Image description

দলীয় কর্মসূচির কারণে আজ রোববার বিকেল তিনটায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিচ্ছে না বিএনপি। দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিকেলে পূর্বনির্ধারিত আলোচনা সভা রয়েছে বিএনপির। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, বিকেল তিনটার পরিবর্তে সন্ধ্যার পর বৈঠকে অংশ নেবেন দলের প্রতিনিধিরা।

জুলাই সনদের বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে চলমান মতবিরোধের প্রেক্ষাপটে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে আজ রোববার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে বৈঠক করবেন।

সূত্র জানায়, বৈঠকে বর্তমান পরিস্থিতি ও নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হবে। সাড়ে ৪টায় জামায়াত এবং সন্ধ্যা ৬টায় এনসিপির সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধান উপদেষ্টা।

সর্বশেষ ২২ জুলাই বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা। গত ২১ জুলাই মাইলস্টোনে বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণহানিতে বিক্ষোভের পর দলগুলোকে বৈঠকে ডেকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে বলেন সরকারপ্রধান। পরের দুই দিনে আরও ২৫টি দল ও জোটের সঙ্গে বৈঠকে তিনি একই বার্তা দেন। 

জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর গত বছরের ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেয় ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। ১১ আগস্ট তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রথম বৈঠক করেন। পরবর্তী সময়ে যখনই রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তখনই দলগুলোকে ডেকে কথা বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা। গত এক বছরে বিএনপি এবং জামায়াত পাঁচবার করে বৈঠক করেছে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে। 

শুক্রবার জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে দলটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের পর পুলিশ ও সেনাসদস্যদের পিটুনিতে গুরুতর আহত হন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সাবেক এই ভিপির মাথায় আঘাত লেগেছে, ভেঙেছে নাকের হাড়। 

এ পরিস্থিতিতে দলগুলোকে আবার ডাকলেন প্রধান উপদেষ্টা। বিএনপি, জামায়াত এবং এনসিপির পর সামনে অন্য দলগুলোকেও বৈঠকে ডাকা হতে পারে। অতীতেও এ রীতি দেখা গেছে। শনিবার সরকারের বিবৃতিতে নুরের ওপর হামলার নিন্দা করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। বিচার বিভাগীয় তদন্তের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। 

আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন হবে বলে জানিয়েছে সরকার। জুলাই সনদ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে বিরোধের কারণে ভোট নির্ধারিত সময়ে হবে কিনা– এ নিয়ে প্রশ্ন করছেন কেউ কেউ। 

শনিবার বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদও বলেছেন, আল্লাহ ছাড়া ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন ঠেকানোর শক্তি কারও নেই।

বৈঠকে যাবেন বলে জানিয়েছেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব। জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের সমকালকে বলেন, নির্বাচন ভণ্ডুলের জন্য রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করা যাচ্ছে। জামায়াতই প্রথম ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের দাবি তুলেছিল। নির্বাচনের সময় নিয়ে জামায়াতের আপত্তি নেই। তবে নির্বাচনের আগে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। ভোট হতে হবে পিআর পদ্ধতিতে।  

এর আগে প্রেস সচিব জানান, শনিবার প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কয়েকজন উপদেষ্টার বৈঠক হয়। এতে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এবং প্রধান উপদেষ্টার স্বরাষ্ট্রবিষয়ক বিশেষ সহকারী খোদা বখস চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। সেখানে নুরের ওপর হামলার ঘটনা নিয়ে আলোচনা হয়। এ বৈঠক থেকেই রাজনৈতিক দলগুলোকে আলোচনায় ডাকার সিদ্ধান্ত হয়। 

প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে; জনগণের প্রতি যা অন্তর্বর্তী সরকারের একনিষ্ঠ অঙ্গীকার। নির্বাচন বিলম্বিত বা বানচাল করার জন্য সব ষড়যন্ত্র, বাধা অথবা প্রচেষ্টা অন্তর্বর্তী সরকার এবং গণতন্ত্রপ্রেমী দেশপ্রেমিক জনগণ দৃঢ়ভাবে প্রতিহত করবে।