সংকট মোকাবিলায় সরকার অদক্ষতার পরিচয় দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।
তিনি বলেছেন, ‘সরকার তেল সংকটের অজুহাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে। অথচ নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল ক্ষমতায় আসার দুই বছরের মধ্যে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি না করার। সরকার তাদের কমিটমেন্ট রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।’
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির জরুরি বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘সরকার বিভিন্ন সংকটের ক্ষেত্রে যেভাবে ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টে অদক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে, তা জাতির কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ছয় মাস সরকারের জন্য বেশি সময় নয় কিন্তু বিকল্প পরিকল্পনা ও সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা নিয়ে অপেক্ষা করার সুযোগও বেশি নেই।’
তিনি বলেন, ‘১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পর ইতোমধ্যে ছয় মাস অতিবাহিত হয়েছে। এই সময়ে জনগণের দাবি, জনস্বার্থ, জনগণের অধিকার, দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার পথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে ১১ দলীয় ঐক্য ভূমিকা পালন করে আসছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার প্রথম দিনেই জনগণের রায়কে উপেক্ষা করেছে। সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে যে শপথ নেওয়ার কথা ছিল, সেটিও উপেক্ষা ও প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এটি গণতন্ত্রের ওপর চপেটাঘাত এবং গণরায়ের প্রতি অবজ্ঞা।’
হামিদুর রহমান বলেন, ‘সরকারি দল ও বিরোধী দলকে নিয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে সংকট মোকাবিলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে ১০টি প্রস্তাবও দেওয়া হয়। কিন্তু সরকার সেগুলোর কোনোটি আমলে নেয়নি।’
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘ইন্টারিম সরকারের সময় দ্রব্যমূল্য নিয়ে অনেক সমালোচনা করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকার আসার পর দ্রব্যমূল্য হুহু করে বেড়ে গেছে। বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, বাজার মনিটরিং এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।’
১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক বলেন, ‘দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। একের পর এক লোমহর্ষক ঘটনা ঘটছে। গুম, খুন ও অপহরণের ঘটনা ঘটছে। পুলিশ সদর দপ্তর ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ৫১৮টি শিশু অপহরণের মামলা হওয়ার তথ্য সামনে এসেছে।’
এ অবস্থায় ১১ দলীয় ঐক্য রাজপথে আন্দোলন অব্যাহত রাখবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সংসদে সমস্যার সমাধান না হওয়ায় তারা রাজপথে কর্মসূচি দিচ্ছেন। ইতোমধ্যে চট্টগ্রামে প্রথম লংমার্চ শেষ হয়েছে। সেখানে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি মানুষের সাড়া পাওয়া গেছে।’
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৭টায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জমায়েত হবে। সকাল ৮টা পর্যন্ত এক ঘণ্টার উদ্বোধনী সভা শেষে লংমার্চ শুরু হবে। পথে পাঁচটি পথসভা অনুষ্ঠিত হবে এবং রংপুর জেলা স্কুল মাঠে গিয়ে সমাপনী জনসভা হবে।’