Image description

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যমুনা নদীতে মোটা বালুর ব্যবসার অন্তরালে অবৈধভাবে ড্রেজিং, চর কেটে এবং স্তূপ করে রাখা বালু অবৈধভাবে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। এতে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রশাসনের ছত্রছায়ায় এ বালু বিক্রির মহোৎসব চলছে। উপজেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করলেও অদৃশ্য শক্তির বলে একদিন পার হতেই আবার চালু হয় এসব বালুমহাল। বালুমহাল নিয়ে তিন পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে জাগো নিউজ। আজ রয়েছে এর শেষ পর্ব।

নাম আব্দুস সাত্তার। তবে তিনি বালু মহালের জগতে ‘বালু সাত্তার’ বা ‘সাত্তার কমিশনার’ হিসেবে পরিচিত। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ১০নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন এই আব্দুস ছাত্তার। সে সুবাদে টাঙ্গাইল এবং সিরাজগঞ্জে তিনি গড়ে তোলেন কোটি কোটি টাকার বিশাল বালু সিন্ডিকেট। ২৪-এর আন্দোলনের পর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ঢাকার ভাটারা থানায় হত্যা মামলা হয় ছাত্তারের বিরুদ্ধে। এতে আত্মগোপনে চলে যান ছাত্তার। তবে বর্তমানে বিএনপির ছত্রছায়ায় পুনরায় বালুর ব্যবসা দখলে নেন। এখন তিনি টাঙ্গাইল এবং সিরাজগঞ্জে বিএনপির সহযোগিতায় অবৈধভাবে বালুর ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, যমুনা সেতুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এর উজান ও ভাটির নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে বালু উত্তোলন এবং ভারী বাল্কহেড চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে প্রশাসনের এই নিষেধাজ্ঞাকে তোয়াক্কা না করে ছাত্তারের সিন্ডিকেট যমুনার বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে।

এদিকে সাত্তারের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললেই তাকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হয়। স্থানীয় এক সাংবাদিক তার এবং পরিবারের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে গত ২৬ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ডাক যোগে আবেদন পাঠিয়েছেন।

 

‘বালু সাত্তার’ নামেই নিয়ন্ত্রিত সিন্ডিকেট

স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, পুরো বালু সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রক হিসেবে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত নাম হাজী ছাত্তার ওরফে ‘বালু সাত্তার’। অভিযোগ রয়েছে, বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ড্রেজার, বাল্কহেড ও পরিবহন ব্যবস্থার বড় অংশ তার নিয়ন্ত্রণে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে বলেও দাবি স্থানীয়দের। সম্প্রতি তিনি নিজেকে পৌর মেয়র প্রার্থী হিসেবেও প্রচার চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সাত্তারের রাজনৈতিক অবস্থানও পরিবর্তিত হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পদধারী হলেও বর্তমানে আবার বিএনপির পরিচয়ে সক্রিয় হয়েছেন তিনি। বালু মহালের এসব টাকা দিয়ে রিসোর্ট এবং একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি গড়ে তুলেছেন।

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও বালু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য কমেনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে আত্মগোপনে চলে যান আব্দুস সাত্তার। এরপর বালুর ব্যবসার ভাগ দিয়ে জেলা বিএনপির একটি অংশকে ম্যানেজ করে প্রকাশ্যে আসেন তিনি।

সরকারি বালু মহালের নামমাত্র ইজারার আড়ালে তারা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন। এর ফলে একদিকে যেমন টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিচ্ছে, অন্যদিকে যমুনা সেতু ও রেল সেতুর পিলারগুলো দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক কাঠামোগত ঝুঁকিতে পড়ছে।

যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিগত সময়ে যমুনা সেতুর পিলার অত্যন্ত শক্তিশালী হওয়ায় বাল্কহেডের ধাক্কার ফলে মূল কাঠামোর বড় কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে বার বার এমন ঘটনা ঘটলে যমুনা সেতু ও রেল সেতু ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়তে পারে।

সাত্তারের ‘বালু সাম্রাজ্য’

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি দলের নাম ভাঙিয়ে এবং স্থানীয় প্রশাসনের একাংশকে ‘ম্যানেজ’ করে আব্দুস সাত্তার যমুনা নদীতে এক বিশাল ‘বালু সাম্রাজ্য’ গড়ে তুলেছেন। সরকার নির্ধারিত দু-একটি বালু মহালের নামমাত্র ইজারার আড়ালে ড্রেজার ব্যবহার করে নদীর তলদেশের বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, বালু উত্তোলনের জন্য নির্দিষ্ট দাগ খতিয়ান দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে বালু উত্তোলনের সুযোগ নেই। এক জেলার বালু কিংবা মাটি উত্তোলনের ইজারা দিয়ে অন্য জেলায় পরিচালনা করার বিধান না থাকলেও জেলার ৫টি বালু মহালের মধ্যে ৪টি মহালে আব্দুস সাত্তার ব্যবসা করছেন।

চলতি বছরের ৩ এপ্রিল সিরাজগঞ্জের বালু মহালের ইজারাদার সাত্তারের লোকজন জোরপূর্বক মানিকগঞ্জের শিবালয়ে তেওতা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের মধ্যে ড্রেজার বসান ও জোর করে মাটি কাটার চেষ্টা করেন। এসময় স্থানীয় বাসিন্দারা বাধা দিলে তাদের ওপরে গুলি চালানো হয়। এসময় মিরাজ ও জাহাঙ্গীর নামে ২ জন গুলিবিদ্ধ হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মিরাজ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করে।

আব্দুস সাত্তার বিগত সময়ে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর ছিলেন। তিনি সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার ১০নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। ৫ আগস্টের পর তিনি পলাতক ছিলেন। তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ঢাকার ভাটারা থানায় ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর হত্যা মামলা রয়েছে। ওই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এক নম্বর আসামি করা হয়। এই মামলায় তিনি ৮৬ নম্বর আসামি।

এছাড়াও ২০১২ সালের ২ সেপ্টেম্বর বালুমহালের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে যমুনা নদীর চরে সাত্তার বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে খুন হন শ্রমিকলীগ নেতা নাসির উদ্দিন এবং তার শ্যালক টিক্কা। এ ঘটনায় আব্দুস সাত্তারকে প্রধান আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়। ওই সময় ছাত্তারের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে উত্তাল হয়ে উঠেছিলেন পরিবহন শ্রমিকরা। নাসির-টিক্কা হত্যার ঘটনার কিছুদিন পর গ্রেফতার হন ছাত্তার। বেশ কিছুদিন কারাবাসের পর জামিনে মুক্ত হন তিনি। যদিও পরবর্তীতে সমঝোতার মাধ্যমে মামলাটি নিষ্পত্তি হয়েছে বলে জানা গেছে।

জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের দায়ে ২০২৩ সালের মধ্যবর্তী সময়ে আব্দুস সাত্তার ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদক পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছেন। যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছেন।

বিপুল সম্পদ ও বিলাসবহুল রিসোর্টের মালিক সাত্তার

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কাদাই নামক স্থানে প্রায় ১৫ বিঘা জমিতে গড়ে তুলেছেন ফাইভ স্টার মানের ছোঁয়া রিসোর্ট। এছাড়া নিজ জেলা সিরাজগঞ্জ শহর ও ঢাকায় ৪ থেকে ৫টি বিলাসবহুল বাড়ি ও একশো থেকে দেড়শো বিঘা সম্পত্তি রয়েছে বলে জানা গেছে।

সিরাজগঞ্জ শহররক্ষা বাঁধের অভ্যন্তরে শত শত বিঘা সরকারের খাস জমি অবৈধভাবে জোরপূর্বক দখল করে বালুর স্তূপ ও ছোঁয়ামনি ডকইয়ার্ড নির্মাণ করেছেন আব্দুস সাত্তার। এতে বর্ষা মৌসুমে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে শহররক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে। প্রভাবশালী এই আওয়ামী লীগ নেতার ওপর সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির শীর্ষ একটি অংশের সমর্থন থাকায় কেউ কোনো প্রতিবাদ করতে পারছেনা।

হত্যা মামলার আসামি হয়েও ইজারাদার

চলতি বছর আব্দুস ছাত্তার মেসার্স এন্ড কনস্ট্রাকশন ইজারাদার হিসেবে বালুর নিলামে অংশ নেয়। ৫টি বালু মহালের মধ্যে ৪টিই আব্দুস ছাত্তার কিনে নেন। বালু মহালের ৫টির ইজারা মূল্য আসে ২৫ কোটি টাকা। প্রশ্ন উঠেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যা মামলার আসামি হয়েও কীভাবে তিনি বালুর মহালের ইজারা পান।

জেলা আইনশৃঙ্খলার কমিটিতেও সাত্তার

হত্যা মামলার আসামি হয়েও আব্দুস ছাত্তার সিরাজগঞ্জের জেলা আইনশৃঙ্খলার কমিটির সদস্য হয়েছেন। তিনি নিয়মিত আইনশৃঙ্খলার কমিটিতে অংশ নিচ্ছেন। যার ফলে জেলা জুড়ে সমালোচনা রয়েছে।

জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্যপদ মূলত নির্ধারিত হয় পদাধিকার বলে। অথবা মনোনীত ‘বিশিষ্ট নাগরিক’ বা ‘সুশীল সমাজের প্রতিনিধি’ ক্যাটাগরিতে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মনোনীত সদস্যদের অবশ্যই স্বনামধন্য, আইনমান্যকারী এবং সমাজে ইতিবাচক অবদানের জন্য গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হতে হবে। একজন হত্যা মামলার আসামি বা তালিকাভুক্ত অপরাধী আইনি ও নৈতিকভাবে এই যোগ্যতার শর্ত পূরণ করেন না। তারপরও কীভাবে তিনি আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য হলেন সেটা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।

এ প্রসঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সিরাজগঞ্জের সভাপতি মুনতাসির মেহেদী হাসান জাগো নিউজকে বলেন, যমুনা সেতুর নিচ দিয়ে বাল্কহেড যাওয়ার অনুমতি নেই। কিন্তু প্রতিদিন যাচ্ছে। প্রশাসন যদি এসব বিষয় না দেখে, তাহলে বিষয়টি অন্য রকম। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেখেও না দেখার ভান করছে।

তিনি প্রশ্ন করেন, একজন হত্যা মামলা আসামি কীভাবে জেলার আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য হলেন? তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী এবং বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কীভাবে প্রোগ্রাম করছেন?

ভূঞাপুরের বিএনপির এক নেতা স্বীকার করেছেন আব্দুস ছাত্তারের সঙ্গে বালু ব্যবসায় জড়িত থাকার কথা। ওই বিএনপি নেতার মতে ৫ আগস্টের পর ছাত্তারের সঙ্গে তাদের ব্যবসা শুরু হয়।

তিনি বলেন, বালুর মূল ব্যবসা হয় সিরাজগঞ্জ থেকে। মামলা নিয়ে সিরাজগঞ্জের বিএনপি নেতাদের যদি মাথাব্যথা না থাকে, তাহলে আমাদের থাকারও কারণ নেই। সিরাজগঞ্জের বিএনপি নেতারা তার সঙ্গে পার্টনার হয়েছেন, এখন তো আওয়ামী লীগ নেই। একটি অংশে আমাদের দেয়, অপরপাশে সিরাজগঞ্জের লোকজনরা একটি অংশ নেয়।

নিষিদ্ধ সীমানায় বেপরোয়া চলাচল

সেতু রক্ষণাবেক্ষণ কর্তৃপক্ষ ও নৌ পুলিশের কঠোর নির্দেশনা অনুযায়ী, যমুনা সেতু ও এর পাশে রেল সেতুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উজান ও ভাটির নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে সব ধরনের বালু উত্তোলন, ড্রেজার স্থাপন এবং ভারী বাল্কহেড চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে প্রশাসনের এই নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ছাত্তারের সিন্ডিকেটের প্রতিদিন শত শত বাল্কহেড চলাচল করছে। একইসঙ্গে বর্ষার সময় ড্রেজার বসিয়ে চলে বালু উত্তোলন, অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে যমুনা সেতুর চর কেটে মাটি উত্তোলন করা হয়।

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. এএসএম সাইফুল্লাহ জাগো নিউজকে বলেন, যেভাবে বালু উত্তোলন হচ্ছে, বাংলাদেশে তার নিয়ম নেই। সেতুর কাছাকাছি বালু উত্তোলন হলে তা হুমকির মুখে পড়বে। এতে নদীর স্বাভাবিক গতি পরিবর্তন হবেই। পানি প্রবাহ পরিবর্তন হলেই গতি পরিবর্তন হয়। ড্রেজিং এক জিনিস, বালু উত্তোলন আরেক জিনিস। বালু উত্তোলন হলে তা গর্ত হয়ে নদীর তলদেশের স্থায়িত্ব নষ্ট করে ফেলে। এর ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) বিভাগীয় সমন্বয়কারী গৌতম চন্দ্র চন্দ জাগো নিউজকে বলেন, বাল্কহেড নিয়ে বালু চলাচল নিষিদ্ধ। এর জন্য স্থানীয় প্রশাসনই যথেষ্ট। তারা ইচ্ছা করলে এটি বন্ধ করতে পারে। কিন্তু তারা কিছু সুবিধা নিয়ে এটি চালু করার জন্য অনুমতি দেয়।

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, যমুনা সেতুর ৬ কিলোমিটার আশপাশের উজান এবং ভাটিতে কেউ বালু উত্তোলন করতে পারবেন না। অবৈধ কোনো কিছু যাচ্ছে কি না তা দুই পাশের নৌ পুলিশের দেখার দায়িত্ব। বালুর ঘাটগুলোতে আমরা গিয়ে সতর্ক করে এসেছি। তবুও যদি বালু উত্তোলন করে তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে আব্দুস ছাত্তারের মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হলে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে তার বক্তব্য চাওয়া হয়। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘একটি মিটিংয়ে রয়েছি, পরে আপনার সঙ্গে কথা বলছি। পরে তার বক্তব্যের জন্য ফোন দেওয়া হলেও তাকে আর পাওয়া যায়নি।’

এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নুর নাহার বেগম জাগো নিউজকে বলেন, বালু মহাল যখন প্রতিষ্ঠা হয়েছিল, তখন হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ করা হয়েছিল। বিগত সময়ে হাইড্রোগ্রাফিফ হয়েছে কি না তার নথি চাইলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বছর হাইড্রোগ্রাফিক করা হয়নি। হাইড্রোগ্রাফিক করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, বালু মহলের আইনে যদি কোনো ব্যত্যয় হয়, তাহলে তার ইজারা বাতিল হবে। সুস্পষ্ট অভিযোগ এলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হত্যা মামলার আসামি হয়েও সাত্তার জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য কীভাবে হলেন এমন প্রশ্নে সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর ‘কনসার্ন’ নিয়ে আমরা কমিটি করেছি। আপনি তার সঙ্গে কথা বলেন।