Image description

সারা দেশের ন্যায় নির্বাচনির উত্তাপ লেগেছে মেহেরপুর-১ (সদর ও মুজিবনগর) আসনে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীর পাশাপাশি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থীরাও তৎপর রয়েছে।

১৯৯১ সালের নির্বাচনে এ আসনে জয় লাভ করে আ.লীগ। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আসনটি বিএনপি ফিরে পেলেও তৎকালীন সংসদ সদস্য মরহুম আহাম্মদ আলীর মৃত্যুর পর উপনির্বাচন বিএনপি বর্জন করায় আসনটি আবারও চলে যায় আ.লীগের ঘরে। ২০০১ সালে বিএনপি আসনটি পুনরুদ্ধার করতে পারলেও ২০০৮ সালে ১/১১ সরকারের আমলের নির্বাচন আ.লীগ প্রার্থী বিজয়ী হয় । পরে ২০১৪ সালের ভোটারবিহীন একতরফা নির্বাচন ২০১৮ সালের রাতের ভোটে এবং ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচনে আসনটি দখলে নেয় আ.লীগ।

কিন্তু গত বছর ৫ আগস্টের পর শেখ হাসিনা সরকারের পতন ও আ.লীগ নেতাকর্মীদের পলায়নের পর মেহেরপুরের রাজনৈতিক দৃশ্যপট পাল্টে গেছে। ফ্যাসিস্ট আমলে নানা নির্যাতন ও হামলা-হামলার শিকার এ আসনের বিএনপি, জামায়াতের নেতাকর্মীরা রাজনীতিতে এখন সক্রিয়। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মেহেরপুর-১ (সদর ও মুজিবনগর) আসনের দল দুটির মনোনয়নপ্রত্যাশী সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলের ও নিজ নিজ বলয়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে নিয়মিত গণসংযোগ, মিছিল সমাবেশ ও উঠান বৈঠক করছেন।

বিএনপির মনোনয়ন প্রার্থী মেহেরপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মাসুদ অরুন। তার বাবাও এ আসনের সাবেক তিন বারের সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনামলে নির্যাতন, নিপীড়ন সহ্য করে মেহেরপুরে জেলা বিএনপিকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করান তিনি। নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের তৃণমূল নেতাকর্মী, সমর্থকদের নিয়ে নির্বাচনি মাঠে গণসংযোগ করছেন তিনি।

মেহেরপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ অরুন বলেন, বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মী, সমর্থকরা এখন অনেক সুসংগঠিত এবং মনোনয়নের ক্ষেত্রে দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তবে এলাকার জনগণের প্রত্যাশার ভিত্তিতে দল নিশ্চয়ই সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে বলে আমি মনে করি।

অপর প্রার্থী মেহেরপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান। নির্বাচনকে সামনে রেখে নিয়মিত প্রচার আর গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। জেলা আইনজীবী সমিতির পর পর তিনবার সাধারণ সম্পাদক এবং সভাপতিরও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বলেন, দল এখন অনেক সুসংগঠিত। মনোনয়নের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী বলে জানান।

মুজিবনগর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিরুল ইসলাম। তিনি দীর্ঘদিন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বলেন, বিগত ১৬ বছর ধরে ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্যাতন, নিপীড়ন সহ্য করে জনগণের অধিকার আদায়ে মাঠে কাজ করেছি। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে দল গোছানোর কাজ করছি। দলকে সুসংগঠিত করার মধ্য দিয়ে আগামী নির্বাচনে যাতে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় হয় সে জন্য মেহেরপুর-১ আসনের সব নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রচার ও সাংগঠনিক কাজ অব্যাহত রেখেছি।

বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির মহাসচিব এবং সম্মিলিত পেশাজীবী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা জাকির হোসেন। নির্বাচনি মাঠে কাজ করছেন তিনি। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদের আদর্শ ধারণ করে পেশাজীবী আন্দোলনের পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতি করেছি। ফ্যাসিস্ট হাসিনা পতনের আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে চাকরিচ্যুত হয়েছি। দল আমার অবদান মূল্যায়ন করে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মেহেরপুর-১ আসন থেকে মনোনয়ন দিয়েছিল আমাকে। আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি আমাকে মনোনয়ন দিলে দলের ঐক্য ধরে রেখে গণমানুষের কল্যাণে কাজ করব।

জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি হাফিজুর রহমান হাফি। ১৯৮০ সাল থেকে ছাত্রদলের মেহেরপুর জেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে ছিলেন । ১৯৯৫, ২০০১, ২০০৬, ২০০৮ এবং ২০১৮ সালে দলের কাছে মনোনয়ন চেয়েছিলেন তিনি। বর্তমানে এই আসন থেকে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে দলকে সুসংগঠিত করার পাশাপাশি নির্বাচনি প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।

অপর প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আলমগীর খাঁন সাতু। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দলকে সুসংগঠিত করতে কাজ করছেন। নির্যাতন, নিপীড়ন সহ্য করতে হয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনিও প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।

এই আসনটিতে এরই মধ্যে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। মেহেরপুর জেলা জামায়াতের আমির এবং কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য মাওলানা তাজউদ্দিন খাঁন নির্বাচনের সব ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে দলীয়ভাবে মনোনয়ন পান। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে মামলা-হামলা, নির্যাতন, নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। এরপরও দলের নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত করে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি।

আসনটিতে নির্বাচনকে সামনে রেখে গণসংযোগ শুরু করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতা সোহেল রানা। নির্বাচনি এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন তিনি। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ছিলেন। অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে চান তিনি। তরুণ প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে তিনি নির্বাচনি প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।