Image description

জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন এলাকায় মো. পারভেজ মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় সাবেক রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।

এ সময় সাবেক রেলমন্ত্রী একটি মামলায় জামিনের পর নতুন করে আরেক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার দাবি জানান।

মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক মো. জাকির হোসেন গত ১৯ আগস্ট এই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। ওই দিন আদালত আসামির উপস্থিতিতে আজ রবিবার শুনানির দিন ধার্য করেন।

ওই আবেদনে বলা হয়, আসামি নূরুল ইসলাম সুজন এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বা অভিযুক্ত হওয়ায় তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো একান্ত প্রয়োজন। এদিন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশীদ আসামিকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী মোর্শেদ আলম শাহীন এর বিরোধিতা করেন।

শুনানির একপর্যায়ে কাঠগড়ায় দাঁড়ানো অবস্থায় আদালতের অনুমতি নিয়ে সাবেক রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘আমি পঞ্চগড় জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেছি। আমি সেখান থেকে নির্বাচিত এমপি।

আমার রাজনীতির ক্যারিয়ার ওখানেই। ওইখানে আমি ৪০ বছর ধরে অবস্থান করছি। সর্বশেষ আমি রেলমন্ত্রী হিসেবে ছিলাম। একটি মামলায় জামিন হলে আরেকটি মামলায় শ্যোন এরেস্ট দেখানো। কিসের ভিত্তিতে দেখানো হচ্ছে তা আপনার (বিচারক) বিবেচনা করা উচিত।

তবে এই সময়ে আপনি (বিচারক) বিবেচনা করতে পারবের কি না আমি জানি না, তবে এটা এখন মূল বিষয়। এই বিষয়ে উচ্চ আদালতেও অনেক সিদ্ধান্ত রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘কেউ দোষী হয়ে থাকলে অবশ্যই তার বিচার হবে। বর্তমান সরকার বড় বড় পদে থেকে মন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনেক ভালো ভালো কথা বলছেন। কিন্তু তার বাস্তব প্রয়োগ তো নেই।

এ জন্য এগুলোতে বলব, মামলায় দুই বছর হলো, এজাহারে নাম নেই, ফরোয়ার্ডিংও নেই। অথচ এই মামলায় আমাকে শ্যোন এরেস্ট দেখানো হলো। এই শ্যোন এরেস্টটি আদৌও হবে কি না, আপনি (বিচারক) কেস ডকেটটা একটু দেখবেন। যদি সত্যি হয়, তাহলে অবশ্যই আপনি (বিচারক) আদেশ দেবেন। তবে এই পর্যায়ে এসে আপনি আদেশ দিতে পারবেন কি না আমার জানা নেই।’ বিচারক শুনানি শেষে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই আন্দোলনে অংশ নেন মো. পারভেজ মিয়া। ওই দিন বিকেল ৫টায় আসামিদের ছোড়া গুলিতে তিনি আহত হন। প্রথমে মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা হয়।