Image description

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মাওলানা আবুল কালাম আযাদের আপিল চলবে কিনা (আপিল গ্রহণযোগ্য কিনা), সে বিষয়ে শুনানি চলছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চে এর শুনানি শুরু হয়।

 

মৃত্যুদণ্ডের রায়ের ৪ হাজার ৯১৫ দিন পর আবুল কালাম আযাদ আপিল করতে পারেন কি না, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে আগে। আদালতে আবেদনের পক্ষে আছেন সিনিয়র আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিক। প্রসিকিউশনের পক্ষে আছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

আপিলে আবুল কালাম আযাদ বিলম্ব মার্জনার পাশাপাশি আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সাজা স্থগিত চেয়েছেন।

 

পলাতক থাকা অবস্থায় ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সদস্য আবুল কালাম আযাদকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪১ বছর পরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এটি প্রথম রায় ছিল।

মুক্তিযুদ্ধের সময় ফরিদপুরের বিভিন্ন স্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল তার বিরুদ্ধে।

দীর্ঘ দিন পর চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেন।

তখন জানা যায়, আত্মসমর্পণ করে আপিলের শর্তে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবুল কালাম আযাদের সাজা স্থগিত করেছিলেন রাষ্ট্রপতি। এর ধারাবাহিকতায় তিনি ২১ জানুয়ারি আত্মসমর্পণ করেছেন। এরপর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আপিলের জন্য নথিপত্র সরবরাহের নির্দেশ দেন।

আদালতে আবুল কালাম আযাদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মশিউল আলম। তিনি ২১ জানুয়ারি জানিয়েছেন, ২০১৩ সালে এখান থেকে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছিল। দীর্ঘদিন পরে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতি তার সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করেছেন। সারেন্ডার করে আপিল ফাইল করার শর্তে। ২২ অক্টোবর এটি প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আজকে এসে আত্মসমর্পণ দিলাম। আদেশ দিলেন সারেন্ডার গ্রহণ করেছেন, আর ওনাকে আপিলের জন্য কাগজপত্র দেওয়া হোক। উনি যেভাবে আছেন থাকবেন। এরপর তিনি আপিল করেন।