রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। সোমবার (১০ আগস্ট) জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি নির্বাচনি কর্তার দপ্তর থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে।
এর আগে, গতকাল রোববার রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের জন্য কর্নেল অলি আহমদের নাম ঘোষণা করে ১১ দলীয় ঐক্য।
এর আগে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হিসেবে এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে (বীরবিক্রম) ঘোষণা করে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। রোববার (০৯ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে জোট শরিকদের সঙ্গে বৈঠক এই সিদ্ধান্ত হয়। জামায়াতের আমিরের সভাপতিত্বে বৈঠকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, জাগপা সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
কর্নেল অলি আহমদ সাবেক মন্ত্রী ও ৬ বারের সংসদ সদস্য। ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত থাকা অবস্থায় তিনি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি জেড ফোর্সের অধীনে যুদ্ধ করেন। স্বাধীনতার পর সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেন অলি আহমদ। এরপর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন তিনি।
বিএনপির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার পাশাপাশি দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামেও সদস্য ছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে বিএনপির অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া এবং চারদলীয় জোটে জামায়াতে ইসলামীর প্রভাব নিয়ে অলি আহমদের সঙ্গে দলের নেতৃত্বের মতপার্থক্য তৈরি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৬ সালের অক্টোবরে বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।
পরে বদরুদ্দোজা চৌধুরীসহ ৩২ জন মন্ত্রী-এমপিকে নিয়ে ‘লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)’ গঠন করেন তিনি। পরবর্তীতে এলডিপি রাজনীতিতে সেভাবে সাড়া ফেলতে না পারলে ২০১২ সালে আবারও বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হন অলি আহমদ; কিন্তু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াতের জোটে যোগ দেন। এবং এই জোটের পক্ষ থেকে তাকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করা হয়েছে।
এক প্রতিক্রিয়ায় অলি আহমদ বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এবং পরীক্ষিত একজন লোক, যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ নেই, শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো অভিযোগ নাই, সুন্দরভাবে জীবনযাপন করেছি বিধায় সবাই সর্বসম্মতিক্রমে আমার নাম প্রস্তাব করেছে। তিনি জাতি, ১১–দলীয় ঐক্যজোট ও সব নেতাকর্মীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণই একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। গণতন্ত্রের জন্যও এই প্রক্রিয়া প্রতিযোগিতামূলক ও অংশগ্রহণমূলক হওয়া উচিত। আমরা জাতিকে বলতে চাই—আমরা আমাদের জায়গা থেকে এই জাতির সঙ্গে কখনো বেইমানি করব না। আমরা জনগণের পাশে সবসময় তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য দাঁড়াব।’
সংবাদ সম্মেলনে যোগ দিয়ে প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, ‘গণতন্ত্রের সৌন্দর্যের জন্য প্রার্থী দেওয়াকে দায়িত্ব হিসেবে আমরা নিয়েছি। আমরা মনে করি যে সর্বক্ষেত্রে রাজনীতি স্বচ্ছ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হওয়া উচিত। তাহলে গণতন্ত্রের গতি ফিরে আসবে।
শীর্ষনিউজ