Image description

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের জ্ঞান ফিরলেও এখনো তিনি শঙ্কামুক্ত নন। তার চিকিৎসায় ছয় সদস্যের বোর্ড গঠন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা তাকে দেখতে হাসপাতালে যান।

এদিকে নিরাপত্তা বাহিনীর বেপরোয়া হামলার ঘটনায় সর্বত্র ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো সভা-সমাবেশ ও মিছিল করে এ ঘটনার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে। এ হামলাকে তারা রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টির পাঁয়তারা বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে হঠাৎ করে নুরের গণঅধিকার পরিষদ জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধের দাবিতে কেন বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি পালন করেছেÑএ নিয়েও জনমনে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে গতকাল জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দলটির কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। গণঅধিকারের নেতাকর্মীরা তাদের নিজের পার্টি অফিসে সংবাদ সম্মেলন করার সময় পুলিশ ও সেনা সদস্যদের দ্বারা হামলার শিকার হয়েছেন। গণঅধিকার পরিষদ ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের পর গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা তাদের দলীয় কার্যালয় বিজয়নগরে চলে এসেছিল।

এর আগে তারা ছোট একটি মশাল মিছিল বের করেন। সে মিছিলটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করেই পার্টি অফিসের সামনে এসেছিল। তারা ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা ও পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণের জন্য একটি সংবাদ সম্মেলন করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ডায়াসের সামনেই ছিলেন নুর। তিনি বিচ্ছিন্নভাবে থাকা নেতাকর্মীদের তার সামনে আসার আহ্বান জানাচ্ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ তাদের ওপর হামলে পড়ে পুলিশ ও সেনাসদস্যরা। তাদের ওপর হামলার ঘটনায় নেতাকর্মীরা তাজ্জব বনে যান। অনেকেই নুরকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন। আবার কেউ কেউ লাঠির আঘাতে সেখান থেকে দ্রুত সরে গিয়ে পার্টি অফিসে আশ্রয় নেন।

পুলিশ ও সেনাসদস্যদের তাদের ওপর বেধড়ক লাঠিচার্জের ছবি ও ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে চারদিকে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্ব পিনাকী ভট্টাচার্যসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ওই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে পোস্ট দিয়েছেন। নুরের ওপর হামলার ঘটনাকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদ ও আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি নতুন করে ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন। তারা অবিলম্বে হামলার ঘটনায় বিভাগীয় তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি করেছেন। নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিএনপি-জামায়াতসহ একাধিক দল গতকাল বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি পালন করেছে।

নুরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেখতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা ভিড় করেন। তার ওপর হামলার ঘটনায় গণঅধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে। নইলে তারা কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। এছাড়া জাতীয় পার্টিকে নিদ্ধিদের দাবিতে কাকরাইলে দলটির কার্যালয়ের সামনে এবং বনানীতে পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের বাসার সামনে বিক্ষোভ করেছে জুলাই অ্যালায়েন্স মুভমেন্ট নামের একটি সংগঠন। সেখানে পুলিশকে কঠোর অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।

গতকাল গণঅধিকার পরিষদের একাধিক নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা জাতীয় পার্টির অফিসের সামনে দিয়ে মিছিল নিয়ে আসার সময় হামলার শিকার হয়েছেন। সেখানে পুলিশ সদস্যরা থাকলেও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের কিছু বলেননি। বরং উল্টো পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরকে প্রটোকল দিয়ে অফিস ত্যাগ করতে পুলিশ সাহায্য করে। আর আমাদের ওপর উল্টো হামলা করে।

দলটির অফিস সম্পাদক হানিফ বলেন, ‘আমাদের ওপর হামলার ঘটনায় বিস্মিত। আমাদের কাছে মনে হয়েছে, আওয়ামী লীগ ফ্যাসিবাদের পুলিশ আমাদের ওপর আক্রমণ করেছে। অতিউৎসাহী সেনাসদস্যদের বেধড়ক লাঠির পিটুনি আমাদের আতঙ্কিত করে তুলেছে।’

দলটির কর্মী আরমান গতকাল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আমার দেশকে বলেন, ‘আমরা যখন সংবাদ সম্মেলন করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, তখন পুলিশের আসা দেখে মনে হয়েছে তারা আমাদের প্রটেকশন দিতে আসছে। আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই মারধর শুরু করেছেন তারা।’

দলটির আরেক কর্মী সাব্বির আহমেদ জানান, ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সময় পুলিশ সদস্যরা আমাদের অফিসের গেটের সামনে গিয়ে আমাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করে। কিন্তু অফিসের ভেতরে ঢোকার সাহস পায়নি। গতকাল পুলিশ ও সেনাসদস্যরা আমাদের অফিসের ভেতরের বাথরুমে ভয়ে লুকিয়ে থাকা নেতাকর্মীদের দরজা ভেঙে বের করে পিটিয়েছেন। আমরা ভীত, আমরা আতঙ্কিত।’

জানা গেছে, নুর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগের ডা. জাহিদ রায়হানের অধীনে চিকিৎসাধীন আছেন।

সিভিল পোশাকে হামলাকারী ব্যক্তি নিয়ে যা জানা গেছে

গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের ওপর সেনাবাহিনী ও পুলিশের হামলার ভিডিওতে দেখা যায়, খয়েরি রঙের টি-শার্ট পরা এক ব্যক্তি সিঁড়িতে বসে থাকা অন্য একজনকে মারধর করছেন। পোশাকে থাকা সেনা ও পুলিশ সদস্যদের পাশে গণঅধিকার পরিষদের নেতাদের লাঠি দিয়ে পেটানো লাল টি-শার্ট পরা ওই ব্যক্তি কে?Ñসেটি নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে জানার চেষ্টা করা হয়। ভিডিও পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ঘটনার সময় ওই ব্যক্তি নিজেকে পুলিশ দাবি করে। এছাড়া অন্য একটি ভিডিওতে ওই ব্যক্তিকে পুলিশের সঙ্গে দেখা গেছে এবং একটা সময় তাকে পুলিশের হেলমেট পরিহিত অবস্থাও দেখা গেছে।

একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে, টি-শার্ট পরা ওই ব্যক্তি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার গাড়িচালক কনস্টেবল মিজানুর রহমান। একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা অনানুষ্ঠানিকভাবে আমার দেশকে বলেছেন, গাড়িচালক সেখানে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্যে ডেডিকেটেড নন। তারপরও কী কারণে ওই কনস্টেবল সেখানে গিয়ে লাঠিচার্জ করলেন, তা খতিয়ে দেখা দরকার। তিনি কোন সময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত, গ্রামের বাড়ি কোথায়, নিজের ও পারিবারিক রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই করে দেখা দরকার বলেও জানান তারা।

তবে ওই ব্যক্তি কনস্টেবল মিজানুর রহমান কি নাÑএমন প্রশ্নের জবাবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান গতকাল আমার দেশকে বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।

সতর্ক পুলিশ

ডিএমপির নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যাচ্ছে, সরকারের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে ডিএমপি থেকে বলা হয়েছে, শুক্রবারের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা ছিল খুব গৌণ। তারপরে ভিডিও দেখে ঘটনাস্থলে উপস্থিত চার থেকে পাঁচজন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার শেখ সাজ্জাদ আলী আমার দেশকে বলেন, ‘ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ বরদাশত করা হবে না। যেই দলেরই হোক না কেন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান তারেক রহমানের

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরের ওপর হামলা ও কাকরাইলে ঘটে যাওয়া সহিংস ঘটনায় গভীর নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে নুরের দ্রুত সুস্থতা কামনা ও ঘটনার তদন্তে সরকারের প্রতি আইনসম্মত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

গতকাল শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে এক স্ট্যাস্টাসে তিনি এ আহ্বান জানান। তারেক রহমান লিখেনÑ‘আমরা এক অত্যন্ত সূক্ষ্ম গণতান্ত্রিক উত্তরণের সময় অতিক্রম করছি। এর প্রথম ধাপ জাতীয় নির্বাচন। আমাদের সমষ্টিগতভাবে নিশ্চিত করতে হবে, যাতে আজকের মতো অস্থিতিশীলতার ঘটনা ছড়িয়ে না পড়ে এবং আমাদের গণতন্ত্রের পথে অগ্রযাত্রাকে বিঘ্নিত না করে।’

পোস্টে তারেক রহমান বলেন, ‘গণতন্ত্রকামী অংশীদারদের সংযম ও সহনশীলতা অবলম্বন করতে হবে। গত বছরের গণঅভ্যুত্থানের সত্যিকারের চেতনা বজায় রাখতে হবে। দেশকে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী জনতার শাসন ও বর্তমান অস্থিতিশীলতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করতে হবে।’

এদিকে গতকাল সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নুরকে দেখতে যান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। এ সময় তিনি বলেন, রাজপথে নুরুল হক নুরের অবস্থান স্পষ্ট। তার ওপর এভাবে হামলার ঘটনা দেশের মানুষ মেনে নিতে পারে না। আমরা এ ঘটনার নিন্দা জানাই। এ ঘটনার আমরা তদন্ত চাই।

হামলাকারীদের গ্রেপ্তার দাবি জামায়াতের

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের ওপর বর্বর হামলার প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। গতকাল শনিবার জোহরের নামাজের পর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের উদ্যোগে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

মিছিলপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, নুরুল হক নুরসহ নেতাদের ওপর যে হামলা করা হয়েছে তা সুস্পষ্ট পরিকল্পিত হামলা। ফ্যাসিবাদকে পুনর্বাসনের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে টার্গেট করে এ হামলা করা হয়েছে। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম। এতে কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধসহ তিন দাবি জানিয়েছে গণঅধিকার পরিষদ

গতকাল শনিবার রাজধানীর বিজয়নগরে গণঅধিকার পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত বিক্ষোভ ও সংহতি সমাবেশ থেকে তিনটি দাবি ঘোষণা করেন দলটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করে ঘোষিত দাবিগুলো হলো- শুক্রবারের ঘটনায় আজকের মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে হামলার ঘটনায় ব্যর্থতা ও দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করতে হবে এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করতে হবে। দাবিগুলো ঘোষণার পর তিনি বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দাবি মানা না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এ সময় যমুনা ও সচিবালয় ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

রাশেদ খান বলেন, ‘দায় থাকুক আর না থাকুকÑ আমরা মনে করছি, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, আপনি কোনোভাবেই বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। সুতরাং গতকালের (শুক্রবার) ঘটনার পর আপনি আর এই পদে কোনোভাবেই থাকতে পারেন না।’ নুরুল হককে লাঠিপেটা করার ঘটনার সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ব্যক্তির কোনো সম্পর্ক নেই বলেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, ‘নুরুল হকের ওপর সেনাবাহিনীর কতিপয় দুষ্কৃতকারী হামলা চালিয়েছে। লাল টি-শার্ট পরিহিত ব্যক্তি ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা সম্রাটের ওপর হামলা করেছে।’

রাশেদ খান আরো বলেন, ‘আমাদের ওপর যে হামলা হয়েছে, সে হামলায় সেনাবাহিনী জড়িত এবং পুলিশেরও ভূমিকা ছিল। সেনাবাহিনী কাদের নির্দেশে মাঠে নেমে আমাদের রক্তাক্ত করেছে? সেনাপ্রধানকে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

এদিকে জাতীয় পার্টির (জাপা) মতবিনিময় সভাকে ঘিরে সতর্ক অবস্থানে ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গতকাল বেলা সাড়ে ৩টায় জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ময়মনসিংহ বিভাগীয় মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। এ সময় পার্টি অফিসের আশপাশে দলের নেতাকর্মীদের অবস্থান ছিল চোখে পড়ার মতো।

অন্যদিকে গণঅধিকার পরিষদ সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে একই সময়ে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয় গণঅধিকার পরিষদ। দলের প্রধান কার্যালয়ের সামনে দলের অঙ্গসংগঠন অংশগ্রহণ করে জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধসহ বিভিন্ন স্লোগান দেন নেতাকর্মীরা।

উভয় দলের একই সময়ে কর্মসূচি ঘিরে সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করে পুলিশ। ফলে জাতীয় পার্টির অফিসের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে রাখা হয়। পাশাপাশি গণঅধিকার পরিষদের কার্যালয়ের সামনেও দেখা গেছে একই চিত্র।

নুরের ওপর নৃশংস হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় : সাকি

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। গতকাল শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নুরকে দেখে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। সাকি বলেন, পুলিশ ও যৌথ বাহিনী নুরুল হক নুর, রাশেদ খানসহ গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এ সময় তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘নিজেদের ওপর হামলার পর দলটি যখন সংবাদ সম্মেলন করছিল, তখন আবারও হামলার ঘটনা ঘটল। সেখানে কোন উদ্দেশ্যে হামলা হলো? এ ঘটনার জন্য দায়ী কে, তা তদন্ত করতে হবে। এছাড়া এক বিবৃতিতে জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘নুরুল হক নুরের ওপর যেভাবে নৃশংস কায়দায় হামলা চালানো হয়েছে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি স্পষ্টতই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। আমরা নুরসহ আহত সব নেতাকর্মীর দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।

এবি পার্টির বিক্ষোভ মিছিল

নুরুল হক নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলের আগে এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত টুটুলের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।

তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের বিচার হলে কেন সহযোগীদের বিচারের আওতায় আনা হবে না? ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন থেকে জাতিকে বঞ্চিত করার জন্য আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি সমানভাবে দায়ী। এ জাতিকে দীর্ঘদিন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আমরা বারবার সতর্ক করেছি, জাতীয় পার্টির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নিতে বলেছিÑ কিন্তু সরকার শোনেনি। এখন থেকে রাজপথেই আন্দোলনের মাধ্যমে জবাব দেওয়া হবে।’

মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ‘গণঅধিকারের অফিস পর্যন্ত ভাঙচুর হয়েছে, জাতীয় রাজনৈতিক নেতাদের নৃশংসভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। কোনো উসকানি ছাড়াই মিছিলে হামলা হয়েছে। টালবাহানা না করে সঠিক তদন্ত করতে হবে। এ সময় তিনি সেনাবাহিনীসহ সব বাহিনীকে দেশপ্রেমিক হিসেবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

ইসলামী আন্দোলনের বিক্ষোভ

নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে গতকাল বিকালে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এতে বক্তব্য ও নেতৃত্ব দেন দলের মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুস আহমদ। সভাপতিত্ব করেন ঢাকা উত্তরের সভাপতি ও যুগ্ম মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ। খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগরী উত্তর শাখা রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। এতে মহানগর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরো নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল কাদের ও মহাসচিব মুফতী সাখাওয়াত হোসাইন রাজী, নেজামে ইসলাম পার্টির আমির আল্লামা সরওয়ার কামাল আজিজী ও মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইযহার, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সিনিয়র সহসভাপতি মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন প্রধান আমীরে শরিয়ত আল্লামা আবু জাফর কাসেমী ও মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম, ইসলামী ঐক্য জোটের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সভাপতি মাওলানা আব্দুর রকিব অ্যাডভোকেট যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা মো. ইলিয়াস আতহারী ও ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নাজমুল হক। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা সাজেদুর রহমান ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জুনাইদ আল হাবিব।

এদিকে, গতকাল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আহত গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের শারীরিক খোঁজখবর নিতে আসেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম। পরে হাসপাতাল থেকে বেরোনোর সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘এ হামলাটি মর্মান্তিক। এ ঘটনায় একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।’ তিনি আরো বলেন, এ ঘটনা বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য অশনিসংকেত। রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ বন্ধের অনেক পদক্ষেপ আছে; কিন্তু এ রকম নির্মমভাবে পিটিয়ে নয়।