Image description

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহ’র সংসদে দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আয়োজিত একটি মিছিল থেকে বর্ণবাদী ও বডি শেমিংমূলক স্লোগান দিতে দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে মিছিলে অংশ নেওয়া কওমি শিক্ষার্থীদের ‘কাইল্যাপাডা কাইল্যাপাডা, বয়কট বয়কট’ এবং ‘হাসনাত হাসনাত, বয়কট বয়কট’—এমন স্লোগান দিতে শোনা যায়। দেখুন এখানে এখানে এখানেএখানে

 

এছাড়া একই ইস্যুতে হাসনাতকে উদ্দেশ্য করে ‘কালাপাঠা’ লিখে সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিতে দেখা যায় কওমি মাদ্রাসা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তিকে। চরমোনাই পীরপন্থী পেইজেও দেখা যায় এমন পোস্ট। একটি পোস্টে লেখা হয় 'কালাপাঠা হাসনাত বয়কট। এইদিন থেকেই কালাপাঠাকে প্রত্যাখ্যান করেছি। তবে টুকাই ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় অফিসে এসে মুনতাসীর ভাইয়ের কাছে মাফ চাইতে বাধ্য হইছে। এ-ই হেডম ই. ছাত্র আন্দোলন আছে।' ✊

 

গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে শহরের জামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ থেকে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের ব্যানারে মিছিলটি বের হয়। গান-বাজনা ও নৌকাবাইচ বন্ধ হয়ে যাওয়া নিয়ে জাতীয় সংসদে হাসনাত আব্দুল্লাহর দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

 

এর একদিন আগে, বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন্সে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং নৌকাবাইচ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে না পারায় সরকারের সমালোচনা করেন হাসনাত। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কনসার্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, নৌকাবাইচ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’ তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর কওমি শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে হাসনাতের বক্তব্যের প্রতিবাদে মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

 

মিছিল থেকে বর্ণবাদী স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কর্মসূচির আয়োজকদের একজন ও জামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার ছাত্র আব্দুল খালেক। বেঙ্গল লেন্সকে তিনি বলেন, ‘যে কারও নাম বিকৃতি বা গায়ের রং নিয়ে কথা বলা বা কটূক্তি করা ইসলাম পরিপন্থী। সেটা সবার জন্য প্রযোজ্য। আমরা মিছিলে এটি শুনেছি, তবে আমাদের কোনো ছাত্র এরকম স্লোগান দেয়নি। এটা মিছিলের পাশ থেকে এসেছিল।’

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদেরই এসব স্লোগান দিতে দেখা যায়। ভিডিওতে ‘কাইল্যাপাডা’ শব্দটি একাধিকবার সমস্বরে উচ্চারণ করতে শোনা যায়।

আগেও বিভিন্ন পক্ষের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ

হাসনাত আব্দুল্লাহকে নিয়ে বর্ণবাদী ও অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগ এবারই প্রথম নয়। জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে বিভিন্ন সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্টে তাকে ‘কালাপাঁঠা’, ‘কালামাগুর’সহ বিভিন্ন অবমাননাকর নামে সম্বোধন করতে দেখা গেছে। দেখুন এখানে এখানে এখানে

 

চলতি বছরের জুনে অক্সফোর্ড ইউনিয়নের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে লন্ডনে গেলে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হাসনাতকে উদ্দেশ করে বর্ণবাদী স্লোগান দেন।

এ ছাড়া বিভিন্ন সময় বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদেরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাসনাতকে ‘কালাপাঁঠা’ সম্বোধন করে পোস্ট দিতে দেখা গেছে। এখানে এখানে এখানে

ইসলামের শিক্ষা কী বলে

রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও কারও গায়ের রং, শারীরিক বৈশিষ্ট্য বা নাম বিকৃত করে অপমান করা নিয়ে ইসলামে সুস্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে।

পবিত্র কোরআনের সূরা আল-হুজুরাতে বলা হয়েছে, ‘তোমরা একে অপরকে উপহাস করো না… এবং তোমরা একে অপরকে মন্দ উপনামে ডেকো না।’ (সূরা আল-হুজুরাত, ৪৯:১১)

 

হাসনাতকে উদ্দেশ করে দেওয়া এসব স্লোগানকে ইসলাম পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির মাওলানা মহিউদ্দিন রব্বানী। বেঙ্গল লেন্সকে তিনি বলেন, ‘‘ইসলাম কারও নাম বিকৃত করা, কারও গায়ের রং নিয়ে কটূক্তি করা সমর্থন করে না। এগুলো রাসুলের আদর্শ পরিপন্থী কাজ। সেটা যে ব্যক্তিই হোক না কেন।’’

 

মুফতি রেজাউল করীম আবরার বেঙ্গল লেন্সকে বলেন, ‘‘নামের বিকৃতি ইসলামে জায়েজ নেই। কুরআন সুন্নাহ সবার জন্য। নামের বিকৃতি যেমন কওমী শিক্ষার্থীদের করা উচিত না, তেমনি অন্য কারোরই করা উচিত না। আমরা সবাই যেন এ ব্যাপারে সতর্ক হই।’’