চুয়াডাঙ্গা শহরের উপশম নার্সিং হোম ক্লিনিকে পিত্তথলিতে পাথরের অস্ত্রোপচারের সময় রবগুল মোল্লা (৪৮) নামে এক বিএনপি নেতার মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ক্লিনিকটিতে দফায় দফায় ভাঙচুর চালাযনো হয়।
নিহত রবগুল মোল্লা চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সুবদিয়া গ্রামের খেজমত মোল্লার ছেলে ও ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, পিত্তথলিতে পাথরের অস্ত্রোপচারের জন্য শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে রবগুল মোল্লাকে উপশম নার্সিং হোম ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। পরদিন শনিবার বিকেল ৩টার দিকে তাকে অস্ত্রোপচারের জন্য অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। সেখানে ক্লিনিকের মালিক ও চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের সার্জারি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এহসানুল হক তন্ময় অস্ত্রোপচার শুরু করেন।
স্বজনদের দাবি, অস্ত্রোপচারের একপর্যায়ে অপারেশন টেবিলেই রবগুল মোল্লার মৃত্যু হয়। রোগীর মৃত্যুর পর চিকিৎসক ও অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক তাকে অপারেশন থিয়েটারে রেখেই সেখান থেকে চলে যান। তবে এ বিষয়ে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রোগীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজনদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে ক্ষুব্ধ স্বজনেরা ক্লিনিকে দফায় দফায় ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন।
এছাড়া চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক শরিফুজ্জামান শরীফ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি জানান, নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রোববার নিহতের পরিবারের সঙ্গে বসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে বিএনপি নেতার মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত উপশম নার্সিং হোম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। ক্লিনিকে ভর্তি থাকা সব রোগীকেও অন্যত্র হস্তান্তর করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ রহমান বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অভিযোগ পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।