলায় মেতে উঠেছে।

 

তিনি বলেন, আমরা মনে করি— এসব হামলার উদ্দেশ্য বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমর্যাদা নষ্ট করা এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বেকায়দায় ফেলা। কারা এসব ঘটনার ইন্ধন দিচ্ছে, কারা লাভবান হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর হওয়া দরকার। নারী নির্যাতন ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলাকারী সন্ত্রাসীদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও কৌশলগতভাবে প্রতিহত করা প্রয়োজন।

  

আল্লামা সাজেদুর রহমান বলেন, জুলাই বিপ্লবের অগ্রসৈনিক শরিফ ওসমান হাদির হত্যকারীকে এখনো ধরা যায়নি। দিনেদুপুরে গুলি করে হত্যাকারী কীভাবে পালিয়ে যায়? তারা জুলাই বিপ্লবীদের স্তব্ধ করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। জুলাই বিপ্লবে হাজার মানুষের আত্মত্যাগ ও তিতিক্ষার বিনিময়ে বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থা গঠন ও নতুন রাষ্ট্রকাঠামো তৈরির পথে ফ্যাসিস্ট ও আধিপত্যবাদী শক্তি বাধা তৈরি করতে চায়।

 

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের তারিখ যতই ঘনিয়ে আসছে, দেশের অভ্যন্তরীণ একটি দুষ্টচক্রও বসে আছে, যারা জনগণের মাঝে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করে সুষ্ঠু নির্বাচনি পরিবেশ চরমভাবে বাধাগ্রস্ত করতে চায়। তাই তারা এসব ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করে সহিংসতার পথে হাঁটছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলব, আপনারা এই খুনিচক্রের বিরুদ্ধে নজরদারি বাড়ান। দ্রুত এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের ব্যবস্থা করুন। গ্রেপ্তারকৃত আগ্রাসনবিরোধী প্রতিবাদী নিরপরাধ আলেম-ওলামা ও ইসলামপন্থিদের অবিলম্বে মুক্তি দিন।