জামায়াতে ইসলামীর নেতারা সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে এবং দলটির জোটসঙ্গী জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি) তা শিখে গেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) ও গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন।
বিরোধীদল গত ছয় মাসে কী কী গুজব, প্রপাগান্ডা ও ঘৃণা ছড়িয়েছে তারও মূল্যায়ন দরকার বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন।
রাশেদ খাঁন তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আযাদ বিএনপি সরকারের ৬ মাসে ৫১২ জন গুম হয়েছে বলে দাবি করেছেন। এই দাবির সময় নাহিদ ইসলামসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এই জঘন্য মিথ্যাচারের বিষয়ে কেউ কোনো টুঁশব্দ করেনি! জামায়াতের নেতারা ঠিক এভাবেই আত্মবিশ্বাসের সহিত মিথ্যা তথ্য প্রচার করেন। কিন্তু জামায়াতের মতো একটি ইসলামিক দলের নেতারা যদি টুপি খুলে মিথ্যা বলেন, সেটিও না হয় সহ্য করা যায়! কিন্তু কিভাবে তারা বিসমিল্লাহ বলে মিথ্যা শুরু করে? বলে বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী বলেন, নতুন বন্দোবস্তের দল এনসিপি জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে গিয়ে ঠিক এইরকম মিথ্যাচার শিখেছে। আজকে নাকি তারা সরকারের ১৮০ দিনের ব্যর্থতা সাংবাদিক সম্মেলন করে তুলে ধরবে! এনসিপি নেতাদের বক্তব্যও ঠিক হামিদুর রহমান আযাদের মতোই অপতথ্যে ভরপুর থাকে। এজন্যই মানুষজন বলা শুরু করেছে, আত্মবিশ্বাসের সহিত গুজব, মিথ্যা ও প্রপাগাণ্ডা প্রচারে জামায়াত- এনসিপির ইতোমধ্যে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
সবশেষে রাশেদ খাঁন উল্লেখ করেন, ‘হ্যাঁ, এজন্যই বলি, সরকারি দলের ১৮০ দিনের মূল্যায়ন যেমন দরকার। ঠিক বিরোধীদল ৬ মাসে কী কী গুজব, প্রপাগান্ডা ও ঘৃণা ছড়িয়েছে তারও মূল্যায়ন দরকার।’
সংবাদ সম্মেলনে যা বললো এনসিপি
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয় ক্লাবে পরিণত করেছে বিএনপি। গত ৬ মাসে ১৯ থেকে ২০ টি বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ১১টি সিটি করপোরেশন এবং ৬৩ জেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে দলীয় লোকদের। এসব জায়গায় মনোনয়ন বঞ্চিত এবং নির্বাচনে হেরে যাওয়া প্রার্থীদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে পরিণত করেছে বিএনপি।
সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর বাংলামোটরে দলটির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার আসার পরই ভয়াবহ জ্বালানি তেল সংকট শুরু হয়েছিল। সে সময় জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বাড়ানো হয়েছিল। এতে গণপরিবহন, সেচ, সারসহ সব খাতে প্রভাব পড়েছে। বর্তমানে গ্যাস চাহিদার ৪৩ শতাংশ ঘাটতি রয়েছে। ঢাকা শহরে চুলা জ্বলছে না। শিল্প কারখানার উৎপাদন কমেছে।
তিনি বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে ক্রয়াদেশ চলে যাচ্ছে। সরকার অঙ্গীকার করেছিল ক্ষমতাগ্রহণের দুই বছর বিদ্যুৎতের দাম বাড়াবে না। কিন্তু দুই মাসেই দাম বাড়ালো। এছাড়া লোডশেডিং, ভুতুড়ে বিল আসছে। ক্যাপাসিটি চার্জের বোঝা রয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে সময় একটা জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই সুপারিশ মানা হচ্ছে না। বর্তমানে কোনো সংকট হলে হয় ফ্যাসিস্ট নাহয় অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর দায় চাপানো হচ্ছে। অথচ এর চাইতে খারাপ পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়েছিল।
নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, ৬ মাসে ৮৩০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৬৭০টি বিএনপি ঘটিয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে এনসিপির নেতাকর্মীরা হামলার শিকার হয়েছেন। আমরা প্রথম থেকেই বলে আসছি-সরকার গণভোটের গণরায়কে প্রত্যাখ্যান করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।