Image description

আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, তিতুমীরের মতো বাঁশ নিয়ে প্রস্তুত থাকুন। যদি কেউ কেল্লা দখল করতে আসে, তবে প্রশাসনের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করতে হবে।

বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে জয়পুরহাট শহরের শহীদ ডা. আবুল কাসেম ময়দানে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মুজিব সংবিধানের পাহারাদার না হয়ে সরকারকে জনগণের সংবিধানের পাহারাদার হওয়ার আহ্বান জানান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আপনার গাড়িতে করে সীমান্ত দিয়ে মাদক ঢুকছে। সংসদে আপনি আইন পাস করছেন তাদের মৃত্যুদণ্ড, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাজা করা হয়েছে। তাহলে যারা আজ আপনার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গাড়িতে করে মাদক নিয়ে, ইয়াবা নিয়ে ধরা খেলো তাদের বিষয়ে আপনার সুস্পষ্ট আমরা বক্তব্য চাই। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের টিকিট এবং গাড়ি ব্যবহার করে কীভাবে কক্সবাজার দিয়ে বাংলাদেশে ইয়াবা ঢোকে সেই প্রশ্ন আমরা তাদের কাছে রেখে যেতে চাই।

ইসলামী ব্যাংক ও আদ্-দ্বীন হাসপাতাল দখলের প্রচেষ্টা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দখলের চিন্তা বাদ দিয়ে নিজের সামর্থ্যে কিছু গড়ুন। ডাকাতি করতে এলে ডাকাতদের সঙ্গে শক্ত লড়াই হবে। এছাড়া নতুন বাংলাদেশ গঠনে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, মাদক চোরাচালান বন্ধ এবং ব্যবসায়ী ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এই পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনে হাজারবার ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলতেও রাজি।

 

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম চিকিৎসা খাত নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেছেন বিশেষ দেশকে অর্থাৎ ভারতকে সুবিধা দেওয়ার জন্য ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশের চিকিৎসা খাত। তার এই বক্তব্যের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করছি এবং ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তবে আমরা শুধু কথায় নয়, কাজের মিল দেখতে চাই।

সারজিস আলম আরও বলেন, হাসপাতালগুলোতে রাজনৈতিক নেতাগিরি, ওষুধ-খাবারের টেন্ডারবাজি বন্ধ করতে হবে। যেদিন থেকে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে মন্ত্রী-এমপিরা বাংলাদেশের সরকারি হাসপাতালেই চিকিৎসা নেবেন, সেদিনই আমরা বুঝবো আপনি (প্রধানমন্ত্রী) সত্য বলছেন।

প্রশাসনের পা-চাটা নীতির সমালোচনা সারজিস আলম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, নাহিদ ইসলামের প্রোগ্রামে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না, অথচ একই সময়ে সালাউদ্দিন আহমেদের প্রোগ্রামে কোনও সমস্যা হয় না। এটা বিএনপি সরকারের বাংলাদেশ।

তিনি প্রশাসনের কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। আওয়ামী লীগের আমলের নীল দলের মতো বর্তমান সাদা দলের শিক্ষকরাও ক্ষমতার দালালি করছেন। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আপনারা জনগণের ক্ষোভের মুখে পড়বেন। দয়া করে ব্যক্তিত্ব বজায় রাখুন, দলের দাসত্ব পরিহার করুন।

জয়পুরহাট জেলা এনসিপির আহ্বায়ক গোলাম কিবরিয়া তাপসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন– এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব সাঈদ মোস্তাফিজ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন, জেলা সদস্য সচিব ফিরোজ আলমগীরসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।