Image description

রাজপথে লড়াই-আন্দোলন, স্লোগান-মিছিলে সামনের কাতারে থাকলে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতার ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে রাখা হয়েছে নারীদের। তিনটি ধর্মভিত্তিক দল বাদে ২৭টি দলের প্রতিশ্রুতি ছিল জুলাই সনদ সইয়ের পরবর্তী নির্বাচনে প্রতিটি দল ন্যূনতম পাঁচ শতাংশ নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেবে। ধাপে ধাপে তা উন্নীত হবে ৩৩ শতাংশে। কিন্তু নির্বাচন ঘিরে অনেক দল তার ধারেকাছেও যায়নি। বরং নির্বাচনী দৌড়ে নামা অর্ধেকের বেশি দল কোনো আসনেই নারী প্রার্থী দেয়নি।

জানা গেছে, পাঁচ শতাংশের প্রতিশ্রুতি পূরণে ৩০০ আসনের বিপরীতে নারী প্রার্থী দিতে হবে ১৫ আসনে। সদ্য প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার তিন আসনের বাইরে এবার বিএনপি থেকে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ১০ নারী। এদের মধ্যে- ফরিদপুর-৩ আসনে নায়াব ইউসুফ আহমেদ, যশোর-২ আসনে সাবিয়া সুলতানা, শেরপুর-১ আসনে সানসিলা জেবরিন, সিলেট-২ আসনে তাহসিনা রুশদীর লুনা, নাটোর-১ আসনে ফারজানা শারমীন, ঝালকাঠি-২ আসনে ইসরাত সুলতান ইলেন ভুট্টো, মানিকগঞ্জ-৩ আসনে আফরোজ খানম, ঢাকা-১৪ আসনে সানজিদা ইসলাম তুলি, মাদারীপুর-১ আসনে নাদিরা আক্তার ও ফরিদপুর-২ আসনে শামা ওয়াবেদ ইসলাম।

 
অন্যদিকে, জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটভুক্ত দলগুলোর দাখিল করা মনোনয়নের মধ্যে নারী কেবল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) তিন প্রার্থী। এর মধ্যে রয়েছেন- ঝালকাঠি-১ আসনে মাহমুদা আলম মিতু, ঢাকা-১৯ আসনে দিলশানা পারুল ও ঢাকা-২০ আসনে নাবিলা তাসনিদ।
 
নির্বাচনী দৌড়ে থাকা অন্য দলগুলোর নারী মনোনয়নের চিত্রও আশাব্যঞ্জক নয়। সব মিলিয়ে সারা দেশে ২ হাজার ৫৮২টি মনোনয়ন জমা পড়লেও নারী প্রার্থী মাত্র ১১০ জন। এদের মধ্যে স্বতন্ত্র ৪০ জন, বাসদ (মার্কসবাদী) থেকে ১০ জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) থেকে ছয়জন, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ থেকে ছয়জন, জাতীয় পার্টি থেকে পাঁচজন, বাসদ থেকে পাঁচজন, গণসংহতি আন্দোলন থেকে পাঁচজন এবং অন্যান্য দল থেকে ২০ জন।
 
 
কিন্তু নারীদের মনোনয়ন দিতে রাজনৈতিক দলগুলোর কেন এতো অনীহা? উত্তরটা প্রায় অভিন্নই। এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে ১৫ জনকে বিএনপির মনোনয়ন দেয়ার কথা। এদের মধ্যে পাঁচজন শর্ট রয়েছে। অনেক জায়গায় নারী রয়েছে কিন্তু সেখানে আবার হেভিওয়েট পুরুষ প্রার্থী রয়ে গেছে। নারীকে নামতেই দেয় না এমন জায়গাও আছে আরকি। সুতরাং নারী আমাদের আছে তো।’
 
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘সামাজিক পরিবেশ, নারীদের অবস্থান- সব মিলয়ে সরাসরি নির্বাচন করে নারীরা এ পর্যায়ে আসাটা কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এরইমধ্যে যেসব দল নারীদের মনোনয়ন দিয়েছেন তারা কজনই বা জয়ী হতে পেরেছেন, এই ইতিহাসটাও আমাদের সামনে আনতে হবে।’      
 
 
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ‘আমরা নারীদের শুধু ভোটার হিসেবেই বিবেচনা করছি। কিন্তু তারা যে ভোট পেতে পারেন, প্রার্থী হতে পারেন, সেই জায়গায় কিন্তু আমাদের মন মানসিকতার পরিবর্তন ঘটেনি। ঐকমত্য কমিশনেও তাদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব করা হলো বড় বড় দলগুলো পাঁচ থেকে সাত শতাংশ নারীকে প্রার্থী করবে। এটা কী দয়াদক্ষিন্য। নারীর প্রতিনিধিত্ব করার জায়গাটাকে এত নড়বড়ে করে ফেললাম আমরা। এখানে আমি নীতি নির্ধারকদেরই দায়ী করবো।’  
 
এরআগে, এক এগারো সরকারের সময় নির্বাচন কমিশন, ২০২০ সালের মধ্যে ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্বের শর্ত বেঁধে দিলেও তা পূরণ করতে পারেনি রাজনৈতিক দলগুলো।