Image description

ইতালির ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে গিয়ে বাংলাদেশের অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে একদল ব্যক্তি বাঁধনের ওপর চড়াও হচ্ছেন, পানি ও ডিম ছুড়ছেন। তারা নিজেদের ছাত্রলীগ কর্মী দাবি করে বাঁধনকে ‘জুলাই জঙ্গি’ আখ্যা দেন। 

ঘটনার পর বাঁধনের পাশে দাঁড়িয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। হেনস্তাকারীদের ‘খুনিদের দালাল’ ও ‘বিবেকবোধ বিক্রি করে দেওয়া নরপশু’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে সারজিস আলম এসব কথা বলেন।

ফেসবুক পোস্টে সারজিস আলম লেখেন, ‘আজমেরী হক বাঁধন, আমরা আপনাকে নিয়ে গর্বিত। আপনি এই দেশের জন্য লড়াই করেছেন, দেশের মানুষকে স্বৈরাচার থেকে মুক্ত করার জন্য লড়াই করেছেন।’

তিনি লেখেন, ‘যারা আপনাকে আক্রমণ করেছে তাদেরকে আপনি বাঙালি ভাই হিসেবে সম্বোধন করেছেন। তারা যতটা না বাঙালি ভাই, তার চেয়ে বেশি খুনিদের দালাল, বিবেকবোধ বিক্রি করে দেওয়া এক একটা নরপশু।’

amardesh_sarjis_badhan_post

 

সারজিস আরও লেখেন, ‘খুনি হাসিনা যদি ওই চৌদ্দশ মানুষের মতো তাদের সন্তানদের-ভাইদের খুন করত, তারপরও তারা খুনি হাসিনার দালালি করত, পা চাটত। এদের শুধু মানুষের মতো একটা দেহ আছে, মনুষ্যত্ব পচে গিয়েছে। এদের থেকে আপনি এর চেয়ে বেশি কিছু আশা করবেন না।’

এসব ঘটনায় কষ্ট না পাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘এসবের জন্য বিন্দুমাত্র কষ্ট পাবেন না। নরপশুদের থেকে এর চেয়ে ভালো আর কী প্রত্যাশা করা যায়? আমরা সবাই আপনার সাথে আছি। পুরো বাংলাদেশ আপনার সাথে।’

এর আগে বাংলাদেশ সময় সোমবার দিনগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক ভিডিওবার্তায় বাঁধন নিজেই হেনস্তার অভিযোগ করেন।

বাঁধন জানান, স্থানীয় একটি পার্কে ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে গেলে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর ওপর হামলা করেন। এ সময় তার গায়ে কোক ও ডিম ছোড়া হয় এবং তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়। তার মোবাইল ফোনও ছুড়ে ফেলা হয়।

হামলাকারীরা তাকে ‘জুলাইযোদ্ধা’ আখ্যা দিয়ে হামলা চালান বলেও অভিযোগ করেন বাঁধন। তার দাবি, তারা তাকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে বলেন এবং সেই দৃশ্য ভিডিও করেন। এ সময় তাকে গালাগালিও করা হয়।

ভিডিওবার্তায় বাঁধন বলেন, ‘আমার গায়ে হাত তোলা হয়েছে। আমার ভাইয়ের স্ত্রীকেও ধাক্কা দেওয়া হয়েছে। আপনাদের এ ধরনের অসংলগ্ন আচরণ থেকে বের হয়ে আসা উচিত। আপনারা এভাবে নিজেদের ফেরাতে পারবেন না।’

 

ভিডিওতে সজীব ওয়াজেদ জয়কে বিষয়টি জানানোর অনুরোধও করেন বাঁধন। তিনি বলেন, ‘সজীব ওয়াজেদ জয়ও ভেনিসে আছেন, আশা করি আপনার তার কাছে বিষয়টি পৌঁছে দেবেন।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশ কিছু ভিডিওতে দেখা গেছে, একদল ব্যক্তি নিজেদের ছাত্রলীগ কর্মী দাবি করে বাঁধনকে ‘জুলাই জঙ্গি’ আখ্যায়িত করছেন এবং তার ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করছেন। তাদেরকে বাঁধনের দিকে পানি ও পচা ডিম ছুড়তেও দেখা যায়।

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় অংশগ্রহণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সোচ্চার ছিলেন এই অভিনেত্রী। সেই প্রেক্ষাপটেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

‘রেহানা মরিয়ম নূর’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি পাওয়া বাঁধন বর্তমানে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।