জামায়াতের অপরাজনীতির বিরুদ্ধে সরকারকে আরও কিছু ব্যাটসম্যান ঠিক করতে হবে, এ দায়িত্ব শুধু নুর-রাশেদের নয় বলে মন্তব্য করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।
তিনি বলেছেন, ‘জামায়াতের নেতাকর্মীদের প্রতি আমার সহানুভূতি আছে। ভালো লাগে আছে। কিন্তু তারা যেই প্রক্রিয়ায় রাজনীতি করছে, এইটা দেশের জন্য ভয়ংকর বিপর্যয় ডেকে নিয়ে আসবে। সেই কারণে আমি জামায়াতের রাজনীতির বিরোধিতা করি।’
গতকাল শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শরিফুল কবির মিলনায়তনে বাংলাদেশ পেশাজীবী অধিকার পরিষদের পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন, “আমি সরকারকে বলতে চাই, শুধুমাত্র গণঅধিকার পরিষদ নয়— যারা বিএনপির সঙ্গে ইসলামিক দল আছে, এই সমস্ত দলকে এমপাওয়ার করে সুযোগ দিতে হবে। জমিয়তে উলামা নির্বাচন করে হারছে, সমস্যা নাই। আরও অনেক ইসলামিক দল আছে। তাদেরকে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত করতে হবে। তবে এই জামায়াতের অপরাজনীতির বিরুদ্ধে এই সরকার কৌশল নিয়ে জবাব দিতে পারবে। সরকারকে ব্যাটিং করার জন্য আরও কিছু ব্যাটসম্যান ঠিক করতে হবে। কিন্তু এই দায়িত্ব শুধুমাত্র নূর আর রাশেদের নয়।”
তিনি বলেন, “আমরা কোনো স্বার্থের কারণে বলি না। কথা পরিষ্কার। জামায়াতের নেতাকর্মীদের প্রতি আমার সহানুভূতি আছে। ভালো লাগে আছে। কিন্তু তারা যেই প্রক্রিয়ায় রাজনীতি করছে, এইটা দেশের জন্য ভয়ংকর বিপর্যয় ডেকে নিয়ে আসবে। সেই কারণে আমি জামায়াতের রাজনীতির বিরোধিতা করি।”
ইলিয়াস হোসেন ও পিনাকি ভট্রাচার্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “এই যে বাটপারগুলো, বিশেষ করে দুইটা— একজন আমেরিকায় অন্যজন প্যারিসে থাকে, ডিজিটাল চাঁদাবাজ এরা। নির্বাচনের আগে জামায়াতের পক্ষে দালালি করেছে। নির্বাচনের পরে বিএনপি নেতাদের হাত-পা ধরেছে যে, বিএনপি করবে। এই যে দেখেন, একেবারে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের এমপি, মন্ত্রী, নেতা—এমন কোনো ব্যক্তি আছে, যার বিরুদ্ধে ওরা কথা না বলছে? ওরা কি দুধে ধোয়া তুলসীপাতা।”
বায়তুল মোকররমের ইমামকে জামায়াতের নেতা বানানোর বিষয় বলেন, “তাদের অবস্থা জামায়াতের মতো নামে ইসলামিক দল, আজ পর্যন্ত জামায়াতের নেতৃত্বে দেশবরেণ্য কোনো আলেম-ওলামাকে কিন্তু নেতৃত্বে বসাতে পারেনি। বায়তুল মোকাররমের বর্তমান ইমাম সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য। আমি জামায়াতকে বলব, এরে আমির বানান। আমিও আপনাদেরকে শ্রদ্ধা করব। যে, না—আপনারা ইসলামিক দল।”
তিনি আরও বলেন, “এখানে তো কওমি আর দেওবন্দীদের সঙ্গে জামায়াতের এই জন্য বিশাল মতের পার্থক্য। তারা জানে, জামায়াত যদি কখনো এই মেইনস্ট্রিম রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যেতে পারে, এই সমস্ত আলেম-ওলামা, এই মতাদর্শের লোকদের জন্য বিপদ।”
নুরুল হক নুর বলেন, সরকারি দলের লোকেরা অনেকে এদের সাইবার আক্রমণের কারণে অনেকে বলে না বা বলার সাহস করে। জামায়াতের এই সাইবার সন্ত্রাস রুখে দিতে হবে। জামায়াত এই সাইবার দুর্বৃত্তদেরকে পৃষ্ঠপোষকতা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে অসামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিণত করছে।
আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁনসহ বাংলাদেশ পেশাজীবী অধিকার পরিষদসহ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।